মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান পদ নিয়ে নারী নেত্রীদের লড়াই
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
বিগত আওয়ামী লীগের শাসনামলে গডফাদার শামীম ওসমানের স্ত্রী সালমা ওসমান লিপি জেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে একভাবে রাজত্ব চালিয়েছে। জুলাই আন্দোলনের পরবর্তি সময়ে শামীম ওসমান সহ তার স্ত্রী পালিয়ে গেলে জেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান পদটি খালি হয়ে থাকে। অন্তবর্তিকালিন সরকারের আমলেও পদটি খালি ছিল। বিএনপির সরকার দায়িত্বে আসার ৯ মাস হলেও এখানো কাউকে নিয়োগ দেয়া হয় নাই। যদিও পদটিতে আসার জন্য বিএনপির একঝাক নারী নেত্রী লড়াইয়ে নেমেছে। তারা নিজেদের মত করে দৌরঝাপ করছে। এছাড়া পিছনের সময়ে কর্মকান্ডের ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়ার দাবী তুলেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পাওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির একাধিক নেত্রী লড়াইয়ে নেমেছে। তাদের মাঝে মহানগর সাবেক মহিলা দলের সভানেত্রী রাশিদা জামাল, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী রহিমা শরীফ মায়া, মহানগর মহিলা দলের সভানেত্রী দিলারা মাসুদ ময়না ও নাসিক সাবেক প্যানেল মেয়র আফসানা আফরোজ বিভার মধ্যে শুরু হয়েছে জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা। গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক এই পদটি নিজেদের অনুকূলে নিতে তারা এখন বিভিন্ন পর্যায়ে তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জের বিএনপির রাজনীতিতেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা নেত্রীদের রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত ভূমিকা অবশ্য ভিন্ন ধরনের। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রায় ১৫ বছরের শাসনামলে কারা রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন তাদের ত্যাগকে প্রাধান্য দেয়ার দাবী জানান সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এ সময়ে হামলা-মামলা ও নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে বিএনপির রাজনীতিতে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন বলে তার অনুসারীরা দাবি করেন। ফলে আন্দোলন-সংগ্রামে তার দীর্ঘদিনের ভূমিকার বিষয়টি চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা হওয়া উচিত বলে মনে করছেন তার সমর্থকরা।
অন্যদিকে আফসানা আফরোজ বিভা নারায়ণগঞ্জ মহানগর মহিলা দলের সদস্য। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি একাধিকবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছেন এবং প্যানেল মেয়রের দায়িত্বও পালন করেছেন। তার আরেকটি রাজনৈতিক পরিচয় হলো, তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা আবদুল মজিদ কমিশনারের ছোট ভাই বিএনপি নেতা হাসান আহম্মেদের স্ত্রী। নগর রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে তিনিও জেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া মহানগর মহিলা দলের সাবেক সভানেত্রী রাশিদা জামাল কোন অংশে পিছিয়ে নেই। তিনিও বিগত আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামে থেকে ভুমিকা পালন করেছে। রাজপথে থেকে হামলা মামলার শিকার হয়েছে। বিএনপির রাজনীতিতে তার ব্যপক ভুমিকা রয়েছে। তিনি এই পদটি কোন অংশে ছাড় দিতে রাজী নয়। সূত্রটির দাবি, দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা একজন জেলা পর্যায়ের নেত্রীকে বিবেচনায় না নিয়ে মহানগরের দুই শীর্ষ নেতার অন্য একজনের পক্ষে অবস্থান নেওয়াকে ভালোভাবে দেখছেন না মহিলা দলের নেত্রীরা। তাদের মতে, বিগত সরকারের আমলে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন, গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের ত্যাগ ও রাজনৈতিক ভূমিকার মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন।
এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত দলীয় ও প্রশাসনিক পর্যায়ে কার সুপারিশ প্রাধান্য পায় এবং জেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব কে পান। তবে এই নিয়োগকে ঘিরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমীকরণে নতুন কোনো বিরোধ তৈরি হয় কি না, সেদিকেও নজর রাখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।


