ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী
২০২৪ সনের জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগের পতন ঘটার পর থেকে সারা দেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের নেতারা পালিয়ে যায়। কিন্ত্র ব্যতিক্রম ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি তার বাড়িতে অবস্থান করেন। এমনকি ওই বছলের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুর শোক দিবসে শ্রদ্ধা নিবেদন। আইভী নিজ বাড়ি থেকে অবস্থান করলেও তারই বড় ভাই আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি শামীম ওসমান পুরো ওসমানীয় সম্রাজ্য পালিয়ে যায়। পাড়া মহল্লার পদবিহীন নেতারা গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যান।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেত্রী হলেন সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও নিষিদ্ধ সংগঠন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। আর তার সেই প্রভাবশালী চরিত্রের পরিচয় দিয়েছেন আদালতপাড়ায় জয়বাংলা স্লোগানের মধ্য দিয়ে। এছাড়া কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে দলের মাঝে সমালোচিত হন। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে আবার আলোচনায় আসেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের সকল নেতারা পলাতক থাকলেও ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী নিজ বাড়িতে অবস্থান করে আদালতে এসে জয় বাংলা স্লোগান দেয়া অনেক বেশি সাহসিকতারই পরিচয় বহন করে।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় আদালতে হাজিরা শেষে স্লোগান দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। গত ১৩ অক্টোবর সকালে সেলিনা হায়াৎ আইভী স্বশরীরে নারায়ণগঞ্জের দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু শামীম আজাদের আদালতে হাজির হন। পরে শুনানী শেষে বের হয়ে গাড়িতে উঠার সময়ে জয় বাংলাকে দাবিয়ে রাখা যাবে না, জয় বাংলা। এ স্লোগান দিয়েই তিনি গাড়িতে চড়েন। তখন নেতাকর্মীরাও জয় বাংলা স্লোগান ধরেন। আর তার এই জয় বাংলাকে দমিয়ে রাখা যাবে না বলে গাড়িতে করে বাড়িতে চলে যান। তবে তিনি এই স্লোগান দিয়ে নিরব হয়ে রয়েছেন। কেননা তার এই স্লোগানের পরের দিনে আইভীর আইনজীবি অ্যাড. কাজলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পরে আর তিনি কোন আওয়াজ তুলেন নাই।
অন্যদিকে আগামী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও আইভী নিজে নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট ঘোষণা দেননি। কারামুক্তির পরও তাকে আগের মতো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় দেখা যায়নি। ফলে তার পরবর্তী প্রদক্ষেপ নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়ে রয়েছে। যদিও নাসিক নির্বাচনে তাকে বড় ফ্যাক্ট হিসেবে মনে করে রাজনৈতিক দলের নেতারা।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পরিচিত স্লোগান ঘিরে যে পরিবর্তিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে আইভীর এই অবস্থানকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর নিজ বাড়িতে ফিরে সরকার ও বিচার বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। ১২টি মামলায় ৩৯১ দিন কারাভোগের পর গত ৩ জুন রাতে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি নিজ বাসা চুনকা কুটিরে ফেরেন।


