Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

রাস্তা দখল করে স্ট্যান্ড বন্ধন-উৎসব বাসের

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম

রাস্তা দখল করে স্ট্যান্ড বন্ধন-উৎসব বাসের

রাস্তা দখল করে স্ট্যান্ড বন্ধন-উৎসব বাসের

Swapno

নারায়ণগঞ্জ শহরের সবচেয়ে চরম ভোগান্তির নাম হচ্ছে যানজট হকার সমস্যা। মানুষ এখন চাষাঢ়া থেকে নিতাইগঞ্জ পর্যন্ত দেড় কিলোমিটারের সড়কটি এক মুহুর্তের জন্য চলাচলের উপযোগি হিসেবে দেখেন না। সদ্য ১২ ফেব্রুয়ারি নারা চড়াই উৎরাই শেষে ২১২ জন সংসদ সদস্য নিয়ে শপথ গঠন করে সরকার গঠন করে বিএনপি। এই সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহন করেন অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খাঁন। তিনি দায়িত্বে নেয়ার পর থেকেই শহরের ২ নম্বর রেলগেইটে কোন পরিবহনের স্ট্যান্ড থাকতে পারবে না বলে হুশিয়ারি প্রদান করেন। কিন্তু কে শুনে কার কথা। পরিবহন মাফিয়ারা ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় অবৈধ ভাবে রাস্তা দখল করে স্ট্যান্ড দিয়ে যাত্রী উঠান পরিবহন মালিকরা। তারা এখন লাগামহীন হয়ে রয়েছে।  



এদিকে নগরবাসি জানযট, রাস্তা দখল, ফুটপাত দখল সহ জেলার নানা সমস্যা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাংবাদিক থেকে শুরু করে জেলার ৫টি আসনের সংসদ সদস্য, জেলার ডিসি এসপি, নাসিক প্রশাসক, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ মিলে শহরের সমস্যা সমাধানের জন্য আহবান জানিয়ে আসলেও কোন ফল পাচ্ছে না নগরবাসি। পরিবহনের মালিকদের রাস্তা দখলের যে অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে।


শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌছাতে পারে না। কারন রাস্তায় জানজট লেগে থাকে। রাস্তায় কেন বাস রাখবে। যতখন পর্যন্ত চলাচলের ব্যবস্থা ঠিক না হবে ততোক্ষন চলাচলের জায়গাটা পরিস্কার রাখার আহবান জানান।



অপরদিকে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের কালিবাজার থেকে ১নং রেলগেটপর্যন্ত সিরাজউদ্দৌলা রোড দিনের বেলায় দখল করে রাখে হকাররা । আর সন্ধ্রা কিছুক্ষন পর থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত এই সড়কটি বন্ধন-উৎসব বাস পার্কিং করে রাস্তা দখল করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে বলে নগরবাসীর অভিযোগ। এছাড়া সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নগরীর ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় অবৈধ ভাবে স্ট্যান্ড দিয়ে বন্ধন উৎসব বাস যাত্রী উঠা নামা করেন। এতে করে ২ নম্বর মোড় এলাকায় ব্যপক যানজট তৈরী হয়। বাসগুলো রাস্তা দখল করে রাখায় জনগণ চলাচলে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।



তাছাড়া দিনের বেলায় যেমন চাষাঢ়া থেকে নিতাইগঞ্জ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সড়কে যানজট তৈরী হয়ে তেমনি রাতের বেলা ৯ টার পরেও শহরে যানজট সৃষ্টি হয়। এই যানজটের কারনে মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়। সন্ধার পরে পরিবহন গুলো সড়ক দখল করে রাখায় রাতের বেলায়ও মানুষের চলাচল করতে কষ্ট করতে হয়। এছাড়া নগরীর ২ নম্বর রেলগেট থেকে ১ নম্বর রেলগেট হয়ে বাস টার্মিনাল পর্যন্ত সারিবদ্ধ ভাবে উৎসব-বন্ধন পরিবহন বাস পাকিং করে রাস্তা অবৈধ ভাবে দখল করে রাখে। স্বাভাবিক ভাবে রাতের বেলা রাস্তা ফাঁকা থাকে। কিন্তু সচেতন মহলের মতে উৎসব-বন্ধনের কারনে হর হামেশায় সড়কে বিশৃঙ্খলা তৈরী হয়ে আছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায়, তারাও মানুষকে দিনের পর দিন কষ্ট দিয়ে যাচ্ছে। এতে করে পরিবহন মালিকদের পার্কিং করার জন্য যে খরচ লাগে তা বেচেঁ যায়।  



সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের চারারগোপ থেকে ১নং রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে বাসস্ট্যান্ড তৈরি করেছে বন্ধন উৎসব। কালিবাজার থেকে শুরু করে ১নং রেলগেট বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত পুরো রাস্তাটি দখল করে রেখেছে। সড়কটির পাশে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ কলেজ এবং নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল। স্কুল-কলেজ আগত ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতিষ্ঠানে আসতে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। যেখানে ৫ মিনিট সময় লাগে প্রতিষ্ঠানে আসতে সেখানে ৬০ মিনিট সময় লাগে। বন্ধন উৎসব বাসের নৈরাজ্যের কারণে থেকে শহরবাসীও মুক্তি পান নাই।
নারায়ণগঞ্জ কলেজের ছাত্রী তানিয়া জানান, বন্ধন, উৎসব, বন্ধুসহ বাসের চালকেরা কলেজের সামনে পুরো রাস্তাটি দখল করে বাসস্ট্যান্ড বানিয়েছে। রিক্সা ও প্রাইভেটকার চলচাল করতে পারছে না। চরম দূর্ভোগে জনসাধারনসহ স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা। সকালে কলেজ শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে গিয়ে তাদের পরিবহন রাখায় সঠিক সময়ে পৌঁছাতে পারেন না। এ নিয়ে চরম ক্ষোভে পরেছে শহরবাসীও।



 জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি বলেন, নারায়ণগঞ্জ শহরের যানজট সমস্যার সমাধানে একটি বিশেষ সভা আয়োজনের তাগিদ দিয়েছেন তিনি। এসময়  তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জে এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। প্রতিনিয়ত এই সমস্যার কথা শুনতে হয়, কিন্তু কোনো সমাধান হয় না। এ সমস্যা নিয়ে আলাদা একটা মিটিং করা দরকার।
 পুলিশ সুপার বলেন, নারায়ণগঞ্জ শহরের যানজট সমস্যার সমাধানে একটি বিশেষ সভা আয়োজনের তাগিদ দিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী। তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জে এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। প্রতিনিয়ত এই সমস্যার কথা শুনতে হয়, কিন্তু কোনো সমাধান হয় না। এ সমস্যা নিয়ে আহকারদের সাথে তাদের একটা চোর-পুলিশ খেলা চলছে। পুলিশ এক দিক থেকে চলে গেলে অন্যদিকে হকার বসে যাচ্ছে। এই সব ব্যস্ততার কারণে সাধারণ জনগণের সাথে পুলিশের কথা কাটাকাটি, মারামারিও হচ্ছে। এটা আরেক সমস্যা। সবাই একসাথে বসে এর সমাধান নির্ধারণ করতে হবে।”আলাদা একটা মিটিং করা দরকার।”



Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন