Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

তিনদিন বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক, সতর্ক পুলিশ-বিজিবি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

তিনদিন বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক, সতর্ক পুলিশ-বিজিবি
Swapno

নূন্যতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে টানা তিন দিনের শ্রমিক বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক হয়েছে। তবে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি ও এসআরবি সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে। গতকাল (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে ফতুল্লার কাঠেরপুল, রামারবাগ, শিবু মার্কেট ও নয়ামাটি এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখা গেছে। এসব এলাকার পোশাক কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের প্রতিদিনের মতো কাজে যোগ দিতে দেখা যায়। তবে এর আগে সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবার শ্রমিকেরা কাজে যোগ দেওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে কর্মস্থল থেকে বেরিয়ে আন্দোলনে অংশ নেন।




পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাঠেরপুল, শিবু মার্কেট ও নয়ামাটি এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শিবু মার্কেট থেকে বিভিন্ন সড়কে বিজিবি সদস্যদের টহল দিতেও দেখা গেছে। বাংলাদেশ ট্রাস্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এফ এম আবু সাঈদ বলেন, “এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। শ্রমিক ভাইয়েরা নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দিয়ে কাজ করছেন।” তবে শ্রমিক আন্দোলন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “কিছু দেশি-বিদেশি চক্রের কারণে মজুরি বোর্ডের একটি সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরও তাদের উসকানিতে শ্রমিকেরা আন্দোলন করছেন।”




অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়েছেন। কোনো শ্রমিক যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারেন, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।



ফতুল্লার পাশাপাশি নগরীর প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়াতেও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সেখানে পুলিশের পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীদেরও সড়কে দেখা গেছে। চাষাঢ়া শহীদ মিনারে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন অতিরিক্ত ডিআইজি। চাষাঢ়ায় পুলিশের সাঁজোয়া যান (এপিসি), জলকামান, বিজিবির দুটি গাড়ি এবং শিল্প পুলিশের দুটি ভ্যান মোতায়েন রয়েছে।




এদিকে নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীসহ ২১ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছে পুলিশ। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা এই মামলায় অজ্ঞাত আসামি হিসেবে এক থেকে দেড় হাজার জনকে আসামী করা হয়েছে।




বুধবার মামলাটি রেকর্ড করা হয় বলে জানান ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম। গত মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে শ্রমিকদের সাথে সংঘর্ষের পর থানার উপপরিদর্শক মিলন ফকির বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এজাহারে তিনি লিখেছেন, সরকার উৎখাতসহ দেশকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উস্কানি দিয়ে বেতন বৃদ্ধির নামে বিভিন্ন গার্মেন্টস শিল্পের শ্রমিকদের সংগঠিত করেছেন। বেলা আড়াইটার দিকে কয়েকটি পোশাক কারখানার এক থেকে দেড় হাজার শ্রমিককে নিয়ে তারা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক অবরোধ করে।আন্দোলনকারীরা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বারবার তাদের নিবৃত করার চেষ্টা করা হলেও বাধা উপেক্ষা করে ‘বিক্ষুব্দ শ্রমিক ও তাদের উস্কানিদাতারা’ পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল ছুড়ে মারলে দু’জন পুলিশ সদস্য আহত। পুলিশও তাদের ছত্রভঙ্গ করতে ৮৩ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।




এই মামলায় ফতুল্লার লামাপাড়ার মফিজুল ইসলামের ছেলে শামীম হাসান (২৮), কোতালেরবাগ বউবাজার এলাকার বিল্লাল হোসেনের ছেলে মো. মামুন (২৬), ফতুল্লা রেলস্টেশন এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে ওমর ফারুক (৩৮), রামারবাগ এলাকার ইমান তৌফিকের ছেলে ইমান ইমন (২৬), কোতালেরবাগ এলাকার প্রয়াত লিয়াকত হোসেনের ছেলে শাহিন আহম্মেদ ও কায়েমপুর এলাকার আক্তারুজ্জামানের ছেলে আতিকুর রহমান (২৫)। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমাণ্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ফতুল্লা ওসি মাহবুব আলম। মামলায় আসামিদের মধ্যে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোস্তফা কামাল (৪৮), সদস্য মজিবর রহমান (৪৬), জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি টিপু সুলতান (৪০), যুবলীগ নেতা আজমত আলী (৪৫), মোফাজ্জল হোসেন চুন্নু (৪৫) ও রাকিব হোসেনের (২৮) নামও রয়েছে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন