Logo
Logo
×

আদালতপাড়া

হাতাহাতির পর আড়াআড়ি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

হাতাহাতির পর আড়াআড়ি

হাতাহাতির পর আড়াআড়ি

Swapno



মঙ্গলবার আইনজীবী সমিতিতে বিএনপির দুই পক্ষের আইনজীবীদের হাতাহাতির ঘটনার ১২ ঘন্টা পড়েও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। তবে এবার হাতাহাতি কিংবা মল্লযুদ্ধের কোন ঘটনা না ঘটলেও পাল্টাপাল্টি স্লোগান আর ঈশারা-ইঙ্গিত আর পাশাপাশি টেবিলে আড়াআড়ি অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। মঙ্গলবার বিএনপির দুইপক্ষের আইনজীবীদের হাতাহাতির ঘটনায় জেলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। সাধারণ আইনজীবীরাও এমন ঘটনায় ত্যক্ত-বিরক্তি প্রকাশ করেছে। গতকাল পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও বিএনপির দুই গ্রুপের পৃথক অবস্থান স্পষ্ট করেছে বিএনপি ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতাদের চাপে দুই পক্ষই প্রকাশ্যে চুপসে গেলেও অভ্যন্তরীণ ক্ষোভে ফুঁসছে। যে কোন সময় এই ক্ষোভ উগলে দেয়ার সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায়না।


গতকাল (৭ অক্টোবর) দিনভর আইনজীবী সমিতি ভবনে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এইচএম আনোয়ার প্রধানের অনুসারীরা নিজেদের পক্ষের আইনজীবীদের নিয়ে অবস্থান করেন। একে-অপরকে উদ্দেশ্য করে তীর্যক স্লোগান দিলেও এদিন কোনো ধরনের হট্টগোল, হাতাহাতি বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। স্বাভাবিক দিনের মতোই আদালতপাড়া ও আইনজীবী সমিতি ভবনে আইনজীবীদের কাজকর্ম চলেছে।


নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ূন কবির জানান, ‘আজকে পরিস্থিতি অনেক ঠান্ডা। কোনো মারামারি বা হাতাহাতির ঘটনা নেই, আদালতপাড়ায় কোনো ঝামেলা নেই।’
দুপুর ১টার দিকে আইনজীবী সমিতি ভবনে আসেন নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। পরে তিনি ভবনের নিচতলায় অবস্থান নেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা আইনজীবীরা সেখানে অবস্থান করেন এবং নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন। পরে তাদের একসঙ্গে খাবার খেতেও দেখা যায়।


একই সময়ে একই ভবনের পাশাপাশি টেবিলে আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচএম আনোয়ার প্রধানকেও তাঁর অনুসারী আইনজীবীদের নিয়ে অবস্থান করতে দেখা যায়। তাঁরাও নিজেদের মধ্যে আলোচনা ও খাবার খাওয়ার পাশাপাশি সেখানে অবস্থান করেন।


দুপুর ২টার দিকে সাখাওয়াত হোসেন খান বার ভবন ত্যাগ করেন। এর কিছুক্ষণ পর আনোয়ার প্রধানও সেখান থেকে চলে যান। পরে দুপুর ২টা ১৬ মিনিটের দিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু আইনজীবী সমিতি ভবনে এসে নিচতলায় অবস্থান নেন।


এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে আইনজীবী সমিতি ভবনের দ্বিতীয় তলায় বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান লাঞ্ছিত হন । জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ জাকির ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক নয়নসহ উভয় পক্ষের কয়েকজন আইনজীবী আহত হন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।


আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হয়েছে। এক পক্ষে রয়েছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচএম আনোয়ার প্রধান এবং পিপি আবুল কালাম আজাদ জাকির। অন্য পক্ষে রয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান এবং সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ূন কবির। মঙ্গলবারের ঘটনার পর বুধবার দুই পক্ষকে একই ভবনে অবস্থান করতে দেখা গেলেও কোনো ধরনের সংঘাত হয়নি।


শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আদালতপাড়ার পরিস্থিতি শান্ত ও স্বাভাবিক ছিল। তবে আইনজীবী সমিতির নির্বাচন যতই এগিয়ে আসবে, এই ঘটনার রেশ এবং ক্ষোভের বিস্ফোরণ মাঝেমধ্যেই ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা সাধারণ আইনজীবীদের। তবে বিএনপির আরেকটি বড় অংশ এই দুই গ্রুপের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন সূত্র। তারা কোনভাবেই নিজেদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়াতে চাচ্ছেননা।


গত (৬ অক্টোবর) কালিবাজার নতুন ভবনে কোর্ট হস্তান্তর, নির্বাচনী কমিটির প্যানেল বিরোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সমুনকে চেয়ারে বসানোকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছিলো দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে। সেই জের ধরেই তর্কাতকির সূত্রে পাল্টাপাল্টি দফায় দফায় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। প্রকাশ্যে আইনজীবী সমিতির সভাপতি সরকার হুমায়ূনের অফিসে মিটিংয়ে বসেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।


পাশেই বিপরীত পক্ষে থাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধানের লোকজন থেমে থেমে চিৎকার-চেঁচামেচি এবং হৈ-হুল্লোড় করতে থাকে। পরবর্তীতে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এগিয়ে গিয়ে বিপরীতে থাকা পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকিরকে জিজ্ঞাসা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। এসময় তাদের সঙ্গে যোগ দেন অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান। সেই সঙ্গে আইনজীবীরা একে অপরকে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে যান। সর্বশেষ উভয়পক্ষই আলাদা আলাদাভাবে জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে আলোচনা করে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরেন।


এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকির ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক নয়নসহ উভয়পক্ষের কয়েকজন আহতও হন। তারা স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। একই সঙ্গে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে সভাপতির রুমে ২ঘন্টা অবরুদ্ধ করা হয়। পরে পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। একই সাথে দুই পক্ষের ফোনে কোর্টে বহিরাগতদের আসতে দেখা যায়। একই সাথে সেখানে বিভিন্ন্ পক্ষের একাধিক যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা গেছে। তা ছাড়া ইতিমধ্যে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিলে কিংবা আহত হওয়ায় মামলা করার হুঙ্কার দিলে ও কোনটাই হয়নি।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন