Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

সেলিম ওসমানের ঘনিষ্ঠরাই আন্দোলনের ‘পৃষ্ঠপোষক’

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

সেলিম ওসমানের ঘনিষ্ঠরাই আন্দোলনের ‘পৃষ্ঠপোষক’
Swapno

ফতুল্লায় শ্রমিক আন্দোলনের অন্তরালে ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে সেলিম ওসমানের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ গার্মেন্টস মালিকদের নাম ‘পৃষ্ঠপোষক’ হিসেবে আলোচনায় উঠেছেন। একই সাথে আলোচনায় থাকা সেই গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারী জানিয়েছেন এমপি, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপারসহ বিএনপির নেতৃবৃন্দ। যাকে ঘিরে বর্তমানে নজরদারিতে রয়েছে সেই মালিকরা। এদিকে গত (০২ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জে শ্রমিকদের প্রথম আন্দোলনে মাইক্রো ফাইবার, মেট্রো গার্মেন্টস, আবির ফ্যাশন, পলমল গার্মেন্টস, এই গার্মেন্টসগুলোর শ্রমিকরাই আন্দোলন মাঠে নামে পরবর্তীতে বাকি আশপাশের গার্মেন্টসগুলোর শ্রমিকদের নিয়ে আসেন। একই সাথে ফতুল্লা অ্যাপারেলসের শ্রমিকরা ও অংশ নেয়। যা নজরে আসলেই জরিপ মোতাবেক বেড়িয়ে আসে সেলিম ওসমানের ঘনিষ্ঠ ৩ হাতিয়ারের নাম। যারা হলেন, বিকেএমইএ‘র সহ-সভাপতি অমল পোদ্দার যিনি মেট্রো গার্মেন্টসের (চেয়ারম্যান), বিকেএমইএ‘র ভাইস প্রেসিডেন্ট শামসুজ্জামান (এম এস জামান) যিনি মাইক্রো ফাইবার গার্মেন্টসের (চেয়ারম্যান) বিকেএমইএ‘র নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান যিনি জালকুড়ি ফতুল্লা অ্যাপারেলস গার্মেন্টসের (চেয়ারম্যান)। এরাই বর্তমানে সেলিম ওসমানের প্রেসক্রিপশনে আগামী ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগকে দেশে ফেরাতে কলকাটি নেড়ে দেশে নাশকতা সৃষ্টির পায়তারা চালাচ্ছেন। একই সাথে এদের সঙ্গেই সমর্থন জানিয়ে আন্দোলনে পৃষ্ঠপোষকতা চালিয়ে যাচ্ছেন। আবির ফ্যাশনের (চেয়ারম্যান) ড. তারিক উদ্দিন আহম্মেদ, পলমল গার্মেন্টসের (চেয়ারম্যান) নাফিস সিকদার, টাইমস সোয়েটার গার্মের্ন্টসের (চেয়ারম্যান) আজহারুল ইসলাম ভূঁইয়া। বর্তমানে দেশে নাশকতার পায়তারায় এরাই পেছন থেকে ইন্ধনদাতা হিসেবে উঠে এসেছে।



তা ছাড়া গত মঙ্গলবার রাতে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এস আই) মিলন ফকির বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনে সহিংসতার ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ। এতে ২১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও এক হাজার থেকে দেড় হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের দায়ের করা এজাহার অনুযায়ী, গত ৩ নভেম্বর দুপুর আড়াইটার দিকে ফতুল্লার শিবু মার্কেট, কাঠেরপুল ও ইরান টেক্সটাইল এলাকার আবির ফ্যাশন, পলমল গার্মেন্টস, মাইক্রো ফাইবার, মেট্রো গার্মেন্টস, টাইম সোয়েটার ও মডার্ন গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানার শ্রমিকেরা একত্রিত হয়ে চাষাঢ়া-সাইনবোর্ড লিংক রোডের শিবু মার্কেট থেকে ফতুল্লা স্টেডিয়াম পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করেছিলেন। পুলিশের তালিকায় ও এই চিহ্নিত আওয়ামী লীগকে সমর্থন করা গার্মেন্টসগুলোর নাম উঠে এসেছে।



