ফতুল্লার বিষাক্ত রঙমিশ্রিত ডাইংয়ের পানি সরাসরি বুড়িগঙ্গায়
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
ফতুল্লার বিষাক্ত রঙমিশ্রিত ডাইংয়ের পানি সরাসরি বুড়িগঙ্গায়
# পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য চরম হুমকির মুখে, ব্যবস্থা নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের
ফতুল্লার ডাইং কারখানাগুলোর অপরিশোধিত বর্জ্য ও কেমিক্যাল বুড়িগঙ্গা নদীকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। কলকারখানার বিষাক্ত রঙমিশ্রিত পানি কোনো প্রকার শোধন ছাড়াই সরাসরি বা ড্রেনের মাধ্যমে নদীতে মিশে এর পানি বিষিয়ে তুলছে। এর ফলে নদীর বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হচ্ছে এবং এলাকার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য চরম হুমকির মুখে পড়ছে। এক সময় এই বুড়িগঙ্গা নদীর পানি পরিস্কার টলমল থাকলেও ডাইংগুলোর বিষাক্ত পানির কারণে এখন আরেক বুড়িগঙ্গার পানিতে কেউ নামতে চায় না। কারণ এই বুড়িগঙ্গা মারাত্মক বিষাক্ত পানিতে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিন ফতুল্লা বাজারের পিছনে গিয়ে দেখা যায়, বাজারের পিছনের অংশে ঘাটলার পাড়েই রয়েছে বাজারের দৈনন্দিন অবশিষ্ট বর্জ্যেগুলো সিড়ির পাশেই স্তুপ করে রাখা হয়েছে। আবার ফতুল্লা বাজারে প্রতিদিন যে ক’টি গরু কিংবা খাসি জবাই করা হচ্ছে তার বর্জ্যেগুলোও সরাসরি বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলা হচ্ছে। যার ফলে কলকারখানার রংমিশ্রিত পানির পাশাপাশি বাজারের অবশিষ্ট ময়লাগুলো একত্রিত হয়ে পুরো নদীর পানিকে দূষিত করে ফেলছে। নদীর পাড় দিয়ে হাঁটতে আসা মানুষগুলোকে নাকে রুমাল ব্যবহার করাটা বাধ্যতামুলক করে তুলেছেন মানুষরুপী ঐ সকল অমানুষগুলো।
ফতুল্লায়র বেশিরভাগ ডাইং ও ওয়াশিং কারখানা পরিবেশগত ছাড়পত্র, ইটিপি প্ল্যান্ট এবং সরকারি আইন না মেনেই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নিয়ম লঙ্ঘন করায় এসব কারখানার অবৈধ গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও জরিমানা করা হলেও তাতে কোন লাভ হচ্ছেনা।
সূত্র জানিয়েছে, ফতুল্লায় প্রায় অর্থ শতাধিক এর বেশি ডাইং কারখানা থাকলেও বেশিরভাগ ডাইংগুলো কোন ধরণের নিয়মের তোয়াক্কা না করেই চালাচ্ছে কারখানাগুলো। আবার অনেকেই ইটিপি প্ল্যান্ট না করেই তাদের কারখানার রঙিন পানি সরাসরি বুড়িগঙ্গকে দূষিত করছে।
এ বিষয় ফতুল্লার বাসিন্দা জব্বার জানান, এক সময় এই বুড়িগঙ্গা নদীতে উপযোগী থাকলেও এখনকার দূষিত এবং বিষাক্ত হয়ে গেছে। বিভিন্ন কলকারখানার বিষাক্ত পানি সরাসরি বুড়িগঙ্গায় যাচ্ছে। আমরা চাই এর একটা সুষ্ঠু সমাধান যাতে করে আবারও বুড়িগঙ্গা সেই পুরনো রূপে ফিরে আসতে পারে। অন্যদিকে এ সকল অভিযোগে তথ্য পরিবেশ অধিদপ্তরে থাকলেও তারা এ সকল অবৈধ ডাইংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না। যার কারণে দিন দিন বেড়েই চলছে এ ধরণের অবৈধ ডাংইগুলো।


