মাসদাইরে অপকর্মের নেপথ্যে কারা
নারায়ণগঞ্জে মাদক বিরোধী অভিযানে গডফাদার ও মাফিয়াদের গ্রেফতার না হওয়ার পেছনে মূল কারণ হলো রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা, ক্রুটিপূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া এবং তাদের শক্তিশালী গোপন নেটওয়ার্ক। এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নারায়ণগঞ্জের ২০টি মাদকের বড় স্পটের কথা ক্ষমতায় আসার আগে বললে ও তা এখন প্রায় ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। ইতিমধ্যে ফতুল্লার মাসদাইর এখন আর সাধারণ মানুষের এলাকা নয় এটি কার্যত সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও ভূমিদস্যুদের দখলে চলে গেছে।
বিশেষ করে মাসদাইর যেন আইনের বাইরে এক আলাদা রাষ্ট্র, যেখানে প্রশাসনের উপস্থিতি কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। বাস্তবে চলে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নির্দেশ" তাদের কথাই যেন আইন চট্টগ্রামের আলোচিত 'জঙ্গল সলিমপুর'-এর সঙ্গে এখন সরাসরি তুলনা টানা হচ্ছে মাসদাইরের। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালাতে গেলে উল্টো হামলার শিকার হচ্ছে, গুলির মুখে পড়ছে। প্রকাশ্যে মানুষ পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে, আর পরে তা ধামাচাপা দিতে চলছে নানা নাটক।
শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত ফতুল্লার মাসদাইর এখন অপরাধের অভয়ারণ্যে পরিণত। কিশোর গ্যাংয়ের বেপরোয়া তাণ্ডব, মানকের অব্যব বিস্তার, জমি দখলের উন্মাদ প্রতিযোগিতা সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষ কার্যত জিম্মি। এই মাসদাইরে শুধু মাদক ব্যবসা নয় চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, মাদক ও ইন্টারনেট-ক্যাবল ব্যবসা নিয়ে অপরাধীদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকেও। গত দুই বছরে মাসদাইরের বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের ধরতে গিয়ে একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা। সব মিলিয়ে এখন মাসদাইর যেন হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামের সেই ভয়ঙ্কর জঙ্গল সলিমপুর। যেখানে অপরাধীদের বাহিরে অন্য কারো কিছুই চলেনা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহত্তর মাসদাইরে বর্তমানে তিনটি সন্ত্রাসী গ্রুপ মাদক ব্যবসার নেপথ্যে সক্রিয় রয়েছে। মাদকের সরবরাহ থেকে শুরু করে বিক্রি; সবই নিয়ন্ত্রণ করে এই তিন চক্র। এলাকাভিত্তিক ভাগ করে নিজেদের কারবার পরিচালনা করেন তাদের প্রধানরা। ফারিয়ার মোড়, গাইবান্ধা বাজার, ঘোষেরবাগ, লিচুবাগ ও গলাচিপার কিছু অংশে মাদক বিক্রির নিয়ন্ত্রণ জাহিদের হাতে।
মাসদাইর বাজার, বেগম রোকেয়া স্কুলের মোড় ও ছোট কবরস্থান এলাকায় মাদকের বড় ডিলার কসাই সেলিম। আর গুদারাঘাট, হাজীর মাঠ ও মিস্ত্রীবাগ এলাকা রয়েছে সাঁঝবর ওরফে চশমা সাঁঝবরের দখলে। তবে সম্প্রতি চাঁদাবাজির মামলায় আদালতে জামিন চাইতে গিয়ে গ্রেফতার হন চশমা সাঁঝবর। মাদক ও চাঁদাবাজির পাশাপাশি ইন্টারনেট ও ক্যাবল ব্যবসার আধিপত্য নিয়েও এলাকায় প্রতিনিয়ত সংঘাত লেগেই থাকে।
মামলা হলে ও ইমন হত্যা মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে বাদীর বাসায় ঢুকে কুপিয়ে, গুলি ছুড়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়। এতে স্পষ্ট এলাকায় আইন নেই, আছে শুধু সন্ত্রাসীদের শাসন। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী অভিযান দিলে ও রাগবোয়াল ধরতে ব্যর্থ হয়ে পরছেন। যাকে ঘিরে অপকর্ম শেষ হচ্ছে না। বর্তমানে মাসদাইরকে ভয়ঙ্কর রূপে পরিণত করতে পেছনে কারা শেল্টার দিচ্ছেন অপকর্মকারীদের সেটা তদন্ত করে বেড় করলেই অপকর্ম কমানো সম্ভব হবে বলে ধারণা করছে নগরবাসী। তা ছাড়া এই মাসদাইর নারায়ণগঞ্জ-৪ সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিনের অন্তভুক্ত আসন হলেও তিনি এই মাসদাইরের ক্ষেত্রে কেন নিশ্চুপ এমন প্রশ্ন উড়ছে।


