২৭ হাজার সিভিল মামলায় ৬ বিচারক
# মামলা জটে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় বিচার প্রার্থীরা
# ৮ মাসে সাড়ে ৫শ’ মামলা নিষ্পত্তি
# আদালতে বিচারক সংকট রয়েছে: অ্যাড. আনোয়ার প্রধান
আদালতের একটি তারিখ মানে অনেকের জীবনে আরেকটি অপেক্ষা। সেই অপেক্ষা কখনো জমির মালিকানা ফিরে পাওয়ার, আবার কখনো জীবনের শেষ সম্বল বলতে সম্পত্তি রক্ষা করা, কখনো পাওনা টাকা আদায়ের, কখনো অপরাধের বিচার পাওয়ার, আবার কখনো নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার। আদালতের নথিতে এসব কেবল মামলা নম্বর ও পক্ষের নাম কিন্তু প্রতিটি মামলার পেছনে থাকে মানুষের জীবনের একটি করে গল্প। বিশেষ করে আদালত পাড়ায় সিভিল মামলা নিয়ে প্রতিদিন শুনা যায় আজকে মামলার তারিখ পড়েছে শুনানি হয় নাই। অমুক তারিখে মামলার তারিখ পড়েছে। এই ভাবে দিনের পড় দিন বছরের পড় বছর চলে যায় মামলার বিচার প্রার্থীদের। অনেকে এক যুগ দুই পাড় হলেও মামলা শেষ হয় না। আবার অনেকে মরে গিয়ে ছেলে সন্তানদের উপর সেই মামলার চাপ এসে পড়েছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন আদালতে ৩১ জন বিচারক সংকট রয়েছে। তার মাঝে সিভিল জজ সংকট রয়েছে ৫ জন। আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন জানান, সিভিল জজ আদালতে ১১ জন বিচারক থাকার কথা থাকলেও ৬ জন বিচারক দিয়ে সিভিল মামলা কার্যচলমান রয়েছে। ৫ জন বিচারক সংকট থাকায় তাদের কার্যক্রম সিনিয়র সিভিল জজ দিয়ে চালাতে হচ্ছে।
বিজ্ঞ দায়রা জজ সহকারী মজিদ জানান, নারায়ণগঞ্জে সিভিল আদালতে ২৭ হাজার ১শ’৮৩ মামলা চলমান রয়েছে। ২০২৬ সনের আগষ্ট পর্যন্ত ৫শ’৭২ মামলা নিষ্পত্তি হয়।
অপরদিকে আইনজীবিদের মতে , এত বিপুলসংখ্যক মামলা বিচারব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তোলে। তবে মামলার সংখ্যা দিয়েই পুরো বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা মাপা যায় না। মামলা বাড়ার পেছনে যেমন নতুন বিরোধের সৃষ্টি আছে, তেমনি আছে বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, জনবল ও অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, সাক্ষ্য ও নথি ব্যবস্থাপনার সমস্যা, মুলতবি এবং আপিলের মতো স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া। ফলে প্রশ্নটি শুধু ‘মামলা এত বেশি কেন’ নয়। বরং আরও জরুরি প্রশ্ন হলো, একটি মামলা নিষ্পত্তি হতে এত সময় লাগে কেন এবং সেই অপেক্ষার মূল্য শেষ পর্যন্ত কে দেন?
বিজ্ঞ আইনজীবিদের মতে, বিচারকের সংখ্যা বাড়ালেই মামলার জট কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। একটি মামলার নিষ্পত্তির সঙ্গে বিচারকের পাশাপাশি যুক্ত থাকে আদালতের প্রশাসন, সমন জারি, সাক্ষীর উপস্থিতি, তদন্ত, নথি প্রস্তুত, আইনজীবী ও বাদী বিবাদী পক্ষগুলোর প্রস্তুতি এবং বিভিন্ন ধরনের আনুষ্ঠানিকতা। এসব জায়গার কোনো একটিতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হলে তার প্রভাব পড়ে পুরো মামলার ওপর। তাই মামলার জটকে শুধু বিচারকের স্বল্পতার সমস্যা হিসেবে দেখলে সমস্যাটির একটি অংশই দেখা হবে।
মো.নান্নু জানান, ২০১৪ সনে মোস্তফা, মোহাম্মদ গং আর এস রেকর্ড সংশোধন চেয়ে দেওয়ানী মামলা করে। এর মাঝে এই মামলা চলমান অবস্থায় মোস্থফা, মোহাম্মদ, সহ এই মামলার বাদী বিবাদী একাধিক ব্যক্তি মারা যান। সম্প্রতি এই মামলা নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করা হচ্ছে। অথচ এই মামলা দিনের পড় দিন তারিখ পড়ছে। কবে নাগাত মামলা নিষ্পত্তি আমরা নিজেরাও জানি না।
নারায়ণগঞ্জ আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. এইচ এম আনোয়ার প্রধান বলেন, নারায়ণগঞ্জ আদালতে বিচারকের সংকট রয়েছে। তবে সরকার ও আইন মন্ত্রণালয় মামলার জট কমাতে বিভিন্ন বহুমুখী ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তাছাড়া বিচারক সংকটের বিষয়টি আমরা বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। তারা শিগ্রই পদক্ষেপ নিবে বলে জানান। একটি মামলার নিষ্পত্তির সঙ্গে বিচারকের পাশাপাশি যুক্ত থাকে আদালতের প্রশাসন, সমন জারি, সাক্ষীর উপস্থিতি, তদন্ত, নথি প্রস্তুত, আইনজীবী ও বাদী বিবাদী পক্ষগুলোর পদক্ষেপের বিষয় রয়েছে। আমর্ াআশাবাদি বিচারক সংকট শিগ্রই সমাধান হয়ে যাবে।


