অপরিকল্পিত কনটেইনার পোর্ট নির্মাণ বাতিলের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর বরফকল এলাকায় অপরিকল্পিত ও জনস্বার্থবিরোধী কনটেইনার পোর্ট নির্মাণ প্রকল্প অবিলম্বে বন্ধ ও বাতিলের দাবিতে ডিসি অফিস কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা এবং ডিসির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরাম। গত ২৬ অক্টোবর স্মারকলিপি প্রদানের পর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এ সময় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাগরিক অধিকার ফোরামের উত্থাপিত দাবিগুলোর প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “নাগরিকদের উত্থাপিত দাবিগুলো আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরব এবং আমি নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরাম ও নারায়ণগঞ্জ নাগরিকদের এসব যৌক্তিক দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করি।”
উক্ত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম ও সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিগণ।
উক্ত মতবিনিময় সভায় নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরামের নেতৃবৃন্দরা বলেন, শীতলক্ষ্যা নদী নারায়ণগঞ্জের পরিবেশ, জনজীবন, নৌ-যোগাযোগ ও অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। নদীর নাব্যতা, স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ, নৌ-চলাচল এবং পরিবেশগত প্রভাব যথাযথভাবে যাচাই না করে কনটেইনার পোর্ট নির্মাণ করা হলে ভবিষ্যতে গুরুতর পরিবেশগত, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট সৃষ্টির আংশকা রয়েছে।
ফোরামের নেতৃবৃন্দ প্রকল্পটির নিম্নবর্ণিত কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা উল্লেখ করেন;
১. নদীর নাব্যতা ও নৌ-চলাচলে প্রতিবন্ধকতা: প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শীতলক্ষ্যা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, নাব্যতা ও নৌযান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
২. যানজট ও জনদুর্ভোগ: কনটেইনার পরিবহনে বিপুলসংখ্যক ভারী ট্রাক ও ট্রেইলার চলাচলের ফলে বরফকলসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট, সড়ক দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পেতে পারে।
৩. সরকারি অর্থের অপচয়ের আশঙ্কা: প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাবিত প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা, অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা এবং ব্যয়-সুবিধা বিশ্লেষণ ছাড়াই বাস্তবায়ন করা হলে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
৪. বিদ্যমান কনটেইনার টার্মিনালের সক্ষমতা: পানগাঁওসহ বিদ্যমান কনটেইনার টার্মিনালগুলোর সক্ষমতা ও সম্প্রসারণের সুযোগ যাচাই না করে নতুন প্রকল্প গ্রহণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
৫. পরিবেশ ও জনস্বার্থের ক্ষতি: প্রকল্পটির ফলে নদীদূষণ, পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা এবং স্থানীয় জনবসতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
৬. নিরপেক্ষ তদন্ত ও তথ্য প্রকাশ: প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন, অনুমোদিত ব্যয় ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত নথিপত্র জনসমক্ষে প্রকাশ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়।
নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরাম মনে করে, উন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজন; তবে তা হতে হবে পরিকল্পিত, পরিবেশবান্ধব, অর্থনৈতিকভাবে যৌক্তিক ও জনস্বার্থসম্মত। উন্নয়নের নামে নদী, পরিবেশ ও নাগরিক জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ফোরামের প্রধান দাবি হলো, শীতলক্ষ্যা নদীর বরফকল এলাকায় প্রস্তাবিত কনটেইনার পোর্ট নির্মাণ প্রকল্পের সব কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ ও স্থগিত করে প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা, পরিবেশগত প্রভাব এবং অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা নিরপেক্ষভাবে যাচাইপূর্বক জনস্বার্থবিরোধী এই প্রকল্প সম্পূর্ণ বাতিল করতে হবে।
নারায়ণগঞ্জের নদী, পরিবেশ ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক গৃহীত কতিপয় অপরিকল্পিত ও ব্যর্থ প্রকল্পসমূহ:
অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও ক্রুটিপূর্ণ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের(ঋবধংরনরষরঃু ঝঃঁফু) মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে অ-পরিকল্পিত প্রকল্প গ্রহণের কারণে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ অপচয় হচ্ছে।
