খেয়াঘাটের দরপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে
বিএনপি-জামায়াত-এনসিপির ত্রিমুখী সংঘর্ষ, উত্তেজনা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
ঘাটের দরপত্র নিয়ে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপির ত্রিমুখী সংঘর্ষ, উত্তেজনা
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় বক্তাবলী খেয়াঘাটের ইজারা নিয়ে দরপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি -জামায়াত ও এনসিপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। গতকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে বক্তাবলী খেয়াঘাটের ইজারার দরপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও দিনভর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নির্ধারিত দিনে দরপত্র জমা দিতে সকাল থেকেই উপজেলা পরিষদে জড়ো হন বিএনপি, এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা। ঘাটটির ইজারা পেতে একাধিক পক্ষের আগ্রহ থাকায় শুরু থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
উপজেলা পরিষদ চত্বরে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটুর পক্ষে বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রধান, সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদ,ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের,বিএনপি নেতা মোজাম্মেলসহ বহু নেতাকর্মী উপস্থিত হন।অপরদিকে বক্তাবলী ইউপি মেম্বার রশিদ উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, রশিদ মেম্বার এনসিপি ও জামায়াতের কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপির একটি অংশের বিপক্ষে অবস্থান নেন।
অন্যদিকে জেলা এনসিপির আহ্বায়ক জুবাইর আহমেদ সরদার ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম তাদের অনুসারীদের নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় বক্তাবলী ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আবু বক্কর ছিদ্দিককেও দেখা যায়।
এনসিপি ও জামায়াতের নেতা কর্মীরা দরপত্র জমা দিতে গেলে বিএনপির কিছু কর্মী বাধা দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় এনসিপি নেতা তাওহীদ প্রতিবাদ করলে তাকে এবং জামায়াত নেতা আবু বক্করকে মারধর করা হয় বলে দাবি করা হয়।
পরবর্তীতে এনসিপির আরও কর্মীরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে জড়ো হলে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যা একপর্যায়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয়পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে।
আহত এনসিপি নেতা তাওহীদ অভিযোগ করে বলেন, সকাল থেকেই বিএনপির কিছু কর্মী তাদের প্রবেশে বাধা দিচ্ছিল এবং প্রতিবাদ করায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। অপরদিকে জামায়াত নেতা আবু বক্কর জানান, তাওহীদকে রক্ষা করতে গিয়ে তিনিও হামলার শিকার হন এবং এ কারণে তাদের পক্ষের কয়েকজন দরপত্র জমা দিতে পারেননি।
তবে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। তিনি বলেন, ঘটনা বিস্তারিত জেনে জানাবো।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন জানান, দরপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে কিছুটা বিশৃঙ্খলা তৈরি হলেও পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি সংঘর্ষের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সুষ্ঠুভাবেই দরপত্র গ্রহণ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ আল আমিন। তিনি দরপত্র জমা দেওয়ার সময় বাধা প্রদানকারী সকলের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়ার আহব্বান জানিয়েছেন।
এদিকে এ ঘটনা সম্পর্কে এনসিপির জেলা আহবায়ক জুবায়ের সরদার ও বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে শেষতক চারজন দরপত্র জমা দিলেও সংখ্যাগত ভুলে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই ঘাটের ইজারা পাননি।


