মাসদাইর এখনো অপরাধীদের ‘স্বর্গরাজ্য’
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
মাসদাইর এখনো অপরাধীদের ‘স্বর্গরাজ্য’
মাদক, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হত্যা, প্রশাসনকে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা এসকল প্রভৃতির ঘটনা ঘটলেই সকলের মুখেই মাসদাইর এলাকার নামটি উঠে আসে। মাদকারবারী ও কিশোর গ্যাংদের দেশীয় অস্ত্রের ঝনঝনানিতে প্রতিনিয়ত আতঙ্কে বিরাজ করে মাসদাইর এলাকায়। এছাড়া পান থেকে চুন খসলেই মাসদাইরে ঘটছে হত্যাকাণ্ড মিলছে না হত্যার বিচার, আসামীরা জামিনে ফিরেই ফের করছে হত্যাকাণ্ড। অপরদিকে আসামীরা বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে হত্যা মামলা থেকেও বিভিন্ন ভাবে রেহাইয়ের পায়তারা করেন।
এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১৪/১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সিজান একসময় অসৎ সঙ্গের কারণে বিপথগামী হয়ে পড়লেও পরে সুস্থ জীবনে ফিরে আসার চেষ্টা করেন। তিনি তাবলিগ জামাতে অংশ নেওয়ার পর বড় ভাইয়ের কাঁচামালের ব্যবসায় সহযোগিতা করতেন। গত শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল ৪টায় অনিক নামে এক ব্যক্তিকে মোবাইল চোর সন্দেহে আটক করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে অনিক সিজানের নাম বললে আসামি আলম সহ আল ফালাহ সমাজকল্যাণ সংঘের কয়েকজন সদস্য সিজানকে তার বাসার সামনে থেকে খলিলের মোড়ে নিয়ে যান। এজাহারে আরও বলা হয়, সেখানে সিজান ও অনিককে আল ফালাহ সমাজকল্যাণ সংঘের পাশে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে চোখ-মুখ কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে স্টিলের পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়। এতে জিসানের ডান পায়ের হাঁটুর নিচের হাড় ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। রাত ৭টার দিকে অভিযুক্তরা সিজানকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়। পরে তাকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ৮টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফতুল্লার মাসদাইর গোরস্থান এলাকায় ফারুক মিয়ার জাজিরা টাওয়ারের ষষ্ঠ তলায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। মাসদাইর বাজারে একটি লাইব্রেরির পাশাপাশি বিকাশ এজেন্টের ব্যবসা পরিচালনা করতেন তিনি। পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের পরপরই ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করা হয়। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করা হয়।
তদন্তে দেখা যায়, ঘটনার আগে জাকির মোতালেব হোসেনের কাঁধে হাত রেখে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে হাঁটতে তাকে নিজের বাসার দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। ওই সূত্র ধরে মাসদাইর রোকেয়া স্কুলসংলগ্ন জাকিরের বাসায় অভিযান চালিয়ে নিহতের ব্যবহৃত একটি টিফিন বক্স উদ্ধার করা হয়। পরে মাসদাইর এলাকা থেকে ওমর ফারুক (২২) ও সোহেল (৪৯) নামে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সেখানে তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ৮৬ হাজার টাকা ক্যাশ আউট করা হয়। পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর গভীর রাতে মরদেহ লেপ-তোশকে পেঁচিয়ে একটি অটোরিকশায় করে মাসদাইরের জামতলা হাজী ব্রাদার্স রোডের এমপি গলি-সংলগ্ন সড়কের পাশে ফেলে রেখে আসা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে সুমনা আক্তার মিম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
অপরদিকে মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে মাসদাইরের বোয়ালিয়া খাল এলাকায় র্যাব-১১ এর একটি গোয়েন্দা দল তথ্য সংগ্রহের কাজ করছিলেন। সেসময় স্থানীয় মাদক চোরাকারবারিরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে আহত হন র্যাব-১১ এর কর্পোরাল নাজিবুল, কনস্টেবল মাহি ও ইব্রাহিম। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত নাজিবুল ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাজ্জাদ হোসেন বলেন, র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক চোরাকারবারিরা সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালায়। ঘটনার পর বিপুল সংখ্যক র্যাব ও পুলিশের সদস্যরা আশপাশের এলাকাতে অভিযান চালান।


