সাংবাদিক দেখলেই ক্ষেপে যান ভূমি কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র
আরিফ হোসেন
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
ভূমি অফিসের অনিয়ম নতুন কিছু নয় তবে দেশের কিছু কিছু ভুমি অফিসে যার মাত্রা ছাড়িয়েছে উচ্চ পর্যায়ে। টাকা ছাড়া যেন কোন ফাইল নড়েনা। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন ভূমি অফিসগুলো এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নানান অনিয়ম উঠে এসেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র দেবনাথ নামজারি, খাজনা প্রদান ও বিভিন্ন সার্টিফিকেট প্রদানে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ঘুষ দাবি এবং নানা ধরণের অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ প্রায়ই পাওয়া যাচ্ছে। তবে তার বিরুদ্ধে শুধুমাত্র ঘুষ বাণিজ্যে নয়, বিভিন্ন সময় মানুষকে বলে বেড়ান আমাকে টাকা দিলে সেই টাকা যাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে। তার এমন নানান অনিয়ম এবং তার কাছে টাকা দিলে সেই টাকা যাবে তারেক রহমানের কাছে টাকা যাবে, এর বাস্তবতা জানতে চাইলে অনেকটা উগ্র ভাষায় উত্তর দেন আমি এ কথা বলছি কি প্রমাণ আছে? এরপর আরও ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন সাংবাদিকদের গালিগালাজ করেন। এমনকি বলতে থাকে আমার কাছে সাংবাদিক এসে বসে থাকে, টাকা না দিতে পারলেই উলটা পালটা লেখালেখি করে। এক পর্যায়ে তিনি তার একজন স্টাফকে ডেকে যুগের চিন্তার প্রতিনিধিকে কিছু টাকা গুঁজে দেওয়ার চেষ্টা চালান।
জানা গেছে, সেখানে সেবা নিতে আসা অনেকেই তার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সেবা নিতে আসা বেশিরভাগ মানুষ দাবি করছেন তিনি সেবা প্রত্যাশীদের সাথে উগ্র আচরণ করে থাকে। আরও জানা যায়, ভূমি সহকারী কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র দেবনাথের বিরুদ্ধে জমি দাবি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মৌজায় ৭৩ শতাংশ ভিটি জমির নামজারি করে দেওয়ার জন্য জনৈক সাজিদের কাছে জমির অংশ দাবি করার অভিযোগও উঠেছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রথমে ১০ শতাংশ জমি দাবি করা হলেও পরবর্তীতে ৫ কাঠা বা সাড়ে ৭ শতাংশ জমি দেওয়ার শর্তে নামজারির কাজ করে দেওয়ার বিষয়ে তিনি সম্মত হন। তবে তখন এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন দুলাল চন্দ্র দেবনাথ। তিনি বলেন, “এ ধরণের কোনো ঘটনার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।”
এদিকে, এ অভিযোগের কথিত অভিযোগকারীর সঙ্গে যোগাযোগ বা তার সুনির্দিষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের পক্ষে কোনো লিখিত নথি, অডিও-ভিডিও, লেনদেনের প্রমাণ বা অন্য কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় কয়েকজন সেবাগ্রহীতার দাবি, দুলাল চন্দ্র দেবনাথ দীর্ঘদিন ধরে ভূমি-সংক্রান্ত সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়মনীতি অনুসরণের চেষ্টা করছেন। তাদের মতে, অভিযোগের প্রকৃত সত্য জানতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করা জরুরি। দুলাল চন্দ্র দেবনাথ অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, তদন্ত হলে অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা স্পষ্টভাবে বেরিয়ে আসবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভূমি-সংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে শুধু মৌখিক বক্তব্যের ভিত্তিতে কোনো পক্ষকে দায়ী না করে নামজারি-সংক্রান্ত নথি, আবেদনপত্র, সংশ্লিষ্ট ভলিউম, সরকারি রেকর্ড, সাক্ষ্য এবং অভিযোগকারীর দাবির পক্ষে থাকা প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্যও তদন্তে বিবেচনায় নেওয়া উচিত।


