শ্রমিক আন্দোলন নিয়ে প্রতিক্রিয়া নেই জামায়াত ইসলামের
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
টানা চতুর্থ দিনের মত নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক আন্দোলন প্রশমনে নারায়ণগঞ্জ জুড়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছে প্রশাসন থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী সংগঠন ও সরকারী দলের নেতারা। তবে ১১দলীয় জোটের একটি দল এনসিপি নারায়ণগঞ্জে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তাদের দাবি তার শ্রমিক আন্দোলনের পক্ষ রয়েছেন। কিন্তু শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামীলীগের কোন প্রকার সংশ্লিষ্টতা থেকে তাঁকে তার বিরোধীতা বা মোকাবেলায় তারা রয়েছেন। কিন্তু ১১দলীয় জোটের অন্যতম রাজনৈতিক দল ও বর্তমান বিরোধী দল জামায়াত ইসলাম নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক আন্দোলনের পক্ষে ও বিপক্ষে কোন প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্যই প্রকাশ করেননি।
সূত্র বলছে, গত ২নভেম্বর থেকে নারায়ণগঞ্জে ৪নভেম্বর পর্যন্ত বৃহৎ শ্রমিক আন্দোলন হয়। শ্রমিক আন্দোলনে পুলিশ প্রশাসনের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এছাড়া ৩,৪নভেম্বর পুলিশের সাথে শ্রমিকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এদিকে আন্দোলনের প্রথম দিন থেকেই বর্তমান সরকার গঠিত মজুরি বোর্ডের উপর আস্থা রেখে কর্মক্ষেত্রে ফিরে যেতে শ্রমিকদের সরকারদলীয় নেতারা অনুরোধ জানান। অপরদিকে ৩নভেম্বর শ্রমিকদের সাথে ধাওয়া পাণ্টা ধাওয়ার পর এনসিপি জেলা ও মহাগরের নেতারা নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে শ্রমিকদের আন্দোলনের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে এক প্রকার শোডাউন করে। এরপর দিন ৪ নভেম্বর এমপি আল আমিন তার ব্যক্তিগত ফেইসবুক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে শ্রমিকদের পক্ষে সমর্থন জানান। কিন্ত্র এখনো নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জামায়াত ইসলামের পক্ষে এবং বিপক্ষে কোন প্রকার প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা যায়নি।
কিন্তু বক্তবলীতে কৃষকদের সাথে একটি আলোচনা সভায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াত ইসলাম আমীর আব্দুল জব্বার বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনে আওয়ামী লীগের লোকজন ঢুকে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। সরকারকে এ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন-ভাতা নির্ধারণ এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের খুঁজে বের করা উচিত। তবে নারায়ণগঞ্জ জামায়াত ইসলামের সংগঠনের পক্ষ থেকে কোন প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা যায়নি। এছাড়া জামায়াতের শ্রমিক সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের পক্ষ থেকেও রাজপথে কোন প্রকার ভূমিকা রাখতে দেখা যায়নি। অপরদিকে ৫নভেম্বর দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে চলমান শ্রমিক আন্দোলন ও সমসাময়িক ইস্যুতে আয়োজিত জরুরি সাংবাদিক সম্মেলনে চলমান শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ১৫ দফা দাবি পেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
দলটি অভিযোগ করেছে, একটি অশুভ শক্তি শ্রমিক আন্দোলনকে পুঁজি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা করলেও সরকার দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। একই সঙ্গে উসকানিদাতাদের না খুঁজে পুলিশ শ্রমিকদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হয়রানি করছে। গতকাল ৫নভেম্বর নারায়ণগঞ্জে টানা চতুর্থ দিন নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক আন্দোলন প্রতিরোধে নারায়ণগঞ্জ জুড়ে দাঁপিয়ে বেড়িয়েছে প্রশাসন থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী সংগঠন ও সরকারী দলের নেতারা। তবে ৫নভেম্বর শ্রমিকরা আন্দোলনে নামেনি কর্মস্থলেই ছিলেন তারা। যার কারণে নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক আন্দোলন বর্তমানে স্থিতিশীল পর্যায়ে রয়েছেন।