১। রাজধানীর যানজট কমাতে এবং যোগাযোগের বিকল্প মাধ্যম তৈরির লক্ষ্যে প্রায় ১২২ কোটি ব্যয়ে ঢাকার চারপাশের ১১০ কিলোমিটার দীর্ঘ বৃত্তাকার নৌপথ (ঈরৎপঁষধৎ ডধঃবৎধিু) এবং ওয়াটার বাস সার্ভিস পরিচালনার দুর্বল পরিকল্পনা, সমন্বয়হীনতা ও নদীদূষণের কারণে প্রকল্পটি সম্পূর্ণরুপে ব্যর্থ হয়। প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ১২টি ল্যান্ডিং স্টেশন বা জেটি প্রধান শহরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকায় জেটি থেকে নেমে শহরের মূল সড়কে পৌঁছানোর জন্য কোনো ভালো সংযোগ সড়ক (অঢ়ঢ়ৎড়ধপয জড়ধফং) বা ফিডার সার্ভিসের অভাবে যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগ হ্রাসের পরিবর্তে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও নিয়মিত ড্রেজিং না করায় নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যায় এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির গভীরতা ও প্রস্থ কমে যাওয়ায় নৌযান চলাচল ব্যাহত হয়।
২। গাইবান্ধার বালাসী ঘাট থেকে জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাট পর্যন্ত নৌরুটে বর্তমানে দীর্ঘদিনের বন্ধ থাকা ফেরি চলাচলের বিকল্প হিসেবে নতুন করে যাত্রীবাহী লঞ্চ সার্ভিস চালুর লক্ষ্যে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক গৃহীত প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দুই পাড়ে আধুনিক ফেরিঘাট ও বিলাসবহুল টার্মিনাল ভবন নির্মাণ করা হয়। যথাযথভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই(ঋবধংরনরষরঃু ঝঃঁফু) না করে প্রকল্প গ্রহণ করায় যমুনা নদীর গতিপ্রকৃতি পরিবর্তন এবং তীব্র নাব্যতা সংকটের কারণে প্রায় ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক অবকাঠামো ও ফেরি পন্টুনগুলো বর্তমানে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে বিধায় বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থের অপচয় সংঘটিত হয়েছে।
৩। দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ নদী বন্দর বরিশাল একসময় যাত্রীদের পদচারণায় মুখর ছিল। দৈনিক চলাচল করতো ৮-১২টি লঞ্চ। তবে পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রী সংকটে বরিশাল-ঢাকা রুটে চলাচল করছে মাত্র দুটি লঞ্চ। যে কারণে প্রায় ফাঁকাই থাকে বন্দরের পন্টুনগুলো। তথাপিও বরিশাল নদীবন্দর সম্প্রসারণ এবং উন্নয়নে “বাংলাদেশ আঞ্চলিক অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন প্রকল্প-১ (চট্টগ্রাম-ঢাকা-আশুগঞ্জ ও সংযুক্ত নৌ-পথ খনন এবং টার্মিনালসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনাদি নির্মাণ) (২য় সংশোধিত)”-শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় শত কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। জাতীয় ও বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময়ে বরিশাল নদী বন্দর কেন্দ্রিক বিলাসী প্রকল্প গ্রহণ ভাবিয়ে তুলছে সচেতন নাগরিক মহলকে। যাত্রী সংকটের কারণে অব্যবহৃত ও অলস পড়ে থাক বিদ্যমান অবকাঠামো সম্প্রসারণে এরুপ উচ্চাবিলাসী আয়োজন সরকারি সম্পদের অপব্যবহার বলে মনে করছেন। এমনকি বন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প পরিবর্তন করে নদীপথ ড্রেজিংয়ে গুরুত্ব দেয়া জরুরি বলে মনে করেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা। তবে বিআইডব্লিউটিএ’র অভিমত সম্পূর্ণ বিপরীত। বরিশাল নদী বন্দরে বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পটি এখন না হলেও ভবিষ্যতে কাজে আসবে মর্মে মন্তব্য করেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট উধ্বর্তন কর্মকর্তাগণ। বরিশাল নদী বন্দরে একসময় পর্যাপ্ত পন্টুনের ব্যবস্থা না থাকায় লঞ্চগুলো নোঙর করতে চরম ভোগান্তি হতো। বিশেষ করে ঈদ-কোরবানি বা ছুটির দিনে পন্টুনে জায়গা না পেয়ে এক লঞ্চের পেছনে নোঙর করতে হয় অন্য লঞ্চকে। এক লঞ্চ থেকে অন্য লঞ্চে উঠতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন যাত্রীরা। তাই দীর্ঘ বছর ধরেই বরিশাল নদী বন্দরে পন্টুন বৃদ্ধির দাবি ছিলো দক্ষিণাঞ্চলবাসীর। তবে সেসময় যাত্রীদের সেই আর্তনাদ পৌঁছেনি বন্দর কর্তৃপক্ষের কানে। অথচ বর্তমান সময়ে অপ্রয়োজনেও বৃদ্ধিপাচ্ছে নদী বন্দরের পন্টুনসহ অকাঠামোগত অবস্থার। