বারবার হামলায় হকারদের আস্ফালন বাড়ছে
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
নারায়ণগঞ্জের হকারদের বেপরোয়া আচরণ নতুন কোন ঘটনা নয়। বিভিন্ন সময়ে নানা ভাবে শহরেরর ফুটপাত রাস্তার অবৈধ দখলদার হকাররা সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালিয়ে নিজেদের আচরণ প্রকাশ করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় ৪ মে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কর্মচারীরা হকারদের উচ্ছেদ করতে গেলে তাদের উপর বেপরোয়া হয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালান। এতে করে কয়েকজন আহত হন। এই ঘটনায় তখন নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় মামলা হয়েছে। গত ১৩ এপ্রিল ডাকঢোল বাজিয়ে শহরের ফুটপাতের হকারদের উচ্ছেদ করেন নাসিক প্রশাসক অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খাঁন। তার উচ্ছেদে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. আবুল কালাম সহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ গ্রহন করে। কিন্তু এই উচ্ছেদ বেশি দিনি টিকিয়ে রাকা যায় নাই।
এদিকে ২৬ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) শায়েস্তা খান সড়কে উচ্ছেদ করতে গেলে এসময় নাসিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে হকারদের ধস্তাধস্তি ঘটনা ঘটেছে। ওই সময়ে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান পৌঁছলে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন হকাররা। এমনকি এক পর্যায়ে তার ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
এর আগেও অবৈধ দখলদার হকার নামক সন্ত্রাসীরা নাসিক সাবেক মেয়র আইভীর উপর গুলি চালান। তখন গডফাদার শামীম ওসমান হকারদের পক্ষে থাকায় তারা পার পেয়ে যায়। কিন্তু এবার যেন হকররা পার না পান সে জন্য রাজনৈতিক বোদ্ধ মহল থেকে শুরু করে সকল নাগরিক সমাজ দাবী জানান এখনি তাদের লাগাম টেনে ধরতে হবে। এমনকি আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বার বার হামলা চালিয়েও রাজনৈতিক দলের নেতাদের শেল্টার থাকায় তারা পার পেয়ে যায়। সচেতন মহল প্রশ্ন তোলেন দখলদার হকারদের আস্ফালনে শেল্টার দেয় কারা। তাদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হলে তখন তারা এই অপকর্মে জরাতে পারবে না। যাতে ভবিষ্যতে কোন অবৈধ দখলদার কারো উপর হামলা করার সাহস না করতে পারে।
অপরদিকে সাবেক এমপি সেলিম ওসমান হকারদের নিয়ে অভিযোগ তুলে বলেছিলেন, শহরে হকার ব্যবসার আড়ালে অনেকেই মাদাক, ছিনতাই কারবারি করে বেরান। এমনকি তাদের অনেকেই ইভটিজিং সহ নানা অপরাধের সাথে জরিত রয়েছে। হকার দোকান বসা নিয়ে হত্যা করতে কর্ণপাত করেন এই হকার নামক সন্ত্রাসীরা। এছাড়া হকারদের শেল্টার দিয়ে একটি মহল ফায়দা নিয়ে থাকে। অভিযোগ রয়েছে মহানগর বিএনপি নেতার ভাই বিল্লাল মুসা নামের শ্রমিক নেতারা হকারদের থেকে চাদাঁবাজি করে বেড়ান। তাদের গণমার্ধমে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক স্খাাওয়াত হোসেন খান কঠোর ভাবে হকার দমনের ঘোষনা দিয়েও তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে নাই। এছাড়া এমপি আবুল কালামও হকাররা যেন ফুটপাতে বসতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসনকে। এমনকি নাগরিক সমাজ,নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী সমাজেরও দাবী শহরের মুল সড়কের ফুটপাতে হকার বসতে না পারে। কিন্তু হকাররা উচ্ছেদের ৩ সপ্তাহ না যেতেই হকাররা আস্ফালন দেখিয়ে আবারও বসা শুরু করেছে। এমনকি এবার নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াতের উপর হামলার করার চেষ্টা করেছে হকাররা। আর এতে করে আস্ফালন আবারও দেখিয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল জব্বার বলেন, আমরা বার বার বলে আসছি হকারদের বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। দুঃখের বিষয় হচ্ছে প্রশাসনের নমনীয়তার সুযোগে হামলায় চালিয়েছে। যা কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তাদের বেপারে কঠোর না হলে সামনে আরও পস্তাতে হতে পারে। তাই তাদের এখনি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আমি উচ্ছেদ কর্মীদের নিয়ে হকার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছিলাম। এ সময় হকাররা আমাদের উচ্ছেদ কর্মীদের ওপর হামলা করার চেষ্টা করে। তারা আমার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় লিপ্ত হয়। সেই সঙ্গে তারা তাদের মালামাল রাস্তায় ফেলে দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেছিল। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুর রহমান বলেন, প্রশাসক উচ্ছেদ অভিযানে এসেছিলেন। পরবর্তীতে হকারদের সঙ্গে এ নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। এরপর আমাদের সংবাদ দিলে আমি ও আমার পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যাই। সেই সঙ্গে পরিবেশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি।উভয় পক্ষের কেউই অভিযোগ করে নাই। তবে অভিযোগ হলে ব্যবস্তা নেয়া হবে।


