না.গঞ্জে বিচারক সংকটে আদালতে মামলা জট
# বিভিন্ন আদালতে ৩১ বিচারক সংকট
# বিচারকের কক্ষ আছে, বিচারক নেই : অ্যাডভোকেট আনোয়ার প্রধান
দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে বিচারহীনতার অভিযোগ সামনে এসেছে। নিম্ন ও উচ্চ আদালতে মামলার স্তুপ, দীর্ঘসূত্রতা ও উদ্দেশ্যহীন গন্তব্যে হতাশা ক্রমেই ক্ষোভে রূপ নিচ্ছে। দ্রুত বিচার দাবিতে বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ প্রতিবাদী হয়ে উঠছে। চরম এ বাস্তবতায় উচ্চ ও নিম্ন আদালতের বিচারক সংকটকে মামলা কার্যক্রমে স্থবিরতার জন্য দায়ী করা হচ্ছে। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জে বিচারক সংকটে ভুগছে বিচার প্রার্থীরা।
বিভিন্ন আদালতে বিচারক না থাকায় মাসের মাসের পর মাস তারিখ পড়ছে। কিন্তু মামলার শুনানি না হওয়ায় মামলা এগোচ্ছে না। এতে করে মামলা জটে দীর্ঘসূত্রিতা বেড়েই চলেছে। এদিকে সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ আদালতে খোঁজ নিয়ে যানাযায় বিভিন্ন কোর্টে ৩১ জন বিচারক সংকট রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন জানান, নারায়ণগঞ্জে বিচার বিভাগে ৩১ জন বিচারক সংকট রয়েছে। তার মাঝে যুগ্ম দায়রা জজ আদালতে ১৫ জন, সিজিএম বা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে ৫ জন, সিভিল জজ কোর্টে ৫ জন, মাদকদ্রব্য আদালতে ২ জন, পারিবারিক আদালতে ১ জন, ডিষ্ট্রিক জুডিশিয়াল এডমিনিস্ট্রেটর আদালতে ১ জন, এবং বানিজ্যিক আদালতে ১ জন বিচারক সংকট রয়েছে। এইভাবে বিচার বিভাগের ৩১ জন বিচারক সংকট রয়েছে। তাদের নিয়োগ কবে পুরণ হবে, তা কর্তৃপক্ষ বলতে পারবে।
আদালতে বিচার প্রার্থী মোতালিব সরকার জানান, আমার জমি নিয়ে সিভিল কোর্টে মামলা চলমান রয়েছে প্রায় ৭ বছর হয়ে যায়। রেকর্ড সংশোধনী মামলা চলছে। এই মামলার এখনো কোন অগ্রগতি দেখতেছি না। তিন মাস যাবত তারিখ পড়তাছে। কোর্টে আসলেই উকিল বলে বিচারক বসে নাই। কিন্তু তারা হাজিরা জমা দেয় এজন্য তাদেরকে খরচ দিয়ে চলে যেতে হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এড.আবুল কালাম আজাদ জাকির হোসেন বলেন, নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি আদালতে বিচারক সংকট রয়েছে। এই সংকটের লাইন দিন দিন বড় বড় হচ্ছে। দ্রুতই আমাদের এখানে বিচারক নিয়োগ দেয়ার প্রয়োজন।
নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ.এম আনোয়ার প্রধান বলেন, নারায়ণগঞ্জ আদালতের অবস্থা খুবই খারাপ। এখানে বিচারকের কক্ষ রয়েছে কিন্তু বিচারক নেই। মাত্র চারজন বিচারক নিয়ে ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্ট বিচার কাজ চলছে। নারায়ণগঞ্জটা যেন ট্রেনিং সেন্টার হয়ে গেছে , এখানে নতুন ম্যাজিষ্ট্রেট দিয়ে তারা ভালো জায়গা চলে যায়। নারায়ণগঞ্জে বিচারক সংকট দুরী করনের জন্য আমরা দাবী জানাই। এখনো খুবই দ্রুত বিচারক যে সংকট রয়েছে তা দুর করা হয়। অন্যথায় বিচার প্রার্থীদের বিচার পেতে দিনের পর দিন মাসের পর মাস বছর লেগে যাবে। বিচার প্রার্থীদের সস্তি দেয়ার জন্য হলেও বিচারক নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন।
আদালতের বিচারক সংকট প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জে.বি.এম. হাসান বলেন, এসব সংকটের বিষয়টি তাঁদের জানা রয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন ব্যবস্থা চালু করায় বর্তমানে একটি পরিবর্তনকালীন সময় চলছে। এ কারণে সহায়ক কর্মচারী নিয়োগে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে দ্রুতই বিচারক ও স্টাফ সংকট কাটিয়ে বিচারিক কার্যক্রমের গতি আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আদালতের কক্ষ ও অবকাঠামোগত সংকট নিয়েও কথা বলেন বিচারপতি জে.বি.এম. হাসান। তিনি বলেন, ‘অনেক বিচারককে গ্যারেজ কিংবা ডিসি অফিসের বারান্দায় বসেও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। বিচারক ও আইনজীবীদের জন্য উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা করে এসব সমস্যার সমাধান করা হবে।’


