Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

হাটের টেন্ডার নিয়ে বিএনপির সাথে এনসিপি গোপন সমঝোতা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম

হাটের টেন্ডার নিয়ে বিএনপির সাথে এনসিপি গোপন সমঝোতা

হাটের টেন্ডার নিয়ে বিএনপির সাথে এনসিপি গোপন সমঝোতা

Swapno



নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন হাটের ইজারার জন্য সিডিউল বিক্রি করে গতকাল। এবার নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলায় ১৩ টি হাটের ইজারার জন্য প্রায় ১৫০টি সিডিউল বিক্রি হয়েছে। কিন্তু এই হাটের ইজারা পেতে স্থানীয় বিএনপি নেতার সাথে এনসিপির নেতৃবৃন্দের গোপনে সমঝোতার মধ্য দিয়ে টেন্ডার সম্পন্ন হতে যাচ্ছে বলে বলাবলি হচ্ছে। তাছাড়া কয়েকটি হাটের সিডিউল যেন বিক্রি না হয় তার জন্য উপজেলা অফিসের ভিতরে বিএনপি নেতারা বসে ছিল যাতে তাদের হাটের সিডিউল ক্রয় করতে না পারেন। নানা প্রতিকুলতার মাঝেও এনসিপির একাধিক নেতৃবৃন্দ সিডিউল ক্রয় করেন।


এদিকে বিগত দিনে একক ভাবে প্রতিটি হাটে টেন্ডার পেয়েছে আওয়ামী লীগের নেতারা। কিন্তু ২০২৪ সনের ৫ আগষ্টের পর থেকে তাদের পতন হলে এই হাট গুলো এখন বিএনপির নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। তবে ২০২৬ সনের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে সদর উপজেলায় এনসিপি থেকে অ্যাড. আব্দুল্লাহ আল আমিন সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি এমপি হওয়ার পর থেকে এখানে এনসিপির প্রভাব গড়ে তোলার জন্য তাদের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন হাটের ইজারা পেতে সিডিউল ক্রয় করেন।


গত এপ্রিল মাসে সদর উপজেলার বক্তাবলীর ঘাট টেন্ডার নিয়ে এনসিপি নেতা তাওহীদ এবং বিএনপি নেতা নজরুল বাহিনীর মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তাই এবকার কোরবানির পশুর হাটের টেন্ডার নিতে প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামে এনসিপি নেতাকর্মীরা। একাধিক বিশ্¦স্ত সুত্র বলছে এনসিপির সদর  উপজেলা থেকে ১৩ টি হাট থেকে ৪০ থেকে ৫০% অর্থ দাবী করছে। তবে বিএনপি নেতৃবৃন্দ তা দিতে নারাজ। কেননা হাটের টেন্ডার থেকে শুরু করে তা পরিচালনায় মোটা অংকের টাকার খরচ হয়ে থাকে। তাছাড়া হাটের টাকা স্থানী বিভিন্ন মসজিদ মাদরাসায় একটি অংশ দিয়ে থাকেন। কিন্তু গোপন সমঝোতার মাধ্যমে তাদের নেগোশিয়েসন হতে যাচ্ছে বলে একাধিক নেতৃবৃন্দ।


এতে করে কাগজকলমে একাধিক টেন্ডার ফালালেও কৌশলে সরকারকে রাজস্ব ফাকি দিয়ে কোন প্রতিযোগিতা মুলক টেন্ডার না হওয়ায় একক ভাবে হয়ে য্য়া। আর এনিয়ে নানা সমালোচনা হয়।
এর আগে গত ১২ মার্চ সদর উপজেলার হাট বাজারের জন্য ৩ থেকে ৫ টি করে দরপত্র ফরম বিক্রি হলেও জমা পড়ে মাত্র ২ থেকে ৩ টি  করে। যার মধ্যে একটি ছাড়া বাকিগুলো ছিল অসম্পূর্ণ তথ্যসংবলিত। আবার কোনো বাজারে পড়েছে মাত্র দু একটি দরপত্র। তখনও নিজেদের মাঝে সমঝোতা করে নেয়া হয়।


বিশেষ সূত্রে জানা যায়, দরপত্র ক্রয় করা ব্যক্তিদের নিয়ে গোপনে সমঝোতার ফন্দি আঁটেন স্থানীয় বিএনপি এনসিপিরনেতারা। এতে করে তাদের পছন্দের ব্যক্তিরাই পেয়ে যান প্রতিটি হাটের ইজারা। তাছাড়া এ বছর আওয়ামী লীগের নেতারা পলতাক থাকায় এবার বিএনপি নেতারা মাঠ খালি পেয়ে তারা নিজেদের নামে একক ভাবে ইজারা নিতে মরিয়া। একই ভাবে এনসিপি নেতারা নতুন করে নিজেদেরকে তৈরী করে নিচ্ছে। তাদের বাহিরে গিয়ে কেউ টেন্ডার নিতে পারে না।


তবে এবার সদর উপজেলায় শান্তিপুর্ন ভাবে হাটের ফরম বিক্রয় হয়। যা আগে হয় নাই। প্রতি বছর হাটের ফরম ক্রয় বিক্রয় এবং জমা দেয়া নিয়ে সংঘর্ষ তৈরী হয়। কিন্তু এবার তা হয় নাই। তাছাড়া বিএনপির সাথে এনসিপি গোপনে সমঝোতায় যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা হচ্ছে। কেননা তারা বিরোধী দলে জোটে থেকে সরকারি দলের সাথে সমঝোতায় যায়। যা রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হচ্ছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে হাটের ফরম বিক্রি হয়েছে। কেউ কোন অরাজকতা করতে পারে নাই। সামনে পারবে ও না। এখানে স্বচ্চতা বজায় রেকে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন