বক্তাবলী লুটপাটে একাট্টা আ.লীগ-বিএনপি সিন্ডিকেট
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বক্তাবলীকে লুটে খাচ্ছে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের এক ঝাঁক চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যুরা। যাদের নেতৃত্বেই বর্তমানে ধলেশ্বরী ও বুড়িগঙ্গা নদীতে গ্রাফের মাধ্যমে অবৈধভাবে নদীর মাটি কাটা, ইট ভাটার প্রতি ইট প্রতি চাঁদাবাজি, বাল্কহেড স্ট্যান্ড বানিয়ে চাঁদাবাজি, ইট ভাটায় মাটি ফেলতে স্কয়ার প্রতি চাঁদাবাজি, শ্রমিকদের কাজের উপরে চাঁদাবাজিসহ ভূমিদস্যুতাসহ বক্তাবলী জুড়ে নানা অপকর্ম চালিয়ে মাসে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এই দুই দলের চিহ্নিত বাহিনীরা। যা নিয়ে বক্তাবলী জুড়েই উঠছে আলোচনা ও সমালোচনা। এদিকে ইটভাটা মালিকরা নাজেহাল হলে ও ক্ষমতার ভয়ভীতি দেখিয়ে চালাচ্ছেন নির্যাতন, যাকে ঘিরে জিম্মি ইটভাটা মালিকরা। এদিকে কিছুদিন পূর্বে ভাগ-ভাটোয়ারা নিয়ে কিছুদিন পূর্বে টেঁটাযুদ্ধ হলেও হয়নি সুরাহা ফের বক্তাবলীতে টেঁটুযুদ্ধের শঙ্কা রয়েছে।
এদিকে অনুসন্ধানে এ সকল নানা অপকর্মের শেল্টার দাতা হিসেবে ফতুল্লার দুই প্রভাবশালী নেতারা নাম উঠে আসে। একই সাথে তাদের শেল্টারে বর্তমানে এই সকল অপকর্মের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রধান, সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি ফকির। এদিকে টেম্পু শ্রমিক ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক আবদুল কাদির সিপাহীর মধ্যস্ততায় বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক সামেদ আলী, ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্পাদক হাসান আলী, বক্তাবলী ১ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক লীগের সহ-সভাপতি মন্নেক খান, যুগ্ম সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন মেসি, মোতালেব খা, বালুরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন মেম্বারসহ সাহেদ আলীর ছেলে ৬ ছেলে রাজীব, হৃদয়, সজীব, ওসমান গনিসহ আরো দুই জন। এদিকে আওয়ামী লীগের এই নেতাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী একাধিক মামলা থাকলে ও বিএনপির সহায়তায় সব এখন মাফ বললেই চলে।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, ইতিমধ্যে ধলেশ্বরী ও বুড়িগঙ্গা নদীতে গ্রাফের মাধ্যমে অবৈধভাবে নদীর মাটি প্রকাশ্যে উত্তোলন করে স্থানীয় ইট ভাটায় দৈনিক গড়ে প্রায় ২০০ ট্রলার মাটি বিক্রি। সে হিসেবে প্রতিদিন প্রায় ছয় লাখ টাকা এবং মাসে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা অবৈধ মাটি বিক্রি বিক্রি করছেন। একই সাথে প্রতাবনগর থেকে সিপাহীপাড়া পর্যন্ত প্রায় ১০টি ইটভাটা থেকে ইট প্রতি ১ টাকা করে সপ্তাহে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা চাঁদাবাজি, তা ছাড়া প্রতাবনগরে বাল্কহেড রাখতে দিতে হয় নিয়মিত ৫০০ টাকা একই সাথে ইটভাটায় মাটি ফেলতে স্কয়ার ফিট হিসাবে নিয়মিত এই খাদে প্রায় ৫০ হাজার মাসে ১৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করা হয়। একই সাথে প্রতাবনগর থেকে সিপাহীপাড়া পর্যন্ত ১০টি ইটভাটার প্রায় ৫০০ শ্রমিকদের কাজের বিনিময়ে চাঁদা দাবি করেন এই আওয়ামী লীগ-বিএনপি বাহিনী। তা ছাড়া একই সাথে এলাকা জুড়ে ব্যাপক ভূমিদস্যুতায় ব্যস্ত এই বাহিনী। বর্তমানে বক্তাবলীবাসীর চোখে ধুলো দিয়ে সব লুটে নিচ্ছেন দুই দলের নেতারা।
এদিকে গত (১০ অক্টোবর) ইটভাটার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে। এতে একজন গুলিবিদ্ধসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। এদিকে বক্তাবলীতে আধিপত্য বিস্তার ও ইটভাটার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদের সঙ্গে অটোরিকশা টেম্পু শ্রমিক ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক আবদুল কাদির সিপাহীর ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক হাজী সামেদ আলীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। আবদুল কাদির হলেন সামেদ আলীর অনুসারী। যাকে ঘিরে দীর্ঘদিন সংঘর্ষে রনক্ষেত্র হয় বক্তাবলী এলাকায়।
এর আগে গত (২৮ সেপ্টেম্বর) মাটি কাটার ভাগ-ভাটোয়ারা নিয়ে বক্তাবলী ইউনিয়নে এনসিপির সাংগঠনিক সভা শেষ করে বের হবার পর নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটে। এদিকে হামলার ঘটনায় গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া বারোটার দিকে এনসিপি’র যুব উইং জাতীয় যুবশক্তির জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হাসান বাদী হয়ে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলাটি দায়ের করেন। এ মামলায় আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। মামলায় আসামি করা হয়েছে: ফতুল্লা থানাধীন বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদ (৪৫), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাসেল প্রধান (৫০), বক্তাবলী ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের (৩০)সহ আরো অনেকের নাম উল্লে করে মামলা করা হয়। এদিকে গত ৩০ (সেপ্টেম্বর) অবৈধভাবে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির স্থানীয় নেতাদের কথিত ‘মাটি কাটা’ ইট ভাটা নিয়ন্ত্রণ সিন্ডিকেটের বৈঠকে ডিবি পুলিশের হানার অভিযোগ উঠেছে। মাটি কাটা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সেই কথিত সিন্ডিকেট টিকিয়ে রাখতে ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক কাদির সিপাহীর বাড়িতে বৈঠকের আয়োজন করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। তবে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ বলছে, তাদের অভিযানটি ছিল নিয়মিত অভিযানের অংশ কোনো রাজনৈতিক বৈঠককে কেন্দ্র করে অভিযান চালানো হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই বৈঠকে বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক সামেদ আলী, ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্পাদক হাসান আলী, বক্তাবলী ১ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক লীগের সহসভাপতি মান্নেক খান, যুগ্ম সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন মেসিসহ ১৪-১৫ জন উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রের আরও অভিযোগ, ওই বৈঠকে বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রধান, সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউর রহমান ফকির, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আকবর আলী সুমন, ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সলিমউল্লাহ প্রধান জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক মীর আলমগীর হোসেন, ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ বাদশা মিয়া এবং বিএনপি নেতা মোহাম্মদ মহসিন মিয়া, আমির হোসেন বেপারী ও মোহাম্মদ দিদার হোসেনসহ আরও কয়েকজন নেতাকর্মীর সংশ্লিষ্টতা ছিল। ডিবির সদস্যরা কাদির সিপাহীর বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে থাকা কয়েকজন সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় কয়েকজন নারী ডিবির সদস্যদের সামনে অবস্থান নেন। এদিকে বর্তমানে টেঁটাযুদ্ধের ঘটনাসহ নানা অভিযোগে সাহেদ আলী বাহিনীর ১৯ সদস্য গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অবৈধভাবে মাটি কাটার ফলে নদীর নাব্যতা ও পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও বসতবাড়ি হুমকির মুখে রয়েছে; যেকোনো সময় বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিতে পারে। তা ছাড়া স্থানীয় বিএনপি নেতারা ইট ভাটাকে পুঁজি করেই অবৈধপ্রন্থায় নদী থেকে মাটি কেটে দিয়ে, অনুমোদন ছাড়াই ইট ভাটা চালাতে সহযোগীতাসহ ইটভাটা থেকে চাঁদাবাজি। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ একত্রিত হয়ে ক্ষমতার জোরে হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা। আওয়ামী লীগ-বিএনপির সিন্ডিকেট বিষয়ে জানতে বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রধান অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, এগুলোর সাথে আমি যুক্ত নই। আমি চাই আওয়ামী লীগের যারা জড়িত আছে সকলে গ্রেপ্তার হোক।


