নগরীতে চলাচলে বিষফোঁড়া ফুটপাতের হকাররা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
নারায়ণগঞ্জ শহরের বাসিন্দারা দখলদার হকারদের হাতে জিম্মি। যার কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারী ও যাত্রীদের। দখলের একদিকে রয়েছে ফুটপাত, অন্যদিকে মূল সড়ক। ফুটপাতজুড়ে হকারদের দখল, অন্যদিকে সড়কে ইজিবাইক ও অবৈধ যান চলাচল,অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে নিত্যদিন সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট ও বিশৃঙ্খলা। কিন্তু এখন ফুটপাতের সাথে হকাররা মুল সড়ক দখল করে নিয়েছে। এতে দিনের পর দিন নগরবাসি থেকে শুরু পথচারীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া শহরের সড়ক দিয়ে চলাচল করতে না পাড়ায় ব্যবসায়ী নেতারা বিব্রত বোধ করেন। তাছাড়া হকারর এখন নগরবাসির জন্য বিষফোড়া হয়ে দাড়িয়েছে। তার মাঝে ফুটপাতের হকারদের থেকে চাদাঁবাজির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। বিএনপির একটি অংশ তাদের থেকে অবৈধ বিদ্যুৎ লাইন দেয়ার নাম করে চাদাঁ নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। যার একটি অংশ প্রশাসনের লোকজন পেয়ে থাকে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া, মিশনপাড়া, গলাচিপা, উকিলপাড়া, গ্রীনলেজ ব্যাংকের মোড়, দুই নম্বর রেলগেট, ডিআইটি, চেম্বার রোড, কালীরবাজার সর্বত্রই হকারের বিস্তার। চাষাঢ়া, দুই নম্বর রেলগেইট সহ গুরুত্বপূর্ন মোড়ে অন্তত ৮/১০ টি করে অবৈধ স্ট্যান্ড বানিয়ে রেখেছে ইজিবাইকগুলো। ফলে দিনরাত যানজট লেগেই থাকে। আর ফুটপাতগুলো পথচারীদের নিরাপদে চলাচলের জন্য নির্মাণ করা হলেও এখন তা হকারদের স্থায়ী দখলে চলে গেছে। হকাররা এখন বঙ্গবন্ধু মুল সড়ক দখল করে নিয়েছে। যদিও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে সাখাওয়াত হোসেন খাঁন দায়িত্ব নেওয়ার হাকডাক করে হকারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ করেন। কিন্তু সেই উচ্ছেদে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. আবুল কালাম সমর্থন দিয়ে অংশ নেন অভিযানে। তবে এই উচ্ছেদ ভালো করে এক মাসও টিকেও নাই।
শহরের বিবি রোড ও কালীরবাজার এলাকায় দেখা যায় ফুটপাতে একটুকু জায়গাও ফাঁকা নেই। মানুষের চলাচলের জন্য জায়গা না থাকায় নেমে যাচ্ছেন সড়কে। এতে করে সড়কে যান চলাচল করছে ধীরগতিতে। অন্যদিকে হকারদের দাবি, আর্থিকভাবে বিভিন্ন লোকজন ম্যানেজ করেই তারা বসছেন। বিনা পয়সায় বসছেন তাও নয়। মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতার ভাইকে দৈনিক টাকা দিয়ে থাকে তারা। এই টাকার ভাগ রাজনৈতিক নেতা, পুলিশের হাতেও পৌছে যায়।’ অথচ তাদের কারনে পথচারীরা চলাচল করছেন ঝুঁকি নিয়ে। এছাড়া হকারদের সাথে পথচারীদের তর্কবিতর্ক লেগেই যাচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, আগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের টাকা দিয়ে হকাররা বসতো। তাও মাঝেমধ্যে পুলিশ ও সাবেক মেয়র আইভীর জোড়া জুড়িতে অনেকেই উঠে যেত। কিন্তু ৫ আগস্টের পর আর হকারদের উঠতে হয়না। এখন বিএনপিপন্থি লোকজনকে টাকা দিয়ে স্থায়ীভাবে হকাররা বসে গেছে। কাপড়, জুতা, ফল, ইলেকট্রনিক্স, এমনকি খাবারের দোকানও স্থায়ীভাবে বসেছে ফুটপাতে। ফলে পথচারীদের বাধ্য হয়ে নামতে হচ্ছে মূল সড়কে। কিন্তু এখন বঙ্গবন্ধু সড়ক দিয়ে পথচারীরা হেটে চলতে পারে না।
নগর বিশ্লেষকরা বলছেন, ৫ আগস্টের পর মানুষ যেই আশা আকাঙ্খা করেছিলো এই শহর নিয়ে। তা বাস্তবে হয়নি। উল্টো দখলদারের কবলে চলে গেছে পুরো শহর। দখলদার আর শেল্টারদাতারা নিয়ন্ত্রন করছে পুরো শহরকে। কোটি কোটি টাকা আর কর্মঘণ্টা নষ্ট হলেও কারও কোন নজর নেই। কঠোরতা ছাড়া এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।সচেতন মহলের মতে, সবমিলিয়ে ফুটপাত ও সড়ক দখলের এই সংস্কৃতি এখন নগরজীবনের এক ভয়াবহ অভিশাপে পরিণত হয়েছে। দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে নাগরিক দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নগরবাসী। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আমরা হকারদের উচ্ছেদ করেছি। তাদের বিরুদ্ধে আবারও হকার উচ্ছেদ করা হবে। কেননা ফুটপাতে হকাররা বসতে পারবে না। তাদেরকে আমরা রেললাইনের সাথে বসার ব্যবস্থা করেছি।


