Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

নাসিক ১৮নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি নেতা আরিফ’র নামে

ট্রাকের লোড-আনলোড থেকে লাখ টাকা চাঁদাবাজি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

ট্রাকের লোড-আনলোড থেকে  লাখ টাকা চাঁদাবাজি
Swapno

সরকার পরিবর্তন হলেও, বন্ধ হয়নি চাঁদাবাজি। দিন যত যাচ্ছে চাঁদাবাজের সংখ্যা তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে সরকার ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। কিন্তু সরকারি দলের নামধারী কিছু নেতাদের কারণে চাঁদাবাজ মুক্ত হচ্ছে না দেশ। গত দুই বছরে দেশের বিভিন্ন স্থানে বেড়েছে চাঁদাবাজি, ভূমিদুস্য, মাদকব্যবসা, খুন-হত্যা সহ বিভিন্ন অপকর্ম। তার মধ্যে সব চেয়ে বেড়েছে চাঁদাবাজি। দলীয় নাম বিক্রি করে এবং বড় নেতাদের নাম বিক্রি করে পাড়া-মহল্লা হাট-বাজার, ঘাট, সড়ক, স্ট্যান্ড সহ বিভিন্ন সেক্টরে চলছে চাঁদাবাজি। কিন্তু চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।



সূত্রে জানা যায়, দেশের বৃহত্তম ২০০ বছরের পুরাতন পাইকারী বাজার নিতাইগঞ্জকে ধংসের একমাত্র কারন হচ্ছে সেন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি। বিগত আওয়ামীলীগ সরকার আমলে ওসমান পরিবার ও আওয়ামীলীগের ক্যাডারদের প্রতি মাসে চাঁদা দিতে দিতে আজ ধংসের মুখে ব্যবসায়ীরা। কিন্তু ২৪ এর ৫ আগস্টে সেই চাঁদাবাজরা পালিয়ে গেলেও বন্ধ হয়নি চাঁদাবাজি। এখনো সেই নিতাইগঞ্জের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের কাছ থেকে প্রতি দিন ও প্রতি মাসে নেওয়া হচ্ছে হাজার হাজার টাকা চাঁদা।



খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ১৮নম্বর ওয়ার্ডটি হচ্ছে নিতাইগঞ্জ ব্যবসায়ী এলাকা। সেই ওয়ার্ডে নিতাইগঞ্জের আটা-ময়দা সহ বিভিন্ন মিল-কারখানা রয়েছে। বিগত আওয়ামীলীগ সরকার আমলে নাসিক ১৮নম্বর ওয়ার্ডে চাঁদাবাজি, দখলদারি, ভূমিদস্যু সহ বিভিন্ন অপকর্ম লিপ্ত ছিলেন সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না। সেই এলাকায় মুন্নার অন্যতম চাঁদাবাজির সেক্টর ছিলো নিতাইগঞ্জের শ্রমিকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা। যা প্রতি মাসে লক্ষ টাকা চাঁদাবাজি করতেন কামরুল হাসান মুন্না। এছাড়াও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাপ্পি চত্ত্বর এলাকায় যে সকল ট্রাক মালামালের লোড-আনলোড করত, সে সকল ট্রাক থেকে প্রতিদিন ২০০ বা ৩০০ টাকা করে চাঁদা তুলতেন মুন্না ভাই রিয়েন সহ তার কর্মীরা। কিন্তু গত ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে মুন্না পালিয়ে গেলে, সেই চাঁদাবাজির সেক্টরগুলো দখলের নেন সেই ওয়ার্ডের বিএনপির নেতাকর্মীরা। প্রতিদিন বিএনপির নাম বিক্রি করে তুলা হচ্ছে হাজার হাজার টাকা।



