Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

তিনশ টাকা রোজের কর্মচারী মোশারফ কোটি কোটি টাকার মালিক

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম

তিনশ টাকা রোজের কর্মচারী মোশারফ কোটি কোটি টাকার মালিক

তিনশ টাকা রোজের কর্মচারী মোশারফ কোটি কোটি টাকার মালিক

Swapno

#  দুদুকের তদন্ত দাবি এলাকাবাসীর


রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া নাওড়া এলাকার হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান মোশারফের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। একসময় লুঙ্গি কেনার সামর্থ্য না থাকলেও এখন তিনি চলেন দামি গাড়িতে। সঙ্গে থাকে অবৈধ অস্ত্রধারী দেহরক্ষী। তাদের সাথে নিয়েই গভীর রাতে নাওড়া ও ১০০ ফিট এলাকায় ছিনতাই-ডাকাতি করেন বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ। পাশাপাশি এলাকায় চুরি-ছিনতাই, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির টাকায় গড়েছেন অঢেল সম্পদ। একসময় আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজনীতি করলেও সম্প্রতি ভোল পাল্টে বিএনপি বনে যাওয়ায় প্রশাসনসহ স্থানীয়রা এখন নিশ্চুপ বনে গেছে। ফলে দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন মোশারফ। এমন পরিস্থিতিতে মোশারফের অবৈধ সম্পদের বিষয়ে দুদককে অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়েছেন নাওড়া এলাকার বাসিন্দারা। এদিকে গতকাল মঙ্গলবার দৈনিক যুগের চিন্তাসহ নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় একাধিক পত্রিকায় মোশারফকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এলাকাজুড়ে। এলাকাবাসী দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

জানা গেছে, একসময় নুন আনতে পান্তা ফুরাত মোশারফের। লুঙ্গি কেনার সামর্থ্যও ছিল না তার। কসাইয়ের দোকান থেকে মাটি কাটা শ্রমিক। মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকান শেষে খাড়া দলিলের কাজ করে বনে গেছেন কোটিপতি। তার হাত থেকে রক্ষা পায়নি মসজিদ, মন্দির, শ্মশান, কবরস্থান ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বসতভিটাও। খাড়া দলিল করে মোশারফ এসব প্রতিষ্ঠানের জমি বিক্রি করেছেন অন্যখানে। সূত্র মতে, শুধু খাড়া দলিলই নয়, মোশারফের বিরুদ্ধে ১০০ ফিট এলাকায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া মাঝেমধ্যে গভীর রাতে তার বাড়িতে জুয়ার আড্ডাও বসানো হয়। সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। অনেকেই মোশারফের ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই প্রতিবেদকের কাছে জাবানবন্দি দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, অষ্টম শ্রেণি পাস করা মোশারফ ২০০২ সালে সর্বপ্রথম নাওড়া থেকে কাজের খোঁজে ঢাকায় আসেন। প্রথমে চাকরি না পেয়ে এক কসাইয়ের দোকানে দিনমজুর হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৫০ টাকা রোজে কসাইয়ের দোকানে ছয় মাস কাজও করেন। এরপর দোকানের মহাজনের ক্যাশ থেকে টাকা চুরি করে গ্রামে এসে আত্মগোপন করেন। চুরির ঘটনা জানাজানি হওয়ায় পরবর্তীতে কেউ তাকে কাজ দেয় না। অর্ধাহার-অনাহারে থাকতে হয় মোশারফ ও তার পরিবারকে। পরে পূর্বপরিচিত একজনের মাধ্যমে নাওড়া এলাকার হল্যান্ড সেন্টারে একটি মোবাইল সার্ভিসিং দোকানে দৈনিক ৩০০ টাকা রোজে মোবাইল সার্ভিসিংয়ের কাজ পান মোশারফ। সেখানেও হাতটান স্বভাবের জন্য বেশিদিন টিকতে পারেননি। মারধর করে তাকে দোকান থেকে বের করে দেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই দোকানের চাকরি হারানোর পর খাড়া দলিলের কাজে যোগ দেন মোশারফ। তার খাড়া দলিল থেকে ঈদগাহ-কবরস্থানের জায়গাও রক্ষা পায়নি। নাওড়া এলাকার নেকুর ছেলে মোশারফ খাড়া দলিলের মাধ্যমে হঠাৎ কোটিপতি বনে যান। হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর দখল করে নিজের নামে করে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সর্বশেষ কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নিমেরটেক গ্রামের সামাজিক কবরস্থানের জমি খাড়া করে অন্য একটি গ্রুপের কাছে বিক্রি করে দেন তিনি। এভাবেই মোশারফ রাতারাতি কোটি টাকার মালিক বনে যান। খাড়া করতে করতে একসময় মোশারফের নাম খাড়া মোশারফ হিসেবে পরিচিতি পায়।

স্থানীয়রা জানান, একসময় স্থানীয় অসুমদ্দি মিয়ার বাড়িতে পেটে-ভাতে গরু রাখার কাজ করতেন খাড়া মোশারফের বাবা নেকো। আইছিলা হাজীদের বাড়িতেও পেটে-ভাতে কাজ করতেন তিনি। সেই নেকোর ছেলে মোশারফ এখন বিএনপি সমর্থক গোষ্ঠী নামে একটি ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে বর্তমান সংসদ সদস্য দিপু ভুঁইয়ার নাম ভাঙিয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি বিএনপি নেতাদের খতিয়ে দেখার পাশাপাশি মোশারফের এসব কর্মকাণ্ড প্রশাসনকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন