Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

বিএনপির শেল্টারে হোসেয়ারি এসোসিয়শনের সেই সজল সক্রিয়

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

বিএনপির শেল্টারে হোসেয়ারি এসোসিয়শনের সেই সজল সক্রিয়

বিএনপির শেল্টারে হোসেয়ারি এসোসিয়শনের সেই সজল সক্রিয়

Swapno



হোসিয়ারি ব্যবসার জন্য বিখ্যাত ছিল নারায়ণগঞ্জ। অথচ হোসেয়ারি এসোসিয়শনের কাগজপত্র ছাড়াই সদস্য বাড়িয়ে ওসমানদের কথায় বারবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক ১৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাজমুল আলম সজল। ওসমানদের সিন্ডিকেটে থাকার কারণেই সেলিম ওসমান এবং শামীম ওসমানের বলয়ের লোক হিসেবে এই মূল্যায়ন পেতেন সজল। এদিকে টানা ১৭বছর হোসেয়ারি এসোসিয়শনে একছত্র লুটপাট, চাঁদাবাজি, ঝুট সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করে বিএনপি শেল্টারে এখনো এখনো দেওভোগ এলাকায় বসবাস করে আওয়ামীলীগ সংগঠিত করার পায়তা করছেন সজল।


সত্র বলছে, রাজনৈতিক প্রভাবশালী একটি বলয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে নিজের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরে রেখেছেন সজল। এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহে বাধা, ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং সংগঠনের নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ছিল। সজলের বিরুদ্ধে ছিল যত অভিযোগ ছিল উপস্থাপন করা হল-


হোসেয়ারি এসোসিয়শনে বল প্রয়োগ করে সভাপতি হওয়ার অভিযোগ:হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে সজলের বলয়ের বাইরে থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র কেনার ক্ষেত্রেও বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হতো। কেউ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হতো বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। অভিযোগ রয়েছে, মনোনয়নপত্র বিক্রির সময় সম্ভাব্য প্রার্থীদের ওপর নজরদারি রাখা এবং তাদের বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হতো। এমনকি বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন কারখানায় আটকে রেখে নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখার অভিযোগও রয়েছে।


ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ: হোসিয়ারি শিল্পের ঝুট ব্যবসা নিয়েও সজলের বিরুদ্ধে রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। ব্যবসায়ীদের একটি অংশের দাবি, নারায়ণগঞ্জের হোসিয়ারি খাতের ঝুট বাণিজ্যে প্রভাব বিস্তারের পাশাপাশি বিসিক শিল্পনগরীর ঝুট ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিল সজল। ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে সজল একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রেখেছিলেন। এ চক্রের কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের একটি অংশ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ কিংবা চাঁদাবাজি হোসিয়ারি শিল্পের নেতা হিসেবে সজলের বিরুদ্ধে ছিল বিস্তর অভিযোগ।


আওয়ামী লীগ আমলে রাজনৈতিক প্রভাব: নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে সজল দীর্ঘদিন হোসিয়ারি খাতে প্রভাব ধরে রাখতে সক্ষম হন। ওসমান বলয়ের ব্যবসায়ীদের নিয়ে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে সজল হোসিয়ারি শিল্পে লুটতরাজ চালিয়েছেন দীর্ঘদিন।


বিএনপি বলয়ের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ: আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও সজলের সঙ্গে বিএনপির স্থানীয় একটি অংশের নেতাকর্মীদের যোগাযোগ ছিল। বিশেষ করে জাকির খান বলয়ের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কথা বিভিন্ন মহলে আলোচিত হয়েছে। এছাড়া যুবদল নেতা পারভেজ মল্লিকের সঙ্গে তাঁকে বিভিন্ন কর্মসূচি ও হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকাণ্ডে দেখা গেছে বলেও দাবি করেছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী।


৫ আগস্ট ২০২৪-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নারায়ণগঞ্জের অনেক আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ নেতা-কর্মী আত্মগোপনে গেলেও সজলকে নিজ এলাকায় অবস্থান করতে দেখা যাচ্ছে এমন দাবি করেছেন । এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী মহলে নানা আলোচনা রয়েছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, বিএনপির স্থানীয় একটি অংশের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ থাকার কারণেই তিনি অনেকটা নির্বিঘ্নে অবস্থান করছেন।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন