# সরকারের প্রজ্ঞাপন মেনে ভাড়া নিচ্ছি: পরিবহন মালিক পক্ষ
# বাস ভাড়া নিয়ে ছাত্র সংগঠনের অবরোধ ঘোষনা
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাসের ভাড়া বেড়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় ঢাকা নারায়ণগঞ্জ সড়কে সিটি বন্ধন ও উৎসব ট্রান্সপোর্ট পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি পেয়ে ৫৫ টাকা থেকে ৬০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। তেলের মৃল্য বৃদ্ধির সাথে ঢাকা নারায়ণগঞ্জ বাসে কিলোমিটার প্রতি ভাড়া ১৭ পয়সা বৃদ্ধি করেছে। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। কিন্তু সরকারের প্রজ্ঞাপনের বাইরে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ সাত ছাত্র সংগঠন বাস ভাড়া কমানোর দাবীতে কর্মসূচি পালন করছে।
যদিও ইতোমধ্যে বাস ভাড়া বাড়ানো নিয়ে নিয়ে দুই দফায় সদর উপজেলা নিবার্হী অফিসার এস এম ফয়েজের সভাপতিত্বে বৈঠক হলেও সেই আলোচনা ব্যার্থ হয়। তবে পরিবহন মালিকদের দাবী সরকারি প্রজ্ঞাপন ও আইন অনুযায়ী তার বাস ভাড়া নিচ্ছেন। আর এটা তাদের ন্যায্য পাওনা। বাস মালিকদের দাবী সরকারের প্রজ্ঞাপন না মেনে নাগরিক ফোরাম ও ছাত্র সংগঠন গুলো প্রতিবাদ করে একটি অরাজকতা তৈরী করার জন্য পায়তারা করছে। বিপরীতে নারায়ণগঞ্জের ছাত্র সংগঠন গুলোর দাবী পরিবহন মালিকরা অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে। কিন্তু সচেতন মহলের প্রশ্ন উঠেছে বাস বাড়া নিয়ে যে আন্দোলন চলমান আছে তার সঠিক নাকি বাস মালিকরা সঠিক। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জে বিশৃঙ্খলা তৈরী হওয়ার আগে প্রশাসন কেন নিরবতা পালন করছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের জাতীয় ছাত্রশক্তি সহ ক্রিয়াশীল ৭টি ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি হিসেবে গতকাল ৪ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। এর আগে তারা সংবাদ সম্মেলন করে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েও কোন কাজ হয় নাই। ছাত্র সংগঠনের ছাত্র নেতারা বলেন, যদি সোমবারের মধ্যে অতিরিক্ত ভাড়া প্রত্যাহার না করা হয় তাহলে আগামী ৬ অক্টোবর, মঙ্গলবার পুরো নারায়ণগঞ্জে সর্বাত্মক অপরাধ থাকবে। জরুরী প্রয়োজনের গাড়ি ছাড়া অন্য কিছু চলবে না। জনগণ অতিরিক্ত এক টাকা ভাড়াও দিবে না। নারায়ণগঞ্জ রোডে বিকল্প বাসও থাকবে, বিআরটিসি বাস থাকবে, ঘন্টায় ঘন্টায় ট্রেন চলবে। আগের মতো দুটো ট্রেন চলবে, ট্রেনের বগি সংখ্যা বৃদ্ধি হবে।এই লড়াই, সংগ্রাম জনগণের।
অন্যদিকে ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে নাগরিক ফোরাম ও নারায়ণগঞ্জের ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি, ছাত্র ফেডারেশন সহ সাত ছাত্র সংগঠনের মাঝে বাকবিতন্ডা তৈরী হলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য সদর উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আলোচনা বৈঠক হয়। গত ২৮ সেপ্টেম্বর বন্ধন উৎসব পরিবহন মালিকদের সাথে ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক ফোরামের ব্যক্তিদের নিয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার এস এম ফয়েজের সভাপতিত্বে দীর্ঘক্ষন সময়ে বিকেল ৪ টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ৪ ঘন্টার আলোচনার পরেও কোন সমাধান হয় নাই। একই ভাবে ৩০ সেপ্টেম্বর পুনরায় দুই পক্ষের মাঝে বিকেল ৫ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত আলোচনা হয়েও সমাধান মিলে নাই। কিন্তু দুই দিনের দীর্ঘ আলোচনার মাঝে কোন সুফল না আসায় তা ব্যার্থ হয়। দুই পক্ষ তাদের নিজেদের দাবীতে অনড় রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ পরিচালকের বক্তব্য মতে, নারায়ণগঞ্জ বাস টার্মিনাল হতে ঢাকা জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ১৯.