Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

মুন্নার চাঁদাবাজির সেক্টরে এখন আল আরিফ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

মুন্নার চাঁদাবাজির সেক্টরে  এখন আল আরিফ
Swapno

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে একটি অন্যতম ওয়ার্ড হচ্ছে ১৮নম্বর ওয়ার্ড। প্রাচীন কাল থেকেই এই ওয়ার্ডটি ব্যবসা বাণিজ্য অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে আশির দশক পর্যন্ত শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীরে, নিতাইগঞ্জ বাণিজ্য এলাকাগুলোতে কাঁচা পাট কেনাবেচা, গ্রেডিং এবং বেলিংয়ের প্রধান আড়ত ছিলো। সেই সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা, হাজার হাজার মানুষ এখানে পাটের গোডাউনগুলো কাজ করতেন। পরবর্তীতে পাট কলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়াই আটা-ময়লা, ভূমি, ডাল, লবণ সহ বিভিন্ন নিত্যপণের মিল প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে এই নিতাইগঞ্জে। কিন্তু বিগত ১৭ বছর নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ সরকার আমলে নানা সেন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির কারনে বন্ধ হয়ে যায় নিতাইগঞ্জের প্রাই শতাধীক মিল কারখানা। নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের ১৭ বছর পার হয়ে গেলেও, এখনো বন্ধ হয়নি সেই নিতাইগঞ্জের চাঁদাবাজি। সরকার পরিবর্তন হলেও চাঁদাবাজির সেক্টর পরিবর্তন হয়নি। বিগত ১৭ বছরের সেই চাঁদা এখনো দেয় নিতাইগঞ্জের ব্যবসায়ীরা। ব্যক্তি পাল্টায় কিন্তু চাঁদা তুলা ও টাকার অংক আগের মতোই।



খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিগত আওয়ামীলীগ সরকার আমলে নাসিক ১৮নম্বর ওয়ার্ডের প্রভাবশালী কাউন্সিলর ছিলেন কামরুল হাসান মুন্না। একাধীকবার ওয়ার্ডটিতে কাউন্সিলর থাকায় বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন মুন্না। চাঁদাবাজি, দখল, ভূমিদস্যু সহ বিভিন্ন অপকর্ম লিপ্ত ছিলেন এই সাবেক কাউন্সিলর মুন্না। তার মধ্যে ১৮নম্বর ওয়ার্ডে অন্যতম চাঁদাবাজির সেক্টর ছিলো শ্রমিকদের থেকে চাঁদা তুলা। যা প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা তুলা হত। এছাড়াও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাপ্পি চত্ত্বর এলাকায় যে সকল ট্রাক মালামালের লোড-আনলোড করত, সে সকল ট্রাক থেকে প্রতিদিন চাঁদা আদায় করতেন মুন্না। প্রতিদিন তার বাহিনীর মাধ্যমে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা ট্রাক প্রতি চাঁদা তুলা হত। কোন চালক চাঁদা দিতে না চাইলে মারধর ও গালিগালাজ করত মুন্না বাহিনী। কিন্তু গত ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে মুন্না পালিয়ে গেলেও বন্ধ হয়নি ট্রাকের চাঁদা তুলা। বিএনপির নাম ব্যবহার করে প্রতিদিন তুলা হচ্ছে হাজার হাজার টাকা।



সরেজমিনে দেখা যায়, নাসিক ১৮নম্বর ওয়ার্ডের বিকে রোড় এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের ময়লা গাড়ির গেরেজের পাশে খালি জায়গায় গড়ে উঠেছে ট্রাক স্ট্যান্ড। প্রতিদিন সেখানে ৪০থেকে ৫০টি ছোট-বড় ট্রাক মালামাল লোড-আনলোড করে। একসময় সেই ট্রাক থেকে চাঁদা তুলতেন সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্নার লোকজন। কিন্তু মুন্না পালিয়ে যাওয়ার পরে সেখানে এখন চাঁদা তুলেন সরকারি দল বিএনপির নেতাকর্মীরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নাসিক ১৮নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল আরিফ এর নেতৃত্বে সেখানে চাঁদা তুলে তার কর্মীরা। কিন্তু আওয়ামীলীগ আমলে চাঁদা দিতেন ট্রাক চালক আর এখন চাঁদা দেয় শ্রমিকরা। জানা যায়, যে সকল মিল কারখানার মালামাল ট্রাকে লোড-আনলোড করা হবে, সেই সকল মিলের লেবারদের থেকে ১০০ বা ২০০ করে চাঁদা নেয় আল আরিফের লোকজন।



এবিষয়ে আটা-ময়লা মিলের একজন শ্রমিক যুগের চিন্তাকে জানান, আগে ট্রাকের ড্রাইভারদের থেকে টাকা নেওয়া হত। এখন আমাদের সরদার থেকে টাকা নেয়। ছোট গাড়ি লোড করলে ১০০ টাকা দেই, বড় গাড়ি হলে ২০০ টাকা দেই। টাকা কে নেয়? এমন প্রশ্নের জবাবে সেই শ্রমিক বলেন, এখাকার বিএনপি নেতা আরিফ ভাইয়ের ভাই সোহেল ভাইয়ে নেয়। প্রতিদিন সময়টা গাড়ি লোড আনলোড হয়? জানতে চাইলে সেই শ্রমিক বলে, কখনো ৩০-৪০ টা আবার ৫০টাও হয়। এখান থেকে প্রতিদিন কত টাকা চাঁদা তুলা হয়? জানতে চাইলে সে বলে অনেক মিলের মাল আসে, সব মিলিয়ে প্রতিদিন ৬-৭হাজার টাকা তুলে। মাসে দেড়-দুই লাক্ষ টাকা তুলে।



এবিষয়ে একজন মিল মালিক জানান, নিতাইগঞ্জে এখন ব্যবসার অবস্থা ভালো না। বাপ্পী সড়কে ট্রাক রেখে ঠেলাগাড়ি দিয়ে মিল থেকে মাল লোড-আনলোড করতাম। এখন তোলারাম মোড়ের সামনে খালি জায়গায় করি। সেখানে লেবাররা গাড়ি প্রতি টাকা দেয়। তাদের সুবিধার জন্য। আগে মুন্না, কবিরকে দিতাম এখন এলাকার বিএনপির লোকদের দেই। সরকার পরিবর্তন হলে কি হবে চাঁদাবাজি ত আর বন্ধ হয় না। কোন ইজারা নেই, সেই জায়গাও তাদের নিজের সম্পত্তি না, তবুও তাদের টাকা দিতে হয়। লেবার, ড্রাইভার তারা হলো গরীব মানুষ, তাদের থেকে ২০০-৫০০ টাকা চাঁন্দা নেয়। এখানে প্রশাসন নিরব, তারা যদি ব্যবস্থা নিত, তাহলে এই চাঁদাবাজরা আর চাঁদাবাজি করার সাহজ পেত না।  

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন