তারাব ও কাঞ্চন পৌরসভার উন্নয়নে বরাদ্দ চাইলেন দিপু ভূঁইয়া
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
তারাব ও কাঞ্চন পৌরসভার উন্নয়নে বরাদ্দ চাইলেন দিপু ভূঁইয়া
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ তারাব ও কাঞ্চন পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ চেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রুপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে পৃথকভাবে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে পৃথকভাবে দুটি আবেদন জমা দেন দিপু ভূঁইয়া।
জানা গেছে, তারাব পৌরসভা রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত। প্রায় ২৪ দশমিক ৬০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভায় স্থানীয় ও কর্মজীবী মিলিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের বসবাস। এখানে অসংখ্য ছোট-বড় শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে এবং প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহন করা হয়। পৌরসভার ভেতরে প্রায় ১০৫ কিলোমিটার পাকা রাস্তা ও ২৫ কিলোমিটার ড্রেন থাকলেও অধিকাংশই বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
দিপু ভূঁইয়া তার আবেদনে উল্লেখ করেন, বিগত বছরগুলোতে উন্নয়নের নামে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও কাজের মান নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে রাস্তাঘাট, ড্রেন ও কালভার্ট দ্রুত নষ্ট হয়ে পড়েছে। ভাঙাচোরা সড়কের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তারাব পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়নে ১০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে, কাঞ্চন পৌরসভা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এমপি মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া। প্রায় ২৩ দশমিক ৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ‘খ’ শ্রেণির এই পৌরসভায় প্রায় ৮০ হাজার মানুষের বসবাস। রাজধানীর সন্নিকটে হওয়া সত্ত্বেও অবকাঠামোগত উন্নয়নে কাঞ্চন অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে বলে দিপু ভূঁইয়া উল্লেখ করেন।
আবেদনে তিনি বলেন, কাঞ্চন পৌরসভার পাশেই গড়ে উঠেছে রাজউকের পূর্বাচল আবাসন প্রকল্প এবং এলাকায় দ্রুত শিল্পকারখানা ও আবাসিক প্রকল্প বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু সেই তুলনায় রাস্তা, ড্রেন ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা উন্নত হয়নি। পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকায় পরিকল্পনাহীনভাবে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে, যা ভবিষ্যতে আরও জটিলতা তৈরি করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় সরকারি বরাদ্দ কম হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে না। তাই কাঞ্চন পৌরসভার সড়ক, ড্রেন, সড়কবাতি স্থাপনসহ সামগ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ১০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া জরুরি।
এই দুই পৌরসভার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলে একদিকে যেমন নাগরিক সেবার মান বাড়বে, তেমনি রাজধানী ঢাকার ওপর জনসংখ্যার চাপও কিছুটা কমবে। পাশাপাশি এলাকার অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেছেন দিপু।


