সরকার পরির্বতনের পর আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে থাকা ফতুল্লা বিসিকের শিল্প-কারখানাগুলোর বড় ১০৮ গার্মেন্টেসের ঝুট সেক্টরসহ সুতার কোন, কার্টুনসহ বিভিন্ন ওয়েস্টেজ পণ্যের ব্যবসা টোকেনের মাধ্যমে বিএনপি-জামায়াত নেতাদের কাছে বন্টনের অভিযোগ উঠেছিলো (বিকেএমইএ) এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। যা যোগ্য ও পরীক্ষিতদের সম্বনয়ে বন্টন না করায় দফায় দফায় গ্রুপে গ্রুপে সংঘর্ষের দেখা মিলছে। যা বিশাল বড় আকারে ধারণের দিকে যাচ্ছে তেমনই আলোচনা শোনা যাচ্ছে।
কিন্তু এতে (বিকেএমইএ) এর সভাপতির কোন পদক্ষেপ নেই বললেই চলে। যাকে ঘিরে আলোচনা উঠছে হাতেমের হাতে ঝুট বন্টনই বিসেকের অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতিমধ্যে বিসিকের বেশির ভাগ নিয়ন্ত্রণ বিএনপি-যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দল-ছাত্রদলের নিয়ন্ত্রণ দুটি গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে দেওয়ায় বাড়ছে সংঘর্ষ।
জানা গেছে, বিসিকের ৫ শতাধিক গার্মেন্টস-ফ্যাক্টরী ওসমান দোসর হাতেম আগে ভাগেই নিজের গদি বাঁচিয়ে রাখতে চাষাড়া (বিকেএমইএ) অফিসে বসে বসে গার্মেন্টসের ঝুট সেক্টর টোকেনের মাধ্যমে বন্টন করে দেয়। একই সাথে ঝুট সেক্টর নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাতেমের বড় ছেলে হাসিন আরমান (অয়ন)কে বিসিকে হাতেমের যে সকল পারিবারিকসহ আরো বেশ কয়েকটি বড় গার্মেন্টস রয়েছে সেগুলোর থেকে যারাই ঝুট বা অন্য ব্যাবসা করবেন সেখান থেকে ২৫% পার্সেন্টিজ দিতে হয় হাতেমের ছেলে আরমানকে।
বিগত দিনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকতে তাদের দলীয় সন্ত্রাসীরা শিল্প-কারখানাগুলোতে ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে সব সেক্টর দখল ও চাঁদাবাজি করতো সেখানে হাতেম তার ছেলেকে পারিবারিক গার্মেন্টস ছাড়া অন্য জায়গায় সেট করতে না পারলে ও এবার বিএনপির ছত্রছায়ায় সব স্থানেই ছেলেকে রেখেছেন হাতেম। ইতিমধ্যে হাতেমের লঙ্কাকাণ্ডে একাধিক সংর্ঘষের ঘটনা ঘটেছে বিসিকে।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বিসিক শিল্পাঞ্চলের পাশে চাঁদনী হাউজিং এলাকায় অবস্থিত বেস্ট স্টাইল কম্পোজিট লিমিটেড গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসার দখল নিয়ে ইউনিয়ন যুবদল নেতা সারজিল আহমেদ এবং ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুজ্জামান মাসুদ পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে আজ সকালে সারিজল আহমেদের সঙ্গে মাসুদুজ্জামানের অনুসারী মোহাম্মদ হোসেনের (এনায়েতনগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক) পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়।
এ সময় উভয় পক্ষের অনুসারীরা গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। সংঘর্ষের একপর্যায়ে রাকিবুল ইসলাম ও পথচারী ইমরান গুলিবিদ্ধ হয়। পরে আশপাশের লোকজন তাঁদের ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা। ইতিমধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ইমরান মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। সেই বেস্ট স্টাইল গার্মেন্টস হাতেমের মাধ্যমেই জেলা যুবদলের একজন নেতার লোক পরিচয়ে অভি-সালামসহ যুবদলের অনেকেই এটা নিয়ন্ত্রণে ছিলেন। এদিকে তখনই অপর পক্ষ হাতেমেরই লোক হিসেবে পরিচিত যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দল কয়েকজন নেতা সিন্ডিকেট সাপেক্ষে সেই সংঘের্ষ জড়ান। যাকে ঘিরে দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় বিসিক শাসনগাঁও এলাকার সেই চাঁদনী হাউজিং সোসাইটি।
এর আগে গত ২০২৪ সালের (২৯ আগস্ট) বিসিকের ২ নম্বর গেইটে ডান পাশের ৩ নম্বার গলিতে ‘মার্টিন নিট ওয়্যার, বিশাল নিট ওয়্যার’ এর ঝুট নিয়ন্ত্রণকে বিসিক ২ নম্বর গেইটে ডান পাশের ৩ নম্বার গলিতে থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের গ্রুপ ও ফতুল্লা থানা বিএনপি একাংশ গ্রুপের উভয়ের মধ্যে ভাগবাটোয়ার নিয়ে এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়। পরে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দু’গ্রুপের লোকজন সংঘর্ষে জরিয়ে পড়ে। এরপর ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয় দুই গ্রুপের মধ্যে। এতে উভয়পক্ষের দুইজন গুরুত্বসহ আহত হন প্রায় ১২ জন।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের (২০ সেপ্টেম্বর ) বিসিক এক নম্বর গল্লিতে ঝুট সেক্টর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুবদল-ছাত্রদলের এক গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। যেখানে উভয় পক্ষের প্রায় ৩ জন আহত হন।
তা ছাড়া ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাস জুড়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বিসিক শিল্প নগরীতে কিছুদিন যাবৎ দফায় দফায় শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সেখানে বিকেএমই‘এ এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের হুকুমে নির্দেশনা এসেছিলো শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণ নিলেই বাড়বে ‘ঝুট’ ফ্যাক্টরীর সংখ্যা সেই অফারে বিএনপি বিসিকের সেই আলোচিত ২ টি গ্রুপ তা লুফে নিতে একাধিক শ্রমিকদের উপরে হামলা চালিয়ে ছিলেন সেখানে ও বিএনপি আঘাতে একাধিক শ্রমিক আহত হওয়ার ঘটনা উঠে এসেছিলো।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের (১০ মে) থানা কৃষদলের এক নেতার গার্মেন্টস নিয়ন্ত্রণে নিতে ছাত্রদল ও যুবদলের এক গ্রুপ বিসেকে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটায় এই ঘটনায় বস্ত্র ও পোশাক শ্রমিক লীগের এক নেতা গুরুত্বর আহত হয়েছিলেন।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় বিসিকের ৩ নম্বার গলিতে যুবদল নেতার ঝুটের ট্রাক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ছিনিয়ে দিতে চাইলে সেখানে সংঘর্ষে জড়াই দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা। ইতিমধ্যে বর্তমানে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে ও নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে ক্ষমতায় নেই বিএনপি। যাকে ঘিরে ধারণা করা হচ্ছে যাকে ঘিরে ইতিমধ্যে ছন্নছাড়া বিএনপি সংঘর্ষে আরো একাধিক বার জড়াতে পারে আধিপত্যকে ঘিরে এমনই গুঞ্জন উড়ছে।
এদিকে গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর সেলিম ওসমানের পদত্যাগপত্রের প্রেসক্রিপশনে শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন বিকেএমইএ'র সভাপতি পদ দখল নেওয়া ঝুট ব্যবসায়ী হাতেম। তিনি সেলিম ওসমানের স্বাক্ষরে সভাপতির পদে আদিষ্ট হওয়ার চিঠিসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনেকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান ও স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতির বক্তব্যের (ভিডিও) বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উড়ছে। যাকে ঘিরে বর্তমানে ব্যবসায়ীসহ রাজনৈতিক ব্যক্তি বেশির ভাগই হাতেমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় চতুমুর্খী চাপে ছিলেন এই হাতেম কিন্তু বিএনপির সেই লোভধারী নেতাদের আশ্রয়ে এখনো বহাল সেই হাতেম।
ব্যবসায়ীরা হাতেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলছেন, ওসমানদের সময় থেকেই হাতেমকে যতটা না ব্যবসায়ী বলা চলে, তার চেয়ে বড় দাগে ঝুট ব্যবসায়ী, জমি দখলদার, ভূমিদস্যুতার সেটেলমেন্ট ব্যবসায়ী, ওসমানদের দখলদার বলা চলে। ওসমানদের হয়ে হাতেম গং সিন্ডিকেট জমির দালালিতেও সিদ্ধহস্ত ছিল। বর্তমানে নতুন করে সেই হাতেম বিএনপির ছত্রছায়ায় সেই অপকর্ম হাতে নিয়েছেন। এদিকে গত (১২ ফেব্রুয়ারী) বিএনপি ক্ষমতায় আসলে ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ১১ দলীয় জোটের এনসিপির সাংসদ সদস্য থাকায় বেকায়দায় রয়েছে হাতেম।
ইতিমধ্যে নতুন সাংসদ সদস্যের সঙ্গে দস্তদস্তির ঘটনা ও ঘটেছে হাতেমের সঙ্গে। এদিকে বর্তমানে বিএনপি-জামায়াত এর একাংশকে হাতেম বিসিকের নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনলে ও বঞ্চিত রেখেছেন অনেক ত্যাগী নেতাদের। তা ছাড়া এনসিপির জেলা ও মহানগরের একাধিক নেতাকর্মী থাকলে ও তারা বিসিকের ব্যবসায় কেউ সম্পৃক্ত নেই। যাকে ঘিরে তাদের এমপি সেই আসনে ক্ষমতায় থাকায় তারা এবার বিসিকে যাওয়া পায়তারা করছেন জানিয়েছে সূত্র যা নিয়ে সামনে হাতেমের দুখময় সময় দেখছেন অনেকেই। তা ছাড়া হাতেমের সেই বন্টন এবার বেস্তে যেতে পারে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। হাতেমের এই টোকেব বন্টনই অভিশাপ রূপে তছনছ করেছে বিসিকের শিল্পব্যবসা।
নারায়ণগঞ্জ নাগরিক আন্দোলনের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি বলেছেন, সরকার দলীয় নেতাকর্মীরাই বর্তমানে বিসিকের ঝুট সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করছেন। তা ছাড়া ঝুট নিয়ে কামড়া-কামড়ি করে তৈরি করছেন বিশৃঙ্খলা।তিনি বলেন, বিএনপির সেই দলীয় বিভক্তির তান্ডবের অংশ হচ্ছে পথচারীসহ অনেকেই। এগুলো থেকে নারায়ণগঞ্জবাসীকে পরিত্রান দিতে সরকারের দ্রুত তা ব্যবস্থা নিতে হবে। তা ছাড়া বিকেএমই‘এ অনেকেই যারা রয়েছে তারা সব সময় যে দল ক্ষমতায় আসবেন তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পরেন। যাকে ঘিরে তারা চাইলেও এ ধরনের ঘটনা থেকে নারায়ণগঞ্জবাসীকে পরিত্রাণ দিতে পারবে না। এখানে সরাসরি সরকারের হস্তক্ষেপ হলেই বিসিকের সকল বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আসবে।