সূত্রে জানা যায়, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে পরে মুন্নার সেক্টর গুলো দখলে নিয়েছে ১৮নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মীরা। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি ও সদর থানা বিএনপির পদ-পদবী নেতাদের ছবি ও ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়ে সেই এলাকায় চাঁদাবাজি করে বেড়াচ্ছে ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মীরা। সাবেক কাউন্সিলর মুন্না ট্রাক ড্রাইভার কাছ থেকে ২০০-৩০০ টাকা চাঁদা নিলেও, বর্তমানে বিএনপির নেতাকর্মীরা চাঁদা নিচ্ছে অন্য কৌশলে। তারা এখন ট্রাক ড্রাইভার থেকে চাঁদা না নিয়ে, মিলের শ্রমিকদের কাছ থেকে চাঁদা নিচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নাসিক ১৮নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল আরিফ এর নামে প্রতিদিন লোড-আনলোডের নামে ট্রাক প্রতি চাঁদা নিচ্ছে তার কর্মীরা। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ময়লা গাড়ি রাখার গেরেজ সামনে খালি জায়গায় প্রতিদিন লোড আনলোডের নামে ট্রাক প্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা করে নিচ্ছে আল আরিফ এর কর্মীরা।



এবিষয়ে আটা-ময়লা মিলের একজন শ্রমিক যুগের চিন্তাকে জানান, আগে ট্রাকের ড্রাইভারদের থেকে টাকা নেওয়া হত। এখন আমাদের সরদারদের কাছ থেকে টাকা নেয়। ছোট গাড়ি লোড-আনলোড করলে ১০০ টাকা দেই এবং বড় গাড়ি হলে ২০০ টাকা দেই। বিএনপির নেতা আরিফ ভাইয়ের ভাই সোহেল ও আরও কয়েকজন আছে তারা টাকা নিয়ে যায়। প্রতিদিন এখানে ৪০-৫০ টি ট্রাক লোড-আনলোড করা হয়। তারা বসে থেকে এখান থেকে টাকা নেয়। প্রতিদিন সব মিলিয়ে ৬-৭ হাজার টাকা উঠে। অনেক সময় আরও বেশি টাকা উঠে। তারা এখন বিএনপির লোক আবার এখানে তাদের বাড়ি-ঘর টাকা না দিলে গালিগালাজ করে, মালামাল উঠা-নামা করতে দেয় না। এই টাকার মাধ্যমেই তারা চলে। প্রতি মাসে দেড়-দুই লাখ টাকা উঠে।



এবিষয়ে একজন মিল মালিক জানান, নিতাইগঞ্জের ব্যবসা তো ধংস করছে এই সকল চাঁদাবাজরা। ৫ আগস্টের পরে অনেক চাঁদাবাজ হয়েছে। বিভিন্ন নামে কয়দিন পর পর টাকা নিতে আসে। আমরা এখানে ব্যবসা-বাণিজ্য করি আমাদের মালামালের গাড়ি ত লোড-আনলোড হবেই। কিন্তু সড়ক ছোট হওয়ায় গাড়ি মিলের সামনে আনতে পারি না। তাই বাপ্পী চত্ত্বর বা তোলারাম মোড়ের সামনে খালি জায়গায় গাড়ি রাখি। সেখানে লেবাররা মিল থেকে ঠেলাগাড়ির মাধ্যমে মাল নিয়ে ট্রাক লোড করে। সেখানে লেবারদের থেকে স্থানীয় বিএনপির নেতারা টাকা তুলে। তাদের টাকা না দিলে তো আর, মালামাল লোড-আনলোড করা যাবে না। তাই লেবাররা টাকা দেয়। বিগত আমলে মুন্না নিতো। এখন আরিফ এর ভাইয়েরা নেয়। আরিফ এর কোন ব্যবসা বাণিজ্য নেই। সে ওয়ার্ড বিএনপির নেতা। সেই ক্ষমতায় তার লোকজন টাকা নেয়। বতর্মানে প্রশাসক নিরব, আমরা ব্যবসায়ীরা চাই এখানে যারা চাঁদাবাজ আছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হউক এবং যারা মহানগর বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক আছে তারাও যাতে এই সকল চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেয়।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন