না.গঞ্জ ক্লাব নির্বাচনে সভাপতি পদে এগিয়ে এম. সোলেমান
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
না.গঞ্জ ক্লাব নির্বাচনে সভাপতি পদে এগিয়ে এম. সোলেমান
আগামী (২০ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিমিটেড এর পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন-২০২৬। এবারের নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, ইয়ার্ন মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি ও এই ক্লাবের ৫ বারের সভাপতি ও বর্তমান সভাপতি এম. সোলায়মানের সাথে হোসিয়ারী সমিতির সভাপতি বদিউজ্জামান বদুর প্রতিদ্বন্দ্বীতা হচ্ছে। ফলে নারায়ণগঞ্জের এলিট শ্রেনীর ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবের এবারের এই নির্বাচনটি অনেকটাই জমে উঠেছে।
এদিকে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর মাঝে এম. সোলায়মান অনেকটাই বিচ্ছুক্ষন ব্যাক্তি হিসেবে পরিচিত। তিনি সর্বদা ক্লাবের উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে বহু কার্যকালাপ ক্লাবের জন্য চালিয়েছেন। তা ছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের পর ফ্যাস্টিস্ট সরকার পতনের পর ক্ষতিগ্রস্ত নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সংস্কারের জন্য যে সংস্কার কমিটি করেন সেখানেও এম সোলায়মানকেই দায়িত্ব দেন ক্লাবের সদস্যরা।
বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্ট এসোসিয়েশনকে সংগঠতি করার জন্যও ৫ আগস্টের পর এম সোলায়মানকেই বেঁছে নেন ব্যবসায়ীরা। এককথায় সর্বজন গ্রহণযোগ্য ব্যবসায়ী হিসেবে সবসময়ই খ্যাতি রয়েছে এম. সোলায়মানের। এদিকে আগামী মাসের ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন। ক্লাবের সদস্যদের অনুপ্রেরণায় ক্লাবটির অগ্রগতি এগিয়ে নেয়ার জন্য আবারও সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রার্থী হয়েছে এম. সোলায়মান। ক্লাব সদস্যদের সর্বাত্মক অংশগ্রহণ এবং উৎসবমূখর পরিবেশে এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রত্যাশা রয়েছে সকলের।
এদিকে বিগত ৫ বার সভাপতির দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সাথে আমার আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এখানকার যারা সদস্য তাদের প্রত্যেককেই এম. সোলেমানকে পরিবারের অংশ হিসেবেই মনে করেন এবং তিনি ও তাদের পরিবার হিসেবেই গাইড লাইন করেন। যার ফলে তার কাজের মূল্যায়ন করতে গিয়ে এবারও তাকে সভাপতি পদে নির্বাচন করার জন্য মেম্বাররা অনুরোধ করেন। তারা চান আরো অন্তত একটি বছর তিনি যেনো ক্লাবটির বাকী কাজও সম্পন্ন করে রেখে যান। এরই মাঝে নতুন ভবনের বেশির ভাগ কাজও তিনি সম্পন্ন করেছেন এবং আগামী বৃহস্পতিবার নতুন কমিউনিটি সেন্টারটির শুভ উদ্বোধন করা হবে। যাকে ঘিরে এবারও সোলায়মানেরই বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি।
ক্লাব নির্বাচনে সভাপতি পদে অংশগ্রহণ ও ক্লাবের নানা বিষয় নিয়ে যুগের চিন্তাকে এম. সোলেমান বলেন, গত ১৯৯৮ সালে আমি যখন প্রথমবারের মতো নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সদস্য পদে নির্বাচিত হই, তখন মাত্র ২৫০ জন সদস্য ছিল। ক্লাবের ফান্ডের অবস্থাও তেমন ভালো ছিলনা। কিন্তু আমি সুযোগ পাওয়ার পর সকলের সাথে মিলেমিশে ধারাবাহিকভাবে ক্লাবের উন্নয়নে কাজ করি।
ক্লাব সদস্যরা বারবার আস্থা রেখেছেন বলেই আমি তিনবার জুনিয়ার ভাইস প্রেসিন্ডেন্ট, তিনবার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং তিনবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি। আমি ক্লাবটির উন্নয়নে সবসময়ই সম্পৃক্ত ছিলাম। ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ক্লাবটির সুইমিং পুল নির্মাণ কনভেনয়ারিং কমিটিতে ছিলাম। পুরনো কমিউনিটি সেন্টারটি যখন হয় তখন আমি সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলাম।
৬ জন্য সভাপতির সাথে আমি ক্লাবের উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। ৫ আগস্টের পর ক্লাবের সংস্কারে যখন আমাকে সদস্যরা দায়িত্ব দেন আমি আপ্রাণ চেষ্টা করেছি ক্লাবটিকে ব্যবহার উপযোগী করার জন্য। তা ছাড়া ৫ আগস্টের পর দায়িত্ব পালন নিয়ে এম সোলায়মান বলেন, ক্লাবের ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে ক্লাব স্টাফদের অবদান সব সদস্যই একবাক্যে স্বীকার করবেন। কেননা ২৭০ জনের বেশি স্টাফ যাদের বেতন আনুমানিক ৪৭ লাখ টাকার মতো, তাদের সাথে যখন শলাপরামর্শ করি, তারা বলেছেন, তারা অর্ধেক বেতন নিয়ে হলেও ক্লাব দ্রুত চালু হওয়া পর্যন্ত তাদের কাজ চালিয়ে যান। তাদের এই ৪ মাসের ত্যাগের কারণেই ক্লাবটি দ্রুত চালু করা হয়। ক্লাবের লসগুলো দ্রুত কাটিয়ে উঠা সম্ভবপর হয়েছে।
তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ভোটে নির্বাচিত হওয়ার গত ১ বছরে আমরা সম্মিলিতভাবে ক্লাবের কমিউনিটি সেন্টারের কাজ প্রায় শেষ করতে সক্ষম হয়েছি। আগামী বৃহস্পতিবার আমরা এটা চালু করতে যাচ্ছি। এটা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের মধ্যে আধুনিক একটি কমিউনিটি সেন্টার। তা ছাড়া এটার নিচে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টি গাড়ি পাকিং এর ব্যবস্থা রয়েছে। তা ছাড়া এবার যদি সকল সদস্যরা আমাকে আবারো সুযোগ দেয় তাহলে ৩য় তলায় আরেকটি কমিউনিটি সেন্টার আমি করবো। তা ছাড়া ৬টি গেস্ট হাউজ বাকি রয়েছে সেগুলো ও দ্রুত চালু করে ফেলবো। একই সাথে আধুনিক একটি কপি সপ আমরা চালু করবো এই ক্লাবে। এর বাহিরে ও ক্লাবের উন্নয়নের লক্ষ্যে মেম্বারদের সুবিধার জন্য যা করা প্রয়োজন আমি করবো ইনশাআল্লাহ।
এদিকে এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের বর্তমান সভাপতি এম. সোলায়মান ও বাংলাদেশ হোসিয়ারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বদিউজ্জামান বদু।
সিনিয়র সহ সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহ সভাপতি ব্যবসায়ী নেতা মাহফুজুর রহমান খান (মাহফুজ) ও মো. মাহাবুবুর রহমান মারুফ। সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ইঞ্জিনিয়ার আমিনুজ্জামান ও সৈয়দউল্লাহ হৃদয়।
৮ পরিচালক পদের বিপরীতে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। প্রার্থীরা হলেন, অজিত কুমার সাহা, মো. আরিফ হোসেন, দিলারা মাসুদ ময়না, হারুণ অর রশিদ, অ্যাডভোকেট ইন্দ্রজিত সাহা (দিপক), মো. জাহিদ হাসান, খান আব্দুল কাদির মাহবুব (বাবু), কাজী আব্দুস সাত্তার, অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ গোলাম মোর্শেদ ও উজ্জল হোসেন।


