চলতি মাসের শেষের দিকে মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলাতেও প্রতিবছর বসে একাধিক পশুর হাট। স্থানীয়দের কাছে এসব হাট কেবল কোরবানির পশু কেনাবেচার কেন্দ্রই নয়, বরং অর্থনৈতিক লেনদেন ও প্রভাব বিস্তারের একটি বড় ক্ষেত্র হিসেবেও বিবেচিত হয়।
প্রতিবছর সদর উপজেলায় গড়ে ১০ থেকে ১২টি পশুর হাট বসে থাকে। এসব হাটে কোটি টাকার লেনদেন হওয়ায় হাটের ইজারা নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা দেখা যায়। দীর্ঘদিন ধরেই এ ইজারা প্রক্রিয়াকে ঘিরে ছোট-বড় সংঘর্ষ, উত্তেজনা এবং বিরোধের ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে।
তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়েছে। বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে দলীয় প্রভাবের কারণে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই অধিকাংশ হাটের ইজারা সম্পন্ন হতো বলে স্থানীয়রা মনে করেন। কিন্তু বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিবর্তন এসেছে। সরকারে বিএনপি থাকলেও নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এনসিপির আল আমিন। ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি দ্বৈত প্রভাবের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে মতবিরোধ ও উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে।
এরই মধ্যে বক্তাবলী খেয়াঘাটের ইজারা নিয়ে বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার জেরে এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং সামনে পশুর হাটগুলোর ইজারা প্রক্রিয়া ঘিরে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, হাটের ইজারা মানেই বড় অঙ্কের অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত থাকায় রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা সহজেই সহিংস রূপ নিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতি না থাকলে হাট ইজারা কেন্দ্রিক বিরোধ বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সব মিলিয়ে, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় পশুর হাটের ইজারা ঘিরে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা স্থানীয় রাজনীতির নতুন সমীকরণের প্রতিফলন হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটিই দেখার। এদিকে এ শঙ্কা ও সমাধান নিয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।