Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

মাসদাইর এখনো অপরাধীদের ‘স্বর্গরাজ্য’

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

মাসদাইর এখনো অপরাধীদের ‘স্বর্গরাজ্য’

মাসদাইর এখনো অপরাধীদের ‘স্বর্গরাজ্য’

Swapno



মাদক, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হত্যা, প্রশাসনকে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা এসকল প্রভৃতির ঘটনা ঘটলেই সকলের মুখেই মাসদাইর এলাকার নামটি উঠে আসে। মাদকারবারী ও কিশোর গ্যাংদের দেশীয় অস্ত্রের ঝনঝনানিতে প্রতিনিয়ত আতঙ্কে বিরাজ করে মাসদাইর এলাকায়। এছাড়া পান থেকে চুন খসলেই মাসদাইরে ঘটছে হত্যাকাণ্ড মিলছে না হত্যার বিচার, আসামীরা জামিনে ফিরেই ফের করছে হত্যাকাণ্ড। অপরদিকে আসামীরা বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে হত্যা মামলা থেকেও বিভিন্ন ভাবে রেহাইয়ের পায়তারা করেন। 


সূত্র বলছে, মাসদাইরে ছিনতাইকারী আখ্যা দিয়ে সিজান (২৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৪/১৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত সিজানের মা শিল্পী বেগম (৪৪) বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন পশ্চিম মাসদাইরের খলিলের মোড় এলাকার আল ফালাহ জামে মসজিদের ইমাম মো. কাউছার আহমেদ কাশেমী (৪০), আব্দুল গনি হুজুর (৫০), আজহার রাজমিস্ত্রী (৫৫), সাইদুল (৪২), আলম (৩৪) ও জিলানী ফকির (৫৫)।


এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১৪/১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সিজান একসময় অসৎ সঙ্গের কারণে বিপথগামী হয়ে পড়লেও পরে সুস্থ জীবনে ফিরে আসার চেষ্টা করেন। তিনি তাবলিগ জামাতে অংশ নেওয়ার পর বড় ভাইয়ের কাঁচামালের ব্যবসায় সহযোগিতা করতেন। গত শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল ৪টায় অনিক নামে এক ব্যক্তিকে মোবাইল চোর সন্দেহে আটক করা হয়।


জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে অনিক সিজানের নাম বললে আসামি আলম সহ আল ফালাহ সমাজকল্যাণ সংঘের কয়েকজন সদস্য সিজানকে তার বাসার সামনে থেকে খলিলের মোড়ে নিয়ে যান। এজাহারে আরও বলা হয়, সেখানে সিজান ও অনিককে আল ফালাহ সমাজকল্যাণ সংঘের পাশে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে চোখ-মুখ কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে স্টিলের পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়। এতে জিসানের ডান পায়ের হাঁটুর নিচের হাড় ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। রাত ৭টার দিকে অভিযুক্তরা সিজানকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়। পরে তাকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ৮টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


মাসদাইরে বিকাশ ব্যবসায়ী মো. মোতালেব হোসেন (৬১) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনার মূলহোতা জাকিরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি অটোরিকশা, নিহতের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ক্যাশ আউট করা ৮৬ হাজার টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন এবং নিহতের ব্যবহৃত একটি টিফিন বক্স উদ্ধার করা হয়েছে।



শুক্রবার (৩ জুলাই) ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাতে বন্দরের সেলসারদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে একই দিন সকালে ফতুল্লার মাসদাইর এলাকার জামতলা হাজী ব্রাদার্স রোডের এমপি গলি-সংলগ্ন সড়কের পাশ থেকে লেপ-তোশকে মোড়ানো অবস্থায় মোতালেব হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত মোতালেব হোসেন লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা।


দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফতুল্লার মাসদাইর গোরস্থান এলাকায় ফারুক মিয়ার জাজিরা টাওয়ারের ষষ্ঠ তলায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। মাসদাইর বাজারে একটি লাইব্রেরির পাশাপাশি বিকাশ এজেন্টের ব্যবসা পরিচালনা করতেন তিনি। পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের পরপরই ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করা হয়। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করা হয়।


তদন্তে দেখা যায়, ঘটনার আগে জাকির মোতালেব হোসেনের কাঁধে হাত রেখে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে হাঁটতে তাকে নিজের বাসার দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। ওই সূত্র ধরে মাসদাইর রোকেয়া স্কুলসংলগ্ন জাকিরের বাসায় অভিযান চালিয়ে নিহতের ব্যবহৃত একটি টিফিন বক্স উদ্ধার করা হয়। পরে মাসদাইর এলাকা থেকে ওমর ফারুক (২২) ও সোহেল (৪৯) নামে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।


পরবর্তীতে এসআই কাজী শামীম ও এসআই রফিকুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বন্দর থানার সেলসারদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি জাকিরকে গ্রেপ্তার করেন। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাকির হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকাল ৮টা থেকে তিনি রাস্তায় অপেক্ষা করছিলেন। সাড়ে ৮টার দিকে কৌশলে মোতালেবকে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান।


সেখানে তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ৮৬ হাজার টাকা ক্যাশ আউট করা হয়। পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর গভীর রাতে মরদেহ লেপ-তোশকে পেঁচিয়ে একটি অটোরিকশায় করে মাসদাইরের জামতলা হাজী ব্রাদার্স রোডের এমপি গলি-সংলগ্ন সড়কের পাশে ফেলে রেখে আসা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে সুমনা আক্তার মিম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।


অপরদিকে মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে মাসদাইরের বোয়ালিয়া খাল এলাকায় র‌্যাব-১১ এর একটি গোয়েন্দা দল তথ্য সংগ্রহের কাজ করছিলেন। সেসময় স্থানীয় মাদক চোরাকারবারিরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে আহত হন র‌্যাব-১১ এর কর্পোরাল নাজিবুল, কনস্টেবল মাহি ও ইব্রাহিম। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত নাজিবুল ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাজ্জাদ হোসেন বলেন, র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক চোরাকারবারিরা সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালায়। ঘটনার পর বিপুল সংখ্যক র‌্যাব ও পুলিশের সদস্যরা আশপাশের এলাকাতে অভিযান চালান।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন