হকার উচ্ছেদে কঠোরভাবে নামছে নাসিক প্রশাসক
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
নগরীর ব্যস্ততম বিবি রোড ও শায়েস্তা খান সড়ককে হকারমুক্ত রাখতে এবার কঠোর অ্যাকশনে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি সর্বশেষ হুশিয়ারী দিয়েছেন নগরীর ফুটপাত থাকবে হকারমুক্ত। গ্রীন এন্ড ক্লিন নগরী গড়ার লক্ষে এটাই মূল লক্ষ্য হিসেবে হাতে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন নাসিক প্রশাসক। এর আগে গত (২৫ অক্টোবর) রাতে হকার উচ্ছেদে মাঠে নামেন তিনি। সে সময় উচ্ছেদকালে হকাররা প্রশাসকের উপর হামলার চেষ্টা চালায়। একই সাথে হকারদের সঙ্গে সিটি কর্পোরেশন উচ্ছেদকারী দলের সদস্যদের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। এদিকে হকারদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করে দেওয়ার পরও ফুটপাতে হকাররা। এবার স্থায়ীভাবে ফুটপাত হকারমুক্ত করতেই আজ মাঠে নামছেন নাসিক প্রশাসক, সাংসদ সদস্যের রাজনৈতিক সচিবসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারাসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অনেকেই। গতকাল সকাল-বিকাল-সন্ধ্যায় শহরজুড়ে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে হকার উচ্ছেদের হুঁশিয়ারী সরূপ মাইকিং লক্ষ্য করা গেছে। এদিকে নানা সময় নানা হকার বিরোধী বক্তব্যে দিয়ে একাধিক নেতারা মাঠ ছাড়লে ও হকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত।
এদিকে গত (১৩ এপ্রিল) ৭ মাস পূর্বে নাসিক প্রশাসক ও বর্তমান এমপি একত্রিত হয়ে একটি টিম গঠন করে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে হকার উচ্ছেদে মাঠে কঠোরভাবে নেমেছিলেন। যাকে ঘিরে হকাররা একদিন আগেই মাঠ ছেড়ে পালিয়ে ছিলেন। পরবর্তীতে ৭ দিন পরই মাঠে এক রাজনৈতিক দলের এক ছত্রছায়ায় আন্দোলন করে পরবর্তীতে ঈদুল আযহার নামে দোহাই দিয়ে ফুটপাতে বসে। এর পর থেকেই ফের ‘চোর পুলিশ’ খেলে ফের হকাররা মাঠে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। অভিযোগ রয়েছে বিএনপি'র অনেক নেতাকর্মীরাই হকার বসিয়ে হকারদের থেকে নিচ্ছেন সুবিধা। যাকে ঘিরে নগরবাসীকে অস্বস্তি¡ দিতেই দিচ্ছেন শেল্টার। সেই সুবাদে উচ্ছেদে ও কর্ণপাত নেই হকারদের। এদিকে সিটি কর্পোরেশনের হকার উচ্ছেদের জন্য যেই উচ্ছেদ কর্মী পাঠানো হয় তারাও হকারদের থেকে সুবিধা নিচ্ছে। ফলে অভিযানের পূর্বেই তারা খবর পেয়ে যাচ্ছেন এবং সাময়িক সময়ের জন্য রাস্তা ফাঁকা রাখছেন।
এদিকে যেহেতু হকাররা নেতাদের বা উচ্ছেদ কর্মীদের চাঁদা দিচ্ছে তাই তাদের সাহসও বেড়ে যাচ্ছে। সেই চাঁদার সাহসেই প্রকাশ্যে নাসিক প্রশাসকের উপর হামলা করতে নিয়েছিলেন হকাররা নামক সন্ত্রাসীরা। এদিকে হকাররা বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে এতোই মূল্যবান ও নিরাপদ। যাকে ঘিরে নাসিক প্রশাসকের উপর হামলার চেষ্টায় ও নেই কোন অভিযোগ বা মামলা। এদিকে বেপরোয়া হকারদের কারণে দিনের পর দিন নগরবাসি থেকে শুরু পথচারীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া শহরের সড়ক দিয়ে চলাচল করতে না পাড়ায় ব্যবসায়ী নেতারা বিব্রত বোধ করেন। তাছাড়া হকারর এখন নগরবাসির জন্য বিষফোড়া হয়ে দাড়িয়েছে। তার মাঝে ফুটপাতের হকারদের থেকে চাদাঁবাজির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। বিএনপির একটি অংশ তাদের থেকে অবৈধ বিদ্যুৎ লাইন দেয়ার নাম করে চাদাঁ নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। যার একটি অংশ প্রশাসনের লোকজন পেয়ে থাকে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া, মিশনপাড়া, গলাচিপা, উকিলপাড়া, গ্রীনলেজ ব্যাংকের মোড়, দুই নম্বর রেলগেট, ডিআইটি, চেম্বার রোড, কালীরবাজার সর্বত্রই হকারের বিস্তার। ফলে দিনরাত যানজট লেগেই থাকে। আর ফুটপাতগুলো পথচারীদের নিরাপদে চলাচলের জন্য নির্মাণ করা হলেও এখন তা হকারদের স্থায়ী দখলে চলে গেছে। হকাররা এখন বঙ্গবন্ধু মুল সড়ক দখল করে নিয়েছে।