এদিকে নারায়ণগঞ্জের বিসিক শিল্পনগরী ও আদমজী ইপিজেডে বেতন বাড়ানোর দাবিতে শ্রমিকদের কোন আন্দোলন লক্ষ্য করা না গেলেও গত ৩ দিন যাবৎ ফতুল্লার কাঠেরপুল, শিবুমার্কেট, জালকুড়ি এলাকার শিল্পকারখানাগুলোর শ্রমিকরাই দফায় দফায় ঝাঁপিয়ে পরছেন রাজপথে। একই সাথে তাদের উপর ভর করে এক পক্ষ পায়তারা শুরু করেছেন নাশকতার যা ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে। নারায়ণগঞ্জের বিএনপি নেতাকর্মীরা শুরু করে দলটির স্থানীয় সংসদ সদস্য ও দায়িত্বশীলদের কণ্ঠে অভিযোগ শোনা গেছে, শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির এই আন্দোলনকে পুঁজি করে পরিকল্পিত ভাবেই আড়াল থেকে ‘দাবার’ চাল চালছে আওয়ামী লীগ নেতারা। শ্রমিকদের উস্কে দেয়ার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কর্মীদের অনুপ্রবেশ করিয়ে চালানো হচ্ছে নাশকতা। আন্দোলনের প্রথম থেকেই আবির ফ্যাশন, পলমল গার্মেন্টস, মাইক্রো ফাইবার, মেট্রো গার্মেন্টস, টাইম সোয়েটার, জালকুড়ি এলাকার ফতুল্লা এপারেলস, এই গার্মেন্টসগুলোর শ্রমিকরাই আন্দোলনে নেমে অন্য গার্মেন্টসগুলো থেকে শ্রমিকদের ইট-পাটকেল ছুঁড়ে শ্রমিকদের নিয়ে এসে চাষাড়া-সাইনবোর্ড লিংক রোড বন্ধ করে অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন। এদিকে ‎নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকগণ সহ অন্যান্য পর্যায়ের নেতারা গা ঢাকা দিলেও তাদের রেখে যাওয়া দোসর ও অর্থ যোগানদাতারা গোপনে করছেন পৃষ্ঠপোষকতা। বিএনপি নেতাদের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। মূলত, শ্রমিক আন্দোলন ভিন্নক্ষাতে নিতে আড়াল থেকে পৃষ্ঠপোষকতা চালিয়ে যাওয়া এই আওয়ামী দোসর ও অর্থ যোগানদাতা কারা-সেই প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলে। এরই মাঝে অন্তরালের ‘মাস্টারমাইন্ড’ তথা ‘নাটেরগুরু’ হিসেবে সমালোচনার কাঠগড়ায় উঠে এসেছে উল্লেখিত গার্মেন্টসগুলোর মালিকদের নাম।
অভিযোগ উঠেছে, আন্দোলনের প্রথম দিন তথা (২ নভেম্বর) মেট্রো গ্রুপের মালিক বাবু অমল পোদ্দার সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে কোনো ধরনের আলোচনা বা পরামর্শ ছাড়া হুট করেই তার বৃহত্তর কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করেন। এতে কারখানার প্রায় ৫ হাজারেরও অধিক শ্রমিক একত্রিত হয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে।



স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, সুযোগ পেয়ে বিপুল সংখ্যক এই শ্রমিকদের সাথে মিশে যায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ছদ্মবেশী কর্মীরা। ভিতর থেকে শ্রমিকদের উস্কে দিয়ে লাঠি-সোটা নিয়ে শুরু করে তাণ্ডব। মারমুখী আচরণ সহ সড়ক অবরোধ করে টানা ৬ ঘন্টা ব্যাপী বিক্ষোভ চালিয়ে অচল করে তোলে ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের মত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এভাবেই শুরু হয় আন্দোলনের সূত্রপাত। বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের অভিযোগ, এভাবেই পরিকল্পিত ভাবে আন্দোলনের সুত্রপাত ঘটিয়ে আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নে মূখ্য ভূমিকা রাখছেন, মেট্্েরা গার্মেন্টস,মাইক্রো ফাইবার, আবির ফ্যাশন।



খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেট্রো ও পানাম গ্রুপের মালিক অমল পোদ্দার, মাইক্রো ফাইবার গ্রুপের মালিক শামসুজ্জামান, ফতুল্লা অ্যাপারেলস গার্মেন্টসের মালিক ফজলে শামীম এহসান। এরা তিনজনই আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ দোসর ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। নারায়ণগঞ্জের বিতর্কিত ও পলাতক সাবেক এমপি শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের সাথে তো বটেই, খোদ আওয়ামী লীগের দলীয় প্রধান তথা ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথেও সরাসরি ঘনিষ্ঠতা রয়েছে এদের। ক্ষমতায় থাকাকালীন বিভিন্ন সেমিনারে শেখ হাসিনা নিজ হাতে তাকে সংবর্ধনা প্রদানের মাধ্যমে পুরস্কৃত করেছিলেন। শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হিসেবে ও এদের পরিচিতি রয়েছে। এরাই বর্তমানে পেছন থেকে ইন্ধন দিয়ে শ্রমিকদের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে ছাত্রলীগ-যুবলীগ দিয়ে নাশকতা সৃষ্টি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার পায়তারায় রয়েছে।



নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, আমরাও চাই শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার পাবে। প্রধানমন্ত্রীও শ্রমিকদের পক্ষে রয়েছেন। আমি একজন গার্মেন্ট ব্যবসায়ী হিসেবে আমিও চাই আমার শ্রমিকরা ন্যায্য অধিকার পাবে। ইতোমধ্যে মজুরী বোর্ড গঠন করা হয়েছে। আপনারা ধৈর্য্য ধরুন প্রধানমন্ত্রীর উপর আস্থা রাখুন। ইনশাআল্লাহ আপনারা ন্যায্য অধিকার পাবেন।
তিনি বলেন, একাধিক গার্মেন্টসের নাম উঠে এসেছে তারা নাকি আন্দোলনে আওয়ামী লীগের পক্ষ নিয়ে ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে কাজ করছেন এদের তালিকা হচ্ছে  দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সাথে চক্রান্তকারীদের প্রতি হুশিয়ারী উচ্চারণ করে তিনি বলেন, কোন ধরনের ষড়যন্ত্রে কাজ হবেনা। যারা পিছনে থেকে ষড়যন্ত্র করছেন তারা সাবধান হয়ে যান।



জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, জনভোগান্তি তৈরী হয় এমন কিছু আমরা করতে দেইনি। সকলের সহযোগিতায় আমরা এটা প্রতিহত করতে পেরেছি। ফতুল্লার বিসিক, কাঁচপুর শিল্পনগরী, আদমজী ইপিজেডে, তারাবোসহ বিভিন্ন স্থানে শিল্পাঞ্চলে আইনশ্ঙ্খৃলা বাহিনীর পাশাপাশি বিএনপি নেতাকর্মীরাও অবস্থান নিয়েছিল। সাধারণ শ্রমিকদেরকেও আমরা ধন্যবাদ জানাই তারা উস্কানীদাতাদের ষড়যন্ত্রে কোন ধরনের ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালায়নি। ইতিমধ্যে যারা উস্কানীদাতাদা তাদের ফাইন্ড আউট করা হচ্ছে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, সাধারণ শ্রমিকদের আন্দোলনকে ভিন্নদিকে প্রবাহিত করার জন্য বিভিন্ন কুচক্রী মহল বিভিন্ন দিক থেকে উস্কানী দিচ্ছে। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা, শ্রমিকদের জানমালের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। যারা বিশৃঙ্খলা তৈরী করবে তাদের বিরুদ্ধে আমরা কঠিন আইনানুগ ব্যবস্থা নিব। ইতোমধ্যে বেশ কিছু উস্কানীদাতাকে আমরা আইনের আওতায় এনেছি। বাকীদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন