প্রশাসক, এমপি, মেয়র, নেতারা বদলালেও বদলায় না শহরের সেই পুরনো যানজট সমস্যা। এ যেমন এক নিত্যসঙ্গী হিসেবে পরিণত হয়েছে। যা নিয়ে পত্র-পত্রিকায় কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি হলে ও বছরের পর বছর ধরে যানজট সমস্যায় জর্জরিত এ শহরতলীর বাসিন্দারা পাচ্ছে না মুক্তি। এদিকে শহরের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য অন্যতমভাবে দায়ী করা হয় অটো মিশুকদের। তাদের লাগাম টেনে ধরার জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন কঠোর ভূমিকার বার্তা দিয়ে ও মাসের পর মাস যাচ্ছে কিন্তু হচ্ছে না সমাধান, এখনো বাড়ছে বিস্তার।
নাসিকের তথ্যমতে, ১৭ হাজার অটোরিকশ্রা অনুমোদন থাকলেও শহরে সর্বদা প্রায় ৫০ হাজারের বেশি অটো মিশুক চলাচল করছে। শহরের মূল সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি সকল স্ট্যান্ডগুলোতে চলে ব্যাটারিচালিত রিকশার দাপট। সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ শহরে অটোরিকশার লাইসেন্সের মাধ্যমে নির্ধারিত সংখ্যায় অটোরিকশার অনুমোদন দেয়ার কার্যক্রম চললেও থামেনি এর বিস্তার।
সিটি করপোরেশন ব্যাটারিচালিত রিকশার রোধে একজন চালকেই একটি লাইসেন্স দিবেন বলে একটি কমিটি করেছেন। যেখানে প্রশাসন থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, গণমাধ্যম, নাগরিক ও পেশাজীবি সংগঠনের নেতাদের সমন্বয়ে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে কমিটির নেতৃবৃন্দ অটো-মিশুকের তালিকার কার্যক্রম চলমান রেখেছেন। দ্রুতই লাইসেন্স বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সিটি প্রশাসক।
এর আগে গত ৭ জুন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) এলাকায় নতুন করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার নম্বর প্লেট বা লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে একজনকে একটির বেশি লাইসেন্স দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান। শুধু তাই নয়, লাইসেন্সধারী ব্যক্তিকেই নিজে গাড়ি চালাতে হবে। কেননা অভিযোগ রয়েছে এতোদিন এক ব্যক্তি ১০০ লাইসেন্স নিয়ে চালকদের কাছে ভাড়া দিত। এখন আর তা সম্ভব হবে না এই নিয়মে। এমন একাধিক জালিয়াতি লাইসেন্স এখনো বহাল রাখতে একটি পক্ষ নানা তালবাহানা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তা ছাড়া এবার অবৈধ অটো-মিশুক চালকদের নাসিক থেকে যাদের লাইসেন্স দেয়া হবে তার মাধ্যমে খুব দ্রুতই শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনা হবে বলে মনে করেন নগরবাসী। সিটি করপোরেশনের লাইসেন্স দেয়ার পর থেকে অবৈধ অটো-ইজিবাইক শহরে প্রবেশ করতে পারবে না বলেও জানান নাসিক কর্তৃপক্ষ। একই সাথে যারা লাইসেন্স পাবেন, তাদেরকে একটি করে আইডি কার্ড দেওয়া হবে এবং সেই আইডি কার্ডটি দেওয়া হবে।
এদিকে বর্তমানে অটো-মিশুক সমিতির নামে ভূইফোঁড় সংগঠনগুলো বর্তমানে গ্যারেজ মালিকদের সঙ্গে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে একটি নীলনকশা তৈরির পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার কাশিপুরেই ২৫০টির বেশি অটোরিকশা গ্যারেজ সহ সদর উপজেলায় ৬শ’টির বেশি অটো রিকশা গ্যারেজ রয়েছে। এই গ্যারেজ গুলোতে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সমিতির লোকজনের চলমান রয়েছে, সকলেই একত্রিত হওয়ার পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছেন। তা ছাড়া গত ৩ মাস যাবৎ সিটি প্রশাসক বৈধ লাইসেন্স বিরতণের উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়নে বাধা ছিলো। যাকে ঘিরে এই তালিকা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমকর্মী, নাগরিক ও পেশাজীবি সংগঠনের নেতাদের সমন্বয়ে যে ১৫ সদস্য কমিটি করা হয়েছ্ েযাতে ইনকোয়ারি করে নিশ্চিতভাবে একজন ব্যক্তি একটির বেশি লাইসেন্স, লোগো কিংবা প্লেট না পায়।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, লাইসেন্স বিতরণে যেন কোন ভূলক্রুটি না হয়। একজন ব্যক্তি একটির বেশি লাইসেন্স না পায়। এমন বৈধতা যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক, গণমাধ্যমকর্মী, নাগরিক ও পেশাজীবি সংগঠনের নেতাদের মাধ্যমে ১৫ সদস্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির নেতৃবৃন্দ ইনকোয়ারি করে তালিকা তৈরি করছেন। আশা করছি চলতি মাসে কিংবা দ্রুতই অটো-মিশুকের বৈধ লাইসেন্স বিতরণ করা সম্ভব হবে।