ফতুল্লায় বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত জনজীবন, ভোগান্তি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
গত দুই দিনের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় স্থবির হয়ে পড়েছে ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকা।
গত দুই দিনের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় স্থবির হয়ে পড়েছে ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকা। জলাবদ্ধতায় থমকে গেছে জনজীবন। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত সবকিছুই যেন পানির নিচে থমকে আছে। গত দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে ফতুল্লার এনায়েতনগর, কাশিপুর, কুতুবপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকা ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। যেদিকে চোখ যায়, শুধু পানি আর পানি। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল প্রায় বন্ধ, চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “বৃষ্টি হলেই আমাদের এলাকায় পানি জমে যায়। এবার তো অবস্থা আরও খারাপ। ঘরের ভেতর পর্যন্ত পানি ঢুকে পড়েছে, বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি।”
আরেক বাসিন্দা সালমা বেগম জানান, “দুই দিন ধরে রান্না ঠিকমতো করতে পারিনি। চুলা জ্বালানোই কঠিন হয়ে গেছে। ছোট বাচ্চা নিয়ে পানির মধ্যে থাকা খুব কষ্টকর।”জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষা কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ পানিতে ডুবে গেছে, কোথাও কোথাও ক্লাস বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন কর্তৃপক্ষ। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সৃষ্টি হয়েছে স্থবিরতা। একজন অভিভাবক আব্দুল করিম বলেন,
“স্কুলে যাওয়ার রাস্তা পানির নিচে। বাচ্চাদের পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে বাসায় বসিয়ে রাখতে হচ্ছে।” সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। দিনমজুর, রিকশাচালক ও খেটে খাওয়া শ্রমজীবীরা চরম সংকটে রয়েছেন। টানা বৃষ্টির কারণে তারা কাজে বের হতে পারছেন না, ফলে আয়ের পথ বন্ধ হয়ে পড়েছে।
রিকশাচালক হেলাল উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাস্তায় পানি থাকলে যাত্রী পাই না। দুই দিন ধরে ঠিকমতো আয় নেই। পরিবার চালানোই কষ্ট হয়ে গেছে।” স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা এলেই একই চিত্র দেখা যায়। ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং পানি নিষ্কাশনের অভাবই এর মূল কারণ।
এনায়েতনগরের এক বাসিন্দা শামীম মিয়া বলেন, “ড্রেনগুলো ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয় না। পানি নামার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই একটু বৃষ্টি হলেই এমন অবস্থা হয়।”
তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মামুন মাহমুদ বলেন,ফতুল্লার জলাবদ্ধতার কথা মাথায় রেখে আমরা ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাল খনন ও দখলমুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছি।তার ফলাফল অনেক এলাকায় পূর্বে জলাবদ্ধতা হলেও এবার নেই। তবে অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। আমরা জলাবদ্ধতার সমাধান নিয়ে কাজ করছি।