অন্যদিকে হকারদের দাবি, আর্থিকভাবে বিভিন্ন লোকজন ম্যানেজ করেই তারা বসছেন। বিনা পয়সায় বসছেন তাও নয়। মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতার ভাইকে দৈনিক টাকা দিয়ে থাকে তারা। এই টাকার ভাগ রাজনৈতিক নেতা, পুলিশের হাতেও পৌছে যায়।’ অথচ তাদের কারনে পথচারীরা চলাচল করছেন ঝুঁকি নিয়ে। এছাড়া হকারদের সাথে পথচারীদের তর্কবিতর্ক লেগেই যাচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, আগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের টাকা দিয়ে হকাররা বসতো। তাও মাঝেমধ্যে পুলিশ ও সাবেক মেয়র আইভীর জোড়া জুড়িতে অনেকেই উঠে যেত। কিন্তু ৫ আগস্টের পর আর হকারদের উঠতে হয়না। এখন বিএনপিপন্থি লোকজনকে টাকা দিয়ে স্থায়ীভাবে হকাররা বসে গেছে। কাপড়, জুতা, ফল, ইলেকট্রনিক্স, এমনকি খাবারের দোকানও স্থায়ীভাবে বসেছে ফুটপাতে। ফলে পথচারীদের বাধ্য হয়ে নামতে হচ্ছে মূল সড়কে। কিন্তু এখন বঙ্গবন্ধু সড়ক দিয়ে পথচারীরা হেটে চলতে পারে না।
নগর বিশ্লেষকরা বলছেন, ৫ আগস্টের পর মানুষ যেই আশা আকাঙ্খা করেছিলো এই শহর নিয়ে। তা বাস্তবে হয়নি। উল্টো দখলদারের কবলে চলে গেছে পুরো শহর। দখলদার আর শেল্টারদাতারা নিয়ন্ত্রন করছে পুরো শহরকে। কোটি কোটি টাকা আর কর্মঘণ্টা নষ্ট হলেও কারও কোন নজর নেই। কঠোরতা ছাড়া এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।সচেতন মহলের মতে, সবমিলিয়ে ফুটপাত ও সড়ক দখলের এই সংস্কৃতি এখন নগরজীবনের এক ভয়াবহ অভিশাপে পরিণত হয়েছে। দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে নাগরিক দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নগরবাসী। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আমরা হকারদের উচ্ছেদ করেছি। তাদের বিরুদ্ধে আবারও হকার উচ্ছেদ করা হবে। কেননা ফুটপাতে হকাররা বসতে পারবে না। তাদেরকে আমরা রেললাইনের সাথে বসার ব্যবস্থা করেছি।
এদিকে সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে নানা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত। গত এপ্রিল মাসে হকার উচ্ছেদে কঠোর ভূমিকা হাতে নেন সিটি প্রশাসক। সে সময় তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বর্তমান সংসদ সদস্য তার রাজনৈতিক সচিবসহ বিএনপি ও বিভিন্ন দলের রাজনৈতিকসহ সামাজিক নেতৃবৃন্দ হকারের বিপক্ষে নানা হুঙ্কার দিলে ও মাঠে নেই কেউ। সে বিষয়কে তোয়াক্কা না দিয়েই মাঠে একই সোচ্চার হয়ে উঠেছেন সিটি প্রশাসক। এদিকে গত রোববার নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত ও সড়ক হকারমুক্ত রাখতে আবারও উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছে নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করেন হকাররা। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু এতে ও পিছু ফিরেনি তিনি। হকারের বিরুদ্ধে কঠোর ভূমিকা পালনের হুঙ্কার দেন। বর্তমানে হকার উচ্ছেদে আজ মাঠে ব্যাপক ভূমিকায় নামছেন নাসিক প্রশাসক।


