Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

নূন্যতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভে

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড চার ঘন্টা অবরোধ, ভোগান্তি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড  চার ঘন্টা অবরোধ, ভোগান্তি
Swapno

নূন্যতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধে প্রায় চার ঘণ্টা বন্ধ ছিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোডে যান চলাচল। এতে ভোগান্তিতে পড়েন বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা। গতকাল (২ নভেম্বর) বিকেল পাঁচটার দিকে শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।  নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মজুরির টাকা বৃদ্ধির দাবিতে বিভিন্ন কারখানর শ্রমিকরা লিংকরোডে অবরোধ করে ফলে যানচলাচল বিঘ্নিত হয়। কয়েক ঘন্টা বন্ধ থাকার পর শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়। এরআগে সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফতুল্লার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। আধা ঘণ্টা পর তারা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের ওপর অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। সড়কে পুলিশের সাঁজোয়া যান ও জলকামানের গাড়িও প্রস্তুত রাখা হয়।

দুপুর আড়াইটার দিকে লিংকরোডের ভূঁইগড় এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়। তবে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। বৃষ্টি থামার পর কিছুক্ষণের জন্য সড়কে যান চলাচল শুরু হয়। পরে শিবু মার্কেট এলাকায় শ্রমিকরা আবার জড়ো হলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

মেট্রো নিটিং অ্যান্ড ডাইং কারখানার শ্রমিক শহিদুল ইসলাম বলেন, তাঁর মাসিক বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ বাসাভাড়া দিতে হয় সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা। এক মাসের বাজারে আরও ১০ হাজার টাকা লাগে। চিকিৎসার একটি পরীক্ষা করাতেই খরচ হয় পাঁচ হাজার টাকা। বাকি খরচ কীভাবে মেটাবেন, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, তাঁদের একটাই দাবি মজুরি ৩০ হাজার টাকা করতে হবে।

হাবিবুর রহমান নামে আরেক শ্রমিক বলেন, চার সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী তিনি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে অবরোধের কারণে বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কেউ কয়েক কিলোমিটার হেঁটে, আবার কেউ বিকল্প পথে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

ফতুল্লা স্টেডিয়াম এলাকায় গরুবোঝাই পিকআপ ভ্যান নিয়ে যানজটে আটকে পড়েন চালক আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, ‘কাঞ্চন ব্রিজ থেকে রওয়ানা হয়েছিলাম গরু কেনার জন্য গোগনগর। কিন্তু এক জায়গায়ই গত দুই ঘণ্টা ধরে বসে আছি। সামনে কতটুকু যানজট তাও বুঝতেছি না।’
 
সর্বশেষ বিকেল সাড়ে চারটার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের সড়কের এক পাশে সরিয়ে নিলে যান চলাচল শুরু হয়। তবে শ্রমিকরা তখনো বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান শ্রমিকদের উদ্দেশে আহবান জানিয়ে বলেন, ‘কেউ উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করবেন না। সরকার আপনাদের নিয়ে কাজ করছে। আপনাদের বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত আসবে।’

শ্রমিকরা এ সময়ও তাঁদের দাবিমতো মজুরি বাড়ানোর দাবি জানান। ঘটনাস্থলে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ, জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির এবং মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে বিকেল পাঁচটার দিকে শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে যেতে শুরু করলে যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন