নারায়ণগঞ্জ একটি শিল্প নগরী এলাকা। এই জেলা সমগ্র জেলার মধ্যে ধনী জেলা হিসেবে পরিচিত। প্রাচ্যের ডান্ডিখ্যাত এই নারায়ণগঞ্জের সুনাম সারাদেশ জুড়ে থাকলেও বিভিন্ন চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, হত্যা সহ নানান অপকর্মের কারনে এই নারায়ণগঞ্জ জেলার মানুষ অনেকটাই বিতর্কের মধ্যে পড়েছে। বিশেষ করে এই নারায়ণগঞ্জে বিগত দিনে ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকাতে ব্যাপক ভাবে চাঁদাবাজি হয়েছে। প্রতিটা সেক্টরে চাঁদা দিয়েই প্রত্যেকটা কাজ বাস্তবায়ন করা হতো।
শুধু তাই নয় চাঁদা না দিয়ে সন্ত্রাসীদের হাতে প্রান দিতে হয়েছে অনেককেই। বিশেষ করে পরিবহন ও ফুটপাত নিয়ে এই নারায়ণগঞ্জে চাঁদাবাজি প্রতিনিয়তই আলোচনায় ছিলো। আর এই চাঁদাবাজরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পথ অবলম্বন করে তাদের চাঁদাবাজি চালিয়ে যেত। বিশেষ করে বেশ কয়েকবছর যাবৎ একটি চাঁদাবাজি ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে আর সেটি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এড়িয়ার কয়েকটি এলাকাতে দেখা যাচ্ছে।
জানা যায়, কোন রকম পারমিশন ছাড়াই প্রতিটি এলাকার পাড়া মহল্লায় সপ্তাহে ৭ দিনই কোন না কোন এলাকাতে অবৈধ মেলার আয়োজন করা হয় আর এই মেলাতে দৈনন্দিন জীবনে যা কিছু প্রয়োজন সবকিছুই মেলে এই মেলাতে। তবে কোন রকম পারমিশন ছাড়াই একটি দালাল চক্র মেলার এলাকার বিভিন্ন খালি স্থান অথবা জনগনের চলাচলের রাস্তা বাচাই করে আর সেই সকল জায়গার স্থানীয় যে সকল রাজনৈতিক নেতা ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের ম্যানেজ করে এই সকল অবৈধ মেলা পরিচালনা করা হয়।
এই সকল মেলা সবচেয়ে বেশি ফতুল্লার কুতুবপুরেই চোখে পড়ে। বিগত দিনে আওয়ামী লীগের পদে থানা নেতারাও এই অবৈধ মেলার টাকার ভাগ পেতেন। এই টাকার জন্য বিভিন্ন সময় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। তবে গত ৫ ই আগষ্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর এই মেলা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলেও আবারো আধিপত্য বিস্তার করে বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে এই সকল মেলার থেকে চাঁদাবাজি শুরু করেছে একটি চাঁদাবাজ বাহীনি।
তবে বদলেছে চাঁদার কৌশল সরাসরি চাঁদা না চেয়ে বিদ্যুতের নাম করেই চাঁদা তোলা হয় চাঁদা। দোকানদাররাও দিয়ে দিচ্ছে চাঁদা তবে তারা যে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে তারা সেটাও জানে না।
আবার অনেকেরই দাবি বিদ্যুৎ অফিসের কিছু কর্মকর্তারাও জানে এই অবৈধ লাইনের কথা অভিযোগ রয়েছে তারাও এই চাঁদাবাজদের কাছ থেকে টাকা গ্রহন করে যা সরকারি কোশাগারে জমা হয়না।
তবে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ সাশ্রয় করার জন্য নানামূখী পদক্ষেপ গ্রহন করলেও তার দলের নাম ভাঙ্গিয়ে স্থানীয় বিএনপির কিছু কতিপয় নেতা বিদ্যুৎ চুরি করে সংযোগ দিচ্ছে।
জানা যায়, ফতুল্লার কুতুবপুরের শাহী মহল্লা, রেললাইন, দেলপাড়া, ভূইগড় মাহমুদপুর সহ বেশ কয়েকটি স্থানে এই অবৈধ মেলা পরিচালিত হয়। প্রত্যেকটি স্থানের মেলায় মসজিদ কবস্থানের নাম করে প্রতিটি দোকান থেকে ১৫০ টাকা করে তোলা হয় আর প্রত্যেকটি মেলাতে কমপক্ষে ১৫০-২০০ দোকান বসে এতে দেখা যায় প্রতিটিনই ৩০০০০- ৫০০০০ টাকা প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি চলে।
স্থানীয় অনেকেই বলছেন আগে আওয়ামী লীগের নেতারা এই সকল মেলা থেকে চাঁদা আদায় করতো এখন এই সকল মেলা থেকে বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদা তোলা হয়। এতে করে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে যারা মার্কেটে দোকান নিয়েছে তাদের বেচাকেনা অনেকটাই কমে গেছে। তাদের এখন দোকান ভাড়া উঠাতেই কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তারা মনে করছেন অবিলম্বে চাঁদাবাজি বন্ধ না করলে এই সকল মেলা স্থায়ীত্ব লাভ করবে এবং প্রকৃত ব্যবসায়ীরা লোকসান গুনবে। আমরা মনে করি প্রশাসন চাইলেই এই সকল চাঁদাবাজি বন্ধ করা সম্ভব।