৯ কিলো মিটাল প্রজ্ঞাপন ক’ অনুযায়ী ভাড়া আসে ২.৭০ টাকা যা প্রায় ৫৪ টাকা আসে। এছাড়া যাত্রাবাড়ী ফøাইওভারে ৮.১২ টাকা। যার ভারা দাড়ায় ৬২.১২ টাকা। তবে ডিটিসিএ অনুযায়ী এই ভাড়া আসে ৫৯.৮৪ টাকা। কিন্তু পরিবহন মালিকরা বর্তমানে ভাড়া নিচ্ছে ৬০ টাকা করে। যদিও সদর উপজেলায় বৈঠকে তাদের দাবী সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ৫৯.৯৯ টাকা ভাড়া আসে। এই হিসেবে তারা কোন ভাড়া কম নিচ্ছে না। তবে সাত ছাত্র সংগঠনের দাবী ঢাকা নারায়ণগঞ্জ রুটে বন্ধন উৎসব পরিবহন যাত্রীদের বাস ভাড়া ৫৮ টাকা নিতে হবে। পরিবহন মালিকরা তাদের হাফ ভাড়ার বিষয়টি মেনে নিলেও যাত্রীদের ভাড়ায় ছাড় দিতে নারাজ।
বাস মালিকদের পক্ষে সিটি বন্ধন পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন বলেন, সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ঢাকা নারায়ণগঞ্জ রুটে ভাড়া ৬২. ১২ টাকা আসে, কিন্তু আমরা যাত্রীদের থেকে ৬০ টাকা করে নিচ্ছি। কিন্তু ছাত্র ভাইয়েরা কমানোর দাবীতে আন্দোলন করছে। তার মানে হচ্ছে তারা সরকারের প্রজ্ঞাপন মানতে নারাজ। তারা যদি শহরের কোন বিশৃঙ্খলা তৈরী করে তাহলে সেটা প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে। কেননা কেইউ আইনের উর্ধে নয়। তাছাড়া আমরা শিক্ষার্থীদের কাছে আগে থেকে ৩৫ টাকা ভাড়া নিতাম এখন ৩৪ টাকা নিচ্ছি। যা তাদের দাবীর প্রেক্ষিতে কমানো হয়েছে। আমরা সরকারের প্রজ্ঞাপন মেনে আইন অনুযায়ী ভাড়া নিচ্ছি।
এর আগে বাসা ভাড়া নিয়ে আলোচনা সভায় রফিউর রাব্বি যাত্রীদের থেকে ৫৮ টাকা করে ভাড়া নেয়ার প্রস্তাব জানান বাস মালিকদের প্রতি। একই সাথে তার প্রস্তাতে সাত ছাত্র সংগঠনের নেতারাও সহমত প্রকাশ করেন। এছাড়া ছাত্র সংগঠন গুলো শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া নেয়ার দাবী জানালে তা ৩৪ টাকা নির্ধারণ হয়। তা উভয় পক্ষ মেনে নিলেও যাত্রীদের ভাড়া ৫৮ টাকা মেনে নেন নাই পরিবহন মালিকরা। এই ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে দুই পক্ষের মাঝে হট্রগোল তৈরী হয়। যা এখন পর্যন্ত কর্মসূচি দিয়ে আন্দোলন করে যাচ্ছে ছাত নেতারা।
সিটি বন্ধন পরিবহনের চেয়ারম্যান সাদ্দাম হোসেন বলেন, তেলের বৃদ্ধির সাথে বাসের চাকা, মবিল সহ প্রতিটি পার্টস বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই দিক বিবেচনা করে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাস বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। যার জন্য আমরা সরকারের প্রজ্ঞাপনের বাইরে গিয়ে কোন ভাড়া নিচ্ছিনা। কিন্তু একটি পক্ষ সরকারের প্রজ্ঞাপনকে না মেনে নারায়ণগঞ্জ শহরকে অস্থিতিশীল তৈরী করতে পায়তারা করছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে। কিন্তু আমরা তাদের ফাদে পা বাড়াবো না।
মহানগর ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম ফেসবুকে পোষ্ট দিয়ে লিখেন, যদি সোমবারের মধ্যে অতিরিক্ত ভাড়া প্রত্যাহার না করা হয় তাহলে আগামী ৬ অক্টোবর, মঙ্গলবার পুরো নারায়ণগঞ্জে সর্বাত্মক অপরাধ থাকবে। জরুরী প্রয়োজনের গাড়ি ছাড়া অন্য কিছু চলবে না। জনগণ অতিরিক্ত এক টাকা ভাড়াও দিবে না।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস ফয়েজ উদ্দিন বলেন, নারায়ণগঞ্জের বৃহত্তর স্বার্থে আমরা তাদের উভয় পক্ষকে নিয়ে সমাধানের জন্য আলোচনায় বসি। কিন্তু তারা নিজেদের দাবীতে অনড় থাকায় তা হয়ে উঠে নাই। যদিও ভাড়া নির্ধারণ করা আমাদের উপজেলার কাজ না। এই বিষয়ে আমাদের উর্ধতন কর্তপক্ষ ব্যবস্থা নিবে।