Logo
Logo
×

আদালতপাড়া

তিন ইস্যুতে আদালতপাড়ায় উত্তাপ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

তিন ইস্যুতে আদালতপাড়ায় উত্তাপ

তিন ইস্যুতে আদালতপাড়ায় উত্তাপ

Swapno



কালিবাজার নতুন ভবনে কোর্ট স্থানান্তর, নির্বাচনকে ঘিরে প্যানেল বিরোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সুমনকে চেয়ারে বসানো নিয়ে দুই গ্রুপের মুখোমুখী অবস্থান। এই তিন ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চলছে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায়। যাকে ঘিরে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যা নিয়ে কয়েক দিন ধরে আদালত চত্বর ও বার ভবনে পাল্টাপাল্টি মিছিল-সমাবেশ ও স্লোগান দিচ্ছে।


এর ধারাবাহিকতায় দুইপক্ষের নেতাদের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটেছে। ঘটনার পরদিনই প্রকাশ্যে আদালতপাড়ায় দুই গ্রুপের পাশাপাশি অবস্থা হৈ-চৈ স্লোগান লক্ষ্য করা যায়। তা ছাড়া সর্বশেষ শোকজ পরবর্তীতে ২৪ ঘন্টার আগেই জবাব কিন্তু কোন সুরাহ নেই। একই সাথে ফোরামের নির্বাচন কার্যক্রম না থাকায় ফোরাম থেকে পদত্যাগ সব মিলিয়ে হ-য-ব-র-ল অবস্থা চলছে আইনজীবীদের মাঝে। আইনজীবী ফোরামের নেতাদের এই প্রকাশ্য বিরোধে সাধারণ আইনজীবীরা তীব্র বিব্রত বোধ করছেন।


সাধারণ আইনজীবীদের ভাষ্যমতে, বার সমিতির নির্বাচনসহ নানা ইস্যূতে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে সাধারণ মানুষের কাছে আইনজীবীদের পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তা ছাড়া একসময় একই রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ছিলেন তাঁরা। আইনজীবী সমিতিকেন্দ্রিক (বার) রাজনীতিতে একজনের হাত ধরেই অন্যদের উত্থান। এখন দুজন দুই গ্রুপ করে অনেকটাই মুখোমুখি অবস্থানে। দুজনের একজন নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান, অন্যজন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এইচ এম আনোয়ার প্রধান।


বর্তমানে দুটি শক্তিশালী প্যানেলে পরিণত হয়েছে বিএনপিপন্থী দুটি আইনজীবী গ্রুপ। তা ছাড়া সামনে জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন। এই নির্বাচনে এবার সভাপতি পদে কে প্রার্থী হবেন, মূলত তা নিয়েই গুরু ও শিষ্য—দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে দুজনেরই প্রভাব রয়েছে, পৃথক অনুসারীও আছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে যেসব কারণে বিরোধ তৈরি হয়, তার মধ্যে রয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পিপি (সরকারি কৌঁসুলি) নিয়োগ এবং আদালত স্থানান্তরের কার্যক্রম নিয়ে মতপার্থক্য। যা নিরসন না হলে আদালপাড়ায় এবারের নির্বাচনকে ঘিরে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষসহ নানা ঘটনার আশঙ্কা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।


আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই নানা ইস্যূকে ঘিরে বর্তমানে আদালতপাড়ায় বিএনপি দুটি গ্রুপ শক্তির গর্জন দিচ্ছেন। এড. সাখাওয়াত হোসেন খান ও এড. আবু আল ইউসুখ খান টিপুর সহযোগীতায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. সরকার হুমায়ূন কবির, অ্যাড. জাকির হোসেন, অ্যাড. এস.এম গালিব, অ্যাড.আজিজ মোল্লা, অ্যাড. সাইদুর রহমান, অ্যাড. কামাল মোল্লাসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবী।


অন্যদিকে আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার প্রধানের নেতৃত্বে আলাদা একটি শক্তিশালী গ্রুপ শক্তি পদর্শণ করছেন। তারা হলেন, পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদজাকির, অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক নয়ন, অ্যাডভোকেট আনজমু আহমেদ রিফাত, অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, অ্যাডভোকেট রাজিব মণ্ডল, অ্যাডভোকেট আবু রায়হানসহ আরো বেশকজন জুনিয়র আইনজীবী। বর্তমানে আদালতপাড়ায় এই দুই গ্রুপের মারমুখী অবস্থান রয়েছে।


গত (৬ অক্টোবর) আইনজীবী সমিতির সভাপতি সরকার হুমায়ূনের অফিসে মিটিংয়ে বসেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। পাশেই বিপরীত পক্ষে থাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধানের অফিসে লোকজন থেমে থেমে চিৎকার-চেঁচামেচি এবং হৈ-হুল্লোড় করতে থাকে। পরবর্তীতে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এগিয়ে গিয়ে বিপরীত অফিসে গিয়ে পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকিরকে জিজ্ঞাসা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়।


এসময় তাদের সঙ্গে যোগ দেন অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান। সেই সঙ্গে আইনজীবীরা একে অপরকে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে যান। সর্বশেষ উভয়পক্ষই আলাদা আলাদাভাবে জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে আলোচনা করে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরেন। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকির ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক নয়নসহ উভয়পক্ষের কয়েকজন আহতও হন। তারা স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। একই সঙ্গে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে সভাপতির রুমে ২ঘন্টা অবরুদ্ধ করা হয়। পরে পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। একই সাথে দুই পক্ষের ফোনে কোর্টে বহিরাগতদের আসতে দেখা যায়। তা ছাড়া সেখানে বিভিন্ন্ পক্ষের একাধিক যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা গেছে। তা ছাড়া সর্বশেষ দুই পক্ষে শোকজ ও শোকজের জবাবে ও শেষ পর্যন্ত কোন সুরাহ হয়নি।


আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচএম আনোয়ার প্রধান বলেন, আইনজীবীদের জন্য বিএনপির সমর্থিত সংগঠন হলো জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। আমি যদি কোনো সাংগঠনিক ব্যত্যয় ঘটিয়ে থাকি, তবে সেই ফোরাম নোটিশ দিতে পারত। আর বারের কোনো নিয়ম লঙ্ঘন হলে সমিতি ব্যাখ্যা চাইতে পারে। কিন্তু মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আমাকে এ ধরনের নোটিশ দেওয়ার এখতিয়ার রাখেন না। সাংগঠনিক গঠনতন্ত্র ও বিধিমালার অজ্ঞ লোকদের দায়িত্ব দিলে দল ও সংগঠনের জন্য তা বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায়।


নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকির বলেছিলেন, গত ২ থেকে ৩ মাস যাবৎ নারায়ণগঞ্জ কোর্টকে দুইভাগে ভাগ করা নিয়ে নানা আন্দোলন চলছে। সেই আন্দোলনের মধ্যে এক সময় এড. সাখাওয়াত সাহেব তার মুখেই বলেছিলেন আপাতত ৪ থেকে ৫টি কোর্ট পুরান কোর্টে চলে যাবে। সেই মন্তব্যের আমরা প্রতিবাদ করেছি সেই প্রতিবাদের কারণে সাখাওয়াত সাহেব আমাদের উপর ক্ষুদ্ধ।


তিনি বলেন, ক্ষুদ্ধতার আরেকটি বিষয় রয়েছে যে একজন অপ্রাপ্ত বয়স্ক আইনজীবী যিনি ২০২৪ সালে নারায়ণগঞ্জ বারের সদস্য হয়েছিল সুমন। এই নব্য একজন কোনভাবে নারী ও শিশু আদালতে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। যা নিয়ে আইনজীবীরা ক্ষুদ্ধ হলেও তা পাত্তা না দিয়ে প্রশাসক সাখাওয়াত সাহেব ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে গিয়েছে সেখানে ও তারা তাকে বসানোর আশ্বাস ও দিয়েছে। কিন্তু আমরা তা মানতে নারাজ তা নিয়েও একটি বিরোধ ছিল। এডিশনাল পিপি এড.আবুল কালাম আজাদ তার নিজস্ব ফেসবুক পোস্টে এড. সাখাওয়াত ও এড. টিপু গ্রুপকে ইঙ্গিত করে লিখেছেন, তারা ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার পায়তারায় রয়েছে। তা ছাড়া অযোগ্য লোককে নারী ও শিশু পিপির চেয়ারে বসাতে মরিয়া।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন