ফুটপাতের হকারের উপর বিল্লাল-মূসার ছায়া
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
আবু আল বিল্লাল খান ও মূসা মিয়া
নগরবাসী শহরের বাসিন্দাদের ভোগান্তির অপর নাম হকার। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ তাদের ভাই-বন্ধুসহ কর্মীদের সংশিষ্টতাকে ঘিরে বেপরোয়া হয়ে উঠছেন হকাররা। এদিকে অবৈধ হকার্স শ্রমিক দর নামক সংগঠন বিলুপ্ত করলে ও এখনো হকারদের মধু ভূলতে পারেনি সাবেক সভাপতি আবু আল বিল্লাল খান ও মূসা মিয়া। এদিকে হকার উচ্ছেদকে ঘিরে বর্তমানে উত্তপ্ত নগরী। এদিকে গত (২৫ অক্টোবর) রাতে হকার উচ্ছেদে মাঠে নামেন নাসিক প্রশাসক । এ সময় উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের সামনেই লঙ্কাকাণ্ড ঘটানোর চেষ্টা করেন উস্কানিতে নামা একটি হকার নামের শ্রেণি। বিক্ষুব্ধ হকারদের সঙ্গে সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদকারী দলের সদস্যদের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই সময়ে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান পৌছালে তাকে অবরুদ্ধ করে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করে হকার নামধারীরা। এমতা অবস্থায় অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। কিন্তু হকারদের এমন সাহসের পিছনে ইন্ধন কার তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এদিকে নানা তদন্তে আঙ্গুল উঠছে বিল্লাল ও মুসার দিকে।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, গত ৫ আগষ্টের পর থেকেই বিবি রোড ও শায়েস্ত খা রোডের হকারদের হর্কাস শ্রমিক দল নাম অবৈধ সংগঠনের সঙ্গে রেখে বেপরোয়া বানিয়েছেন বিল্লাল ও মুসা। এদিকে বর্তমানে ও মহানগর বিএনপির ব্যনারে করা বিভিন্ন পোগ্রামে বিল্লাল-মুসার নেতৃত্বে এই হামলায় অংশ নেওয়া হকারদের দেখা গেছে। এদিকে বর্তমানে ও অবৈধ বিদ্যুৎ লাইট, ফুটপাত বসা বাবদ মাসে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এই বিল্লাল-মুসা সিন্ডিকেট। তা ছাড়া পুরনো দিনের মতোই নিজের দোকানসহ নতুন সাবেক ও বর্তমান একাধিক দোকান বসিয়ে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। এদিকে নগরবাসীকে স্বস্তি¡ দিতে গত (১৩ এপ্রিল) ঘোষণা দিয়ে নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত ও এমপি আবুল কালামের নেতৃত্বে সকল সামাজিক, বিভিন্ন্ দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা থাকলেও এই হকারদের উচ্ছেদের সুফল পায়নি নগরবাসী। তা ছাড়া হকার আর বসতে পারবে না বলে বার বারই হুঙ্কার দিয়েছিলেন সাখাওয়াত-কালাম। তবে হকাররা উচ্ছেদের পর এবার নানাভাবে আবারো সব দখলে নিয়েছেন।
হকার সূত্র জানিয়েছে, হর্কাস শ্রমিক দলের কমিটি বিলুপ্ত হলে ও সাবেক সভাপতি আবু আল বিল্লাল ও সাধারণ সম্পাদক মূসা মিয়া হকারদের পিছনে নাটের গুরু হয়ে কাজ করছেন এবং নিজেদেরই সভাপতি-সেক্রেটারী দাবি করে আগের মতোই ভয়-ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি অবহৃত রেখেছেন। ইতিমধ্যে হকার উচ্ছেদের ঘোষণায় রমজানের শেষ লগ্নে হকারদের বিশাল বহর নিয়ে বিল্লাল ও মূসা সিটি কর্পোরেশন গিয়েছিলেন। সেখানে প্রশাসক সাখাওয়াত হকারদের স্বার্থে নানা দিক-নির্দেশনা পালন করে বসার নির্দেশনা থাকলে ও বিশৃঙ্খলায় সেই পুরনো কায়দায় বসে হকাররা। যাকে ঘিরে এবার কোন পূর্ণবাসনের জন্য জায়গা বানালে ও তা সুফলে আসেনি। তাছাড়া গত ২৫ এপ্রিলের ঘটনার পরে ও ফুটপাত ছাড়েনি হকাররা। তা কিসের ও কোন নেতার ইন্ধন তা নিয়ে নানা আলোচনা। সেই খুটির জোরে আবার ও ‘চোর পুলিশ’ খেলা করে ও হকাররা বসছে। আবার নিয়মিত খাচ্ছেন উচ্ছেদকর্মীদের কাছে দৌড়ানি। এদিকে উচ্ছেদের পর শোনা গুঞ্জন মোতাবেক ১৩,১৪,১৫,১৬ কোন হকার মাঠে ছিলো না। কিন্তু পরবর্তীতে (১৭ এপ্রিল) কয়েক জায়গাতে বিক্ষিপ্তভাবে দোকান বসালেও সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদকারী দল বাধা দেয়। পরবর্তীতে নানাভাবে কৌশলে ম্যানেজে ফের চকি নিয়ে স্থায়ী দোকান বসান। বর্তমানে হকারদের পূর্নবাসন করতে সিটি কর্পোরেশন জায়গা দিলে ও সেখানে যেতে নারাজ হকাররা।
এদিকে বর্তমানে হকাররাদের উচ্ছেদের কঠোরতা দেখাতে মাঠে নামছে নাসিক প্রশাসক। বর্তমানে হকারদের বিপক্ষে হুঙ্কার দিয়ে নেতারা লাপাত্তা হলে ও হকারদের বিরুদ্ধে বৃদ্ধপরিকর প্রশাসক সাখওয়াত। বর্তমানে হকারের হামলাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, হকারদের অনেক ছাড় দেওয়া হয়েছে। তাদের বিকল্প ব্যবস্থা করে দেওয়ার পরও যদি তারা নির্ধারিত স্থানে না যায়, তাহলে নগরীর প্রধান সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করার সুযোগ আর দেওয়া হবে না। কিন্তু বিল্লাল ও মুসার বাহিনীকে ঘিরে সমালোচনা বাড়ছেই।
হকারদের অনেকেই বলছেন, বর্তমানে জোড়ালো তারা এবার আক্রমনে যাবেন। উচ্ছেদকারী দল আসলে তাদের উপর হামলা করবেন। হকাররা এবার হামলা করে সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদকারী দলকে মানসিকভাবে চাপে রাখতে চাচ্ছেন। তারা মনে করেন কয়েকটি হামলা হলে উচ্ছেদকারী দল পিছু হটবে। সেই পরিকল্পনায় বর্তমানে ঝাঁকে ঝাঁকে বসতে শুরু করেছে হকার। তা ছাড়া হকাররা অনেকেই বলছেন, আমাদের পূর্ণবাসন না করলে আমরা ফের আন্দোলনে নামবো নারায়ণগঞ্জ অচল করে দিবো এমন হুঙ্কার ও দিচ্ছেন। এদিকে হকারমুক্ত নগরী বাস্তবায়নে আরো কঠোর হতে হবে প্রশাসক ও এমপিকে। তা ছাড়া হকারদের কান ভারী করা বিল্লাল ও মূসাদের বিরুদ্ধে কঠোর একশ্যান নিতে হবে।
তা ছাড়া হকারদের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানান, এবার হকারদের পক্ষে দৃশ্যমান কেউ নাই। বিগত সময়ে যখন আইভী হকার উঠাতেন তখন শামীম ওসমানের মত শক্তিশালী মানব পক্ষ নিতেন। এবার সে ধরনের কেউ নাই। পেছন থেকে সাবেক হকার্স শ্রমিক দল সাথে রয়েছেন। কিন্তু সরকার ও প্রশাসক ফুটপাত হকারমুক্ত রাখার জন্য বদ্ধপরিকর। আর যার মূল হোতা সেই দুই পান্ডব।
এদিকে আরো অভিযোগ রয়েছে, হর্কাস দলের সভাপতি আবু আল বিল্লাল, চাষাড়া সোনালী ব্যাংক মোড়, মেডিনোভার পাশে, গির্জাসহ দিপা সুইটের সামনের ফুটপাতে একাধিক দোকান বিভিন্ন নামে পরিচালনা করতেন। তা ছাড়া প্রায় ৫,৬টি স্থানে ফুটপাতের জায়গা দখল করে দোকান নামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তা ছাড়া হকার্স শ্রমিক দলের কমিটির নামে নিয়মিত মোটা অংকের চাঁদা ও দিতে হতো এই কথিক বিল্লালকে। একই সাথে কালীরবাজারসহ চাষাড়া এর আশপাশের ফুটপাতে একাধিক দোকান বসিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখতেন এই মুসা মিয়া। যেখান থেকে নিয়মিত উঠতো চাঁদা পকেট থাকতো ভারী। কিন্তু এবার তা না থাকায় বেকায়দায় মুসা মিয়ারা। যাকে ঘিরে আবার ও ফুটপাত দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে এই চাঁদাবাজরা। বর্তমানে নানা কায়দায় নাড়ছেন কলকাঠি।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া, মিশনপাড়া, গলাচিপা, উকিলপাড়া, গ্রীনলেজ ব্যাংকের মোড়, দুই নম্বর রেলগেট, ডিআইটি, চেম্বার রোড, কালীরবাজার সর্বত্রই হকারের বিস্তার। চাষাঢ়া, দুই নম্বর রেলগেইট সহ গুরুত্বপূর্ন মোড়ে অন্তত ৮/১০ টি করে অবৈধ স্ট্যান্ড বানিয়ে রেখেছে ইজিবাইকগুলো। ফলে দিনরাত যানজট লেগেই থাকে। আর ফুটপাতগুলো পথচারীদের নিরাপদে চলাচলের জন্য নির্মাণ করা হলেও এখন তা হকারদের স্থায়ী দখলে চলে গেছে। হকাররা এখন বঙ্গবন্ধু মুল সড়ক দখল করে নিয়েছে। যদিও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে সাখাওয়াত হোসেন খাঁন দায়িত্ব নেওয়ার হাকডাক করে হকারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ করলে ও তা ১০ মিনিটের।
এদিকে শহরের বিবি রোড ও কালীরবাজার এলাকায় দেখা যায় ফুটপাতে একটুকু জায়গাও ফাঁকা নেই। মানুষের চলাচলের জন্য জায়গা না থাকায় নেমে যাচ্ছেন সড়কে। এতে করে সড়কে যান চলাচল করছে ধীরগতিতে। অন্যদিকে হকারদের দাবি, আর্থিকভাবে বিভিন্ন লোকজন ম্যানেজ করেই তারা বসছেন। বিনা পয়সায় বসছেন তাও নয়। বিল্লা ও মুসাকে দৈনিক টাকা দিয়ে থাকে তারা। এই টাকার ভাগ রাজনৈতিক নেতা, পুলিশের হাতেও পৌছে যায়।’ অথচ তাদের কারনে পথচারীরা চলাচল করছেন ঝুঁকি নিয়ে। এছাড়া হকারদের সাথে পথচারীদের তর্কবিতর্ক লেগেই যাচ্ছে। বর্তমানে বিল্লাল ও মুসার বিরুদ্ধে কঠোর একশ্যানে যেতে হবে দল ও বর্তমান প্রশাসকসহ প্রশাসনের।