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের টার্মিনাল সম্প্রসারণ কাজ চলমান রয়েছে। উল্লেখ্য যে, পদ্মা সেতু উদ্ভোধনের পূর্বে ঢাকা নদী বন্দর হতে ৪৩টি নৌ-রুটে প্রতিদিন ৯০-৯৫টি লঞ্চ বিভিন্ন গন্তেব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতো। বর্তমানে ১০টি নৌ-রুট সম্পূর্ণরুপে এবং ১০-১২ নৌরুট আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে ঢাকা নদী বন্দর হতে ৩০টি নৌ-রুটে প্রতিদিন ৪৫-৫৫টি লঞ্চ বিভিন্ন গন্তেব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। পদ্মা সেতু উদ্ভোধনের পর নৌপথে যাত্রী সংখ্যা গড়ে প্রায় ৬০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, চাঁদপুর নদী বন্দর টার্মিনালটি ২০০৩ সালে নদীতে ভেঙ্গে গেলেও পুর্ননির্মাণের লক্ষ্যে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। চাঁদপুর নদী বন্দরে টার্মিনাল ও অন্যান্য অবকাঠামোগত সুবিধাদি না থাকায় দীর্ঘ প্রায় ২২-২৩ বছর ধরে যাত্রী সাধারণকে অমানবিক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। সুদীর্ঘ সময় চাঁদপুর নদী বন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা না করে উল্লেখিত বিলাসী প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে চাঁদপুর নদী বন্দরের টার্মিনাল সম্প্রসারণ কাজ চলমান রয়েছে।
পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ অতি ক্ষুদ্র ও দরিদ্র একটি দেশ। প্রকৃত মাথাপিছু আয় ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বিবেচনায় আমাদের বিলাসী জীবন-যাপনের কোন সুযোগ নেই। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে দেশে প্রতিদিন গড়ে ১০ জন প্রসূতি ও ১৭২ জন শিশু মারা যায়। ইউনিসেফের প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে প্রায় ৩৫ লাখ পথশিশু রয়েছে। পাশাপাশি দ্রারিদ্রতার কারণে ব্যানবেইস-এর তথ্যানুযায়ী দ্রারিদ্রতার কারণে প্রতি বছর গড়ে মাধ্যমিক স্তরে প্রায় ১০ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী এবং প্রাথমিক স্তরে গড়ে ১৬% শিক্ষার্থী শিক্ষাঙ্গন ত্যাগ করেছে। সেই দেশে এরুপ অপরিকল্পিতভাবে গৃহীত বিলাসী প্রকল্পসমূহ বাতিল পূর্বক সরকারী অর্থ লোপাট ও অপচয়কারী কর্মকর্তাগণের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে খানপুরে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক প্রায় ৬১৫ দশমিক ৭৫ কোটি টাকা ব্যায়ে অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার এবং বাল্ক টার্মিনাল (ওহষধহফ ঈড়হঃধরহবৎ ধহফ ইঁষশ ঞবৎসরহধষ) নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক বাণিজ্যের প্রসার: এই টার্মিনালটি চালু হলে চট্টগ্রাম, মংলা ও অন্যান্য বন্দর থেকে সরাসরি অভ্যন্তরীণ নৌপথে কন্টেইনার পরিবহন সহজ এবং বাংলাদেশ-ভারত নৌ-প্রটোকলের অধীনে উপ-আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে ও ট্রানজিট সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হলেও প্রকৃত বাস্তবতা ঠিক বিপরীত।
টার্মিনালটিকে সরাসরি কোনো এক্সপ্রেসওয়ে, মহাসড়ক বা প্রশস্ত আঞ্চলিক সড়কের সঙ্গে যুক্ত করার মতো পর্যাপ্ত অবকাঠামো বা বাইপাস রোড বর্তমানে নেই বিধায় শহরের সরু রাস্তা দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করা প্রায় অসম্ভব। প্রস্তাবিত খানপুর টার্মিনাল এলাকাটি অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ (বরফকল ও খানপুর সংলগ্ন)। টার্মিনাল চালু হলে প্রতিদিন শত শত ভারী যানবাহন (যেমন: লরি, বড় ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান) এই এলাকায় প্রবেশ করবে। ফলে কাছাকাছি থাকা হাসপাতাল, কলেজ, বিপনী-বিতান, শহীদ মিনার ও সরকারি কার্যালয় সংলগ্ন সড়কগুলোতে তীব্র যানজট তৈরি হবে এবং পুরো নারায়ণগঞ্জ শহর একটি নতুন নাগরিক সংকটে পড়বে বলে স্থানীয় নাগরিক সমাজ শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। খানপুরের খুব কাছেই কেরানীগঞ্জে অবস্থিত পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার পোর্ট (চধহমধড়হ ওঈঞ) ২০১৩ সাল থেকে চালু হলেও ব্যবসায়ীগণের আগ্রহের অভাবে এটি বছরের পর বছর ধরে পূর্ণ ক্ষমতায় চলতে পারছে না। উপরুন্ত, পাঁনগাও কন্টেইনার পোর্ট হতে ১৫-১৬ কি. মি. এবং মুক্তারপুর সামিট এ্যালায়ান্স পোর্ট লি: হতে মাত্র ৮-১০ কি.মি. দুরত্বে একই ধরনের আরেকটি টার্মিনাল নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একটি বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ত্রুটিপূর্ণ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের (ঋবধংরনরষরঃু ঝঃঁফু) অভিযোগ রয়েছে। শীতলক্ষ্যা নদীর পানি দূষণ এবং নাব্যতা সংকট কন্টেইনারবাহী বড় জাহাজ বা কার্গো চলাচলের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে টার্মিনালের কার্যকারিতা ব্যাহত হবে।


