Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

গুলিবিদ্ধ মাদ্রাসা ছাত্র ইমরানের জন্য প্রার্থনায় গোটা এলাকা

জ্ঞান ফিরেছে, তবুও কাটেনি শঙ্কা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

জ্ঞান ফিরেছে, তবুও কাটেনি শঙ্কা

গুলিবিদ্ধ মাদ্রাসা ছাত্রের জ্ঞান ফিরেছে, তবুও কাটেনি শঙ্কা

Swapno



ফতুল্লার চাঁদনী হাউজিং এলাকায় ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের নির্মম ঘটনার শিকার মাদ্রাসা ছাত্র ইমরান এখনো মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছে। তবে আশার আলো দেখিয়েছে একটি খবর। তার জ্ঞান ফিরেছে। ধীরে ধীরে চোখ মেলে তাকাচ্ছে, টুকিটাকি কথা বলছে, প্রয়োজনে ইশারায় বোঝানোর চেষ্টা করছে। এ যেন পরিবারের জন্য এক টুকরো স্বস্তি, কিন্তু পুরোপুরি স্বস্তি নয়। ইমরানের বোন ইশা মনি জানিয়েছেন, ও এখন কথা বলতে পারে, আমাদের চিনতে পারছে। কিছু দরকার হলে ইশারা দেয়। কিন্তু ওর অবস্থা এখনো খুব খারাপ। কথাগুলো বলতে গিয়ে তার কণ্ঠে ফুটে ওঠে অসহায়তা আর দুশ্চিন্তার ভার।


চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলির আঘাতে ইমরানের পেটের ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে, যার প্রভাব এখনো কাটেনি। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো তার শরীর থেকে এখনো গুলি বের করা সম্ভব হয়নি। প্রতিটি মুহূর্ত তাই অনিশ্চয়তায় ভরা। নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাকে, চলছে স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা। গত ৯ এপ্রিলের সেই ভয়াবহ সকাল যা ইমরানের জীবনে নিয়ে এসেছে এক দুঃস্বপ্ন।


মাদ্রাসা থেকে ফিরে, একেবারে সাধারণ দিনের মতোই পাশের গলিতে সাইকেল চালাচ্ছিল সে। হঠাৎ চারপাশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি বুঝে সাইকেলটি বাসায় রাখতে যায়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, ঠিক সেই মুহূর্তেই আচমকা ছুটে আসা একটি গুলি তার পেটে বিদ্ধ হয়।


একটি নিরীহ কিশোর, যার কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই, কোনো দ্বন্দ্ব নেই, সে আজ একটি সংঘর্ষের নিষ্ঠুর বলি। কে বা কারা সেই গুলি ছুঁড়েছিল, এখনো তা নিশ্চিত নয় তার পরিবারের কাছে। প্রশ্নগুলো তাই ঝুলে আছে কেন এমন হলো? দায় কার?


এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোক ও ক্ষোভের ছায়া। সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ, আতঙ্কিত। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন। একই সঙ্গে সবাই প্রার্থনা করছেন ইমরান যেন আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে। একটি গুলির শব্দ কেবল একটি শরীরকে বিদ্ধ করেনি, কাঁপিয়ে দিয়েছে একটি পরিবার, একটি এলাকা। আর রেখে গেছে এক গভীর প্রশ্ন, যার উত্তর এখনো মেলেনি।



Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন