বিতর্কিত নাসিরউদ্দিনে ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনগণ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নাসির উদ্দিনের অশ্লীল কর্মকান্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। যা নিয়ে নেট জগৎসহ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও রূপগঞ্জে উঠছে নানা আলোচনা সমালোচনা। একই সাথে ভাইরালের ঘটনার দু‘দিন পরপরই ধর্ষণের অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগী নারী নাসিরের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন। অভিযোগের সুষ্ঠু বিচার না হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছিলেন সেই নারী। সেই ঘটনা ডাকতে তারাবো পৌরসভা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন মাঠে মানববন্ধন করতে নেমেছিলেন। কিন্তু অশ্লীল কর্মকাণ্ডের ভিডিও মাত্রা পাড় করায় তা নিয়ে কথা বলেননি বিএনপি নেতা অনেকেই।
এদিকে গোপনসূত্র জানিয়েছে, এই নাসির উদ্দিন বোনেদের সম্পত্তি আত্মসাৎ করে কানাডায় বিলাশ বহুল জীবন যাপন করছে তার পরিবার। তার মত ব্যাক্তি রাজনীতি অঙ্গনে থাকলে যা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে বললেই চলে। তা ছাড়া ডজনে ডজনে অভিযোগসহ দেড় মাস পূর্বে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠলে ও এই নাসির উদ্দিন রাজনীতিতে এখনো কিভাবে সক্রিয় তা নিয়ে জনমণে উঠছে নানা প্রশ্ন। তা ছাড়া অনেকেই বলছে, এমন অশ্লীল ব্যাক্তি শুধু রূপগঞ্জকে নয় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির রাজনীতিকে কলঙ্ক করছেন। যা দ্রুত ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা। তা ছাড়া নারায়ণগঞ্জ-১ রূপগঞ্জ আসনের সাংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু কি এ ধরণের কর্মকান্ডকে প্রশ্রয় দিবেন না সাংগঠনিক ভাবে ব্যবস্থা নিবেন সে দিকে তাকিয়ে রয়েছে রূপগঞ্জের মানুষ। বর্তমানে এই নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলে হুঙ্কার দিয়েছেন রূপগঞ্জবাসী।
এদিকে গত (১৮ মার্চ) বিকেলে রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচলের সমু মার্কেট এলাকায় ওই নারী এ সংবাদ সম্মেলন করেন । লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী দাবি করেন, প্রায় ছয় মাস আগে একটি অনুষ্ঠানে নাসির উদ্দীনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন, বিদেশে (সুইজারল্যান্ড) চাকরি ও আলাদা সংসারের আশ্বাস দেন নাসির। এক পর্যায়ে গত ৬ মার্চ দেখা করার কথা বলে তাকে একটি প্রাইভেটকারে তুলে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে পূর্বাচলের একটি নির্জন বালুর মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত নাসির তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে রেখে চলে যান।
ভুক্তভোগী আরো বলেন, এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় মামলা করতে গেলে তদন্ত কর্মকর্তা মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে গেলে আদালত চত্বরে তাকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। প্রভাবশালী হওয়ায় নাসির বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে। আমার মতো আর কোনো নারী যেন এমন ঘটনার শিকার না হয়। দ্রুত বিচার না হলে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া ছাড়া আমার আর কোনো উপায় থাকবে না।


