প্রশাসনের দৃঢ় অবস্থানে লিংকরোড অবরোধের চেষ্টা পুরোপুরি পণ্ড
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
নূন্যতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো সড়কে নেমেছেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। গতকাল (৪ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের পাশে কুতুবআইল কাঠেরপুল এলাকায় মেট্রো গার্মেন্টের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকেরা। দাবি আদায়ে কাজ বন্ধ রেখে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোডে নামার চেষ্টা করছেন শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশ তাদের বেশ কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে। আগে থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। নারায়ণগঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) তারেক আল মেহেদী বলেন, ‘শ্রমিকরা মূল সড়কে ওঠার চেষ্টা করলে তাদের আমরা মজুরি বোর্ড গঠন হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত একটা আসবে জানিয়ে নিবৃত করার চেষ্টা করি। কিন্তু তারা না শোনায় পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়া হয়। আমরা কোনোভাবেই রাস্তা দখল করে জনভোগান্তি তৈরি করতে দেবো না।’ এ ঘটনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করার কথাও জানান তিনি।
এই এলাকায় পুলিশের ছোড়া টিয়ার গ্যাসে স্থানীয় একটি হোসিয়ারি কারখানার শ্রমিক জান্নাত (১৮) অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে পাঁজাকোলা করে সহকর্মীরা হাসপাতালের দিকে নিয়ে যেতে দেখা যায়। এদিকে নারায়ণগঞ্জের বিসিক শিল্পাঞ্চল, আদমজী ইপিজেড, সোনারগাঁ ও রূপগঞ্জের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। প্রশাসনের দাবি, কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা আন্দোলন করলেও জেলার সামগ্রিক শিল্প পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।এদিকে শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন।
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির জানান, ‘জেলার সব শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। কেবল কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা আন্দোলন করছেন। শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সামগ্রিকভাবে শ্রমিক অসন্তোষ যেন অন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে না পড়ে এবং শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম বজায় থাকে, সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন তৎপর রয়েছে।’ এর আগে গত সোমবার ও মঙ্গলবারও একই দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা। তাদের আন্দোলনের কারণে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষেও জড়ান শ্রমিকরা। এতে উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হন। ওই ঘটনায় চারজনকে আটকের কথাও জানিয়েছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) শামীম হোসাইন।


