এমপি পুত্র সজীবের কুকীর্তি দেশবাসীর মুখে মুখে
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
এমপি পুত্র সজীবের কুকীর্তি দেশবাসীর মুখে মুখে
চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক, বহিস্কার, মুচেলকায় মুক্তি এমন ঘটনায় এমপি মান্নান পুত্র খাইরুল ইসলাম সজীব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে “টক অব দ্যা কান্ট্রিতে” পরিণত হয়েছে। বাবার সাংসদীয় এলাকার নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত তিনি। এদিকে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর পরপরই চাঁদাবাজির বেশ কয়েকটি অভিযোগ তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহবায়কের পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় যুবদল। তবে এমপিপুত্র সজীবের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ ছিল আগে থেকেই। প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণে স্থানীয়রা কখনোই তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস করেনি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন যুবদল নেতা খায়রুল ইসলাম সজীব জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ২০২৬ এর (১২ ফেব্রুয়ারী) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আজহারুল ইসলাম নির্বাচিত হওয়ার পর আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন সজীব। কিন্ত তিনি আটকের পরপরই উঠে আসছে তার বিরুদ্ধে জমে থাকা অভিযোগগুলো।
ইতিমধ্যে জাতীয় ও লোকাল সংবাদপত্রগুলোতে নিয়মিত উঠে আসছে সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় সজীবের অপকর্মের চিত্র। এদিকে র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে ৬৫০ জন শীর্ষ চাঁদাবাজের তালিকায় নারায়ণগঞ্জের ১১০ থেকে ১৫০ জন রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযান চালানোর কথাও ছিলো সেই তালিকায় এমপিপুত্র সজীব ছিলেন কিনা তা নিয়ে উঠছে আলোচনা। তা ছাড়া এর বাহিরে ও এই তালিকায় এমন রাগবোয়াল আরো কতজন রয়েছে তা নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন। এদিকে বর্তমান নারায়ণগঞ্জ জেলায় চাঁদাবাজির আলোচনা শুরু হলেও উঠে আসছে বহিস্কৃত মান্নানপুত্র সজীবের নাম।
যেখানে নারায়ণগঞ্জের ৫টি সংসদীর এলাকার এমপির ছবি টানানো ছিল। পরে এনিয়ে বিতর্ক উঠলে কেন্দ্রের নির্দেশে ২০ জুন আবার জেলা বিএনপির সাইনবোর্ড সাটানো হয়। সোনারগাঁওয়ের স্থানীয়রা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর এমপি মান্নানের পুত্র সোনারগাঁওয়ের মেঘনা টোল প্লাজায় ৩০ লাখ টাকা লুটপাটের মধ্যে দিয়েই তাদের অপকর্ম শুরু করেন। পরবর্তীতে নানা অভিযোগ উঠে সজীবের বিরুদ্ধে। সোনারগাঁয়ে ৪৩ টি বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির মহোৎসব গড়ে তোলেন সজিবের ক্যাডার বাহিনী।
স্থানীয়রা জানান, তৎকালীন সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি বর্তমান এমপি মান্নানের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে ছেলে সজিবই সিদ্ধিরগঞ্জ-সোনারগাঁয়ের সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ করেন একটি বিশাল সিন্ডিকেট নিয়ে। মান্নানের শেল্টারে শুধু তার ছেলের বিভিন্ন খাত থেকে মাসে আয় কোটি কোটি টাকা। এই বিশাল সিন্ডিকেটের অপকর্মের বিরুদ্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে একের পর এক অভিযোগ ওঠে। এছাড়া সোনারগাঁয়ে ৫ আগস্টের পর থেকে মেঘনা নদীতে পলিথিন জাকিরের নৌপথের চাঁদাবাজি একাই নিয়ন্ত্রণ করেন সজিব। ২০২৪ এর ৫ আগস্টের সোনারগাঁওয়ের প্রতিটি ইউনিয়নের মেম্বারদের বিশাল অর্থের বিনিময়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার নেপথ্যে ছিলেন যুবদল নেতা সজিব।
তাঁর নিজ এলাকার পিরোজপুর ইউনিয়নের মমতাজ মেম্বারের বাড়ি দখল করে নিজেদের সম্পত্তি দাবি করে। পরে এনিয়ে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন মমতাজ। পরে হুমকি-ধমকি দিয়ে তাকে চুপ করানো হয়। সজীবের এসব কাজে বাহিনীর মূলক নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করেন বিএম ডালিম, মাসুম বিল্লাহ, পিএস সেলিম হোসেন দিপু, গোলজার হোসেন। নির্বাচনের পর সিদ্ধিরগঞ্জ অংশে এককভাবে ট্রাকস্ট্যান্ড, ট্যাক্সিস্ট্যান্ড, বাস টার্মিনাল, কাঁচপুর ল্যান্ডিং স্টেশন, আদমজী ইপিজেড, পদ্ম-মেঘনা তেলের ডিপো, সাইলো সব কিছুর নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন সজীব। এদিকে এমন নানান অভিযোগে ও মুচলেকায় মুক্তি পান সজীব। যা নিয়ে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে নারায়ণগঞ্জ জুড়েই। কিন্তু বর্তমানে সজীব নারায়ণগঞ্জে চাঁদাবাজির “টক অব দ্যা টাউন”।


