টিপুর ছায়ায় কি অধরা অনিক-রাহাত
সাম্প্রতিক নানা বিতর্কিত ঘটনায় আলোচনায় হোসিয়ারি সমিতির ভিতরেই শুভ দাস ওরফে বিল্লাল হত্যার পরিকল্পনা। এই ঘটনায় যাদের নাম উঠে এসেছে সকলেই বর্তমান হোসিয়ারি সমিতির অফিস দখলকারী মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড, আবু আল ইউসুফ খান টিপুর বডিগার্ড হিসেবেই পরিচিত। যাকে ঘিরে আলোচনায় উঠছে যিনিই রক্ষক তিনিই ভক্ষক হয় তখনই প্রশ্নের উত্তর মিলে না। এদিকে আমলাপাড়া গালর্স স্কুলের সভাপতি বিএনপি নেতা টিপু। আর তার শেল্টারেই তার বডিগার্ড বাহিনীরা স্কুলের গেইটের সামনেই আমলাপাড়ার মাদকের হাট খুলে বসতেন।
একই সাথে অভিযোগ রয়েছে, হোসিয়ারী সমিতির কমিউনিটি সেন্টারের একটি কক্ষকে ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে দখল করে রেখে সেখানে বিচার-সালিশ, দেন দরবার করেন এই টিপু। তার এই সকল অপকর্মকাণ্ড পরিচালনায় বিশাল বাহিনী নিয়ে পাহাড়া দিয়ে থাকেন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী অনিক, রাহাত, বাহার বাহিনী। আর সেই সুবিধায় টিপুর আশ্রয়ে আমলাপাড়াকে মাদকের ‘সেইফ জোনে’ পরিনত করেছেন এই মাদক ব্যবসায়ীরা। তা ছাড়া এই মাদক ব্যবসায়ী বাহিনীর মাধ্যমে হোসিয়ারী সমিতির কমিউনিটি সেন্টারকে টর্চাল সেলে রূপান্তরিত করেছেন এই টিপু। এদিকে দফায় দফায় শুভ হত্যা আসামীরা গ্রেফতারে আসলেও হত্যার মূল মাস্টারমাইন্ড বিএনপি নেতা টিপুর বডিগার্ড অনিক ও রাহাত এখনো অধরা। প্রশ্ন উঠছে গ্রেফতার এড়ানোর পিছনে কি টিপুর চমৎকার রয়েছি কি না।
পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর ভোর বেলা হকার্স মার্কেটের পেছনে অবস্থিত দূর্গা মহলের সামনে থেকে শুভর লাশ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকা-ের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। শুভ দাসকে হত্যাকারী মূল মাস্টার মাইন্ড অনিক ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে। তবে ইতোমধ্যে অনিকের সাথে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর সাথে অনিকের ঘনিষ্ট ছবি বেরিয়ে আসে। অভিযোগ রয়েছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতার শেল্টারে অনিক আমলাপাড়া সহ আশে পাশের এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকান্ড করে বেড়াচ্ছিলো। অনিকের সাথে টিপুর ছবি ভাইরাল হওয়ার পর প্রশ্ন উঠতে শুরু করে তবে কি অনিকের সেই প্রভাবশালী বিএনপি নেতা আবু আল ইউসুফ খান টিপু কিনা।
এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাওয়ার মধ্যেই নতুন করে আরো একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। শুভ হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের নিয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযোগ হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও একটি মটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। হোসিয়ারি সমিতি মিলনায়তনের অফিস নিয়ন্ত্রন নিয়ে হোসিয়ারি এসোসিয়েশন এবং মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর মধ্যে বিবাদ দীর্ঘদিন ধরে। হোসিয়ারি এসোসিয়েশনের নেতারা দফায় দফায় ডিসি ও বিদায়ী এসপির সাথে বৈঠক করে এই মিলনায়তন উদ্ধারের জন্য সহযোগীতা চেয়েছেন। কিন্তু প্রতিবারই তাদের ফিরতে হয়েছে খালি হাতে। নানা সময়ে বক্তব্যে পাল্টাপাল্টি উত্তেজনা ছড়ালেও পুরো হোসিয়ারি মিলনায়তনকে ঘাটি বানাতে সক্ষম হয়েছেন টিপু। কিন্তু টিপুর নিয়ন্ত্রণে এই মিলনায়তন টর্চার সেল ও অপরাধীদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হবার অভিযোগ রয়েছে।
তার ছাড়া সর্বদা টিপুর পাশে কখনো আদালত চত্ত্বর কিংবা কখনো চাষাড়া তারা টিপুর গাড়ির পিছনে এই মাদক ব্যবসায়ীদের ছুটতে দেখা গেছে। এমন নানা ছবি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল প্রায়। যাকে ঘিরে অভিযোগ উঠছে টিপুর মদদেই সাহস পেয়ে শহরের মূল পয়েন্টে শুভ চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ড চালিয়েছেন এই মাদক বাহিনী। যা নিয়ে বর্তমানে প্রশ্ন উঠছে, মাদক ব্যবসায়ীদের পিছনে কি এখনো রয়েছে টিপুর ছায়া। তা ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, আমলাপাড়া পঞ্চায়েত কমিটিকেও এই বিএনপি নেতা টিপু জিম্মি করে এই বাহিনীর বিপক্ষে না যেতে হুঁশিয়ারী দিয়েছিলেন জানিয়েছে সূত্র।
নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী যুগের চিন্তাকে বলেন, শুভ দাস হত্যা মামলায় ইতিমধ্যে আমরা একাধিক গ্রুপকে গ্রেফতার করেছি। এখনো মূল মাস্টার মাইন্ড অনিক, রাহাত, বাহার কেউ গ্রেফতার হয়নি।


