Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

নির্বাচন আসলে আলোচনায় সীমানা নাটকীয়কতা

Icon

এম মাহমুদ

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

নির্বাচন আসলে আলোচনায় সীমানা নাটকীয়কতা

নির্বাচন আসলে আলোচনায় সীমানা নাটকীয়কতা

Swapno



৫ই আগষ্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগমন ঘটলেই নির্বাচনে জয়ের পথ সুগম করতে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা স্থানীয় জনসাধারণকে ব্যবহার করে নির্বাচনী এলাকার সীমানা প্রচীর পরিবর্তনের এক বিভাজন সৃষ্টি করে। যার কারণে নির্বাচনী এলাকার সীমানা পরিবর্তনের নাটকীয়তা ঘড়ায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা পর্যন্ত।


কিছু স্বার্থলোভী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের স্বার্থে স্থানীয় জনগণের ভাগ্যে জোটে দুঃদশা এবং নির্বাচনে কিছু কিছু প্রার্থীর জন্য নির্বাচনে অংশ নেয়াটা চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠে। এই ধরণের কার্যকলাপ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনেও হয়েছে নির্বাচনী এলাকার সীমানা পরিবর্তন ঘটে এতে করে তেক্ত বিরক্ত হন স্থানীয় বাসিন্দারা। আসন্ন সিটি করপোরশনের নির্বাচনে পূর্বে ফতুল্লা থানার ৪টি ইউনিয়নকে সিটি করপোরশনের অর্ন্তভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এমন খবরে স্থানীয় জনসাধারণে স্বস্তি দেখা গেলেও বর্তমানে অস্বস্তিও দেখা দিয়েছে।কারণ ইউনিয়নগুলোর আংশিক এলাকা সিটি অর্ন্তভুক্ত করে একটি রাজনৈতিক স্বার্থলোভী মহল নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে পছন্দ মত নির্বাচনী এলাকার সীমানা পরিবর্তনের পক্ষে রয়েছে।


সূত্র বলছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নারায়ণগঞ্জের তিনটি আসনের সীমানা পরিবর্তন করে। যেটা স্থানীয় জনসাধারণে তীব্র অস্বস্তি রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। শেষতক নানা নাটকীয়তা তিনটি আসনের সীমানা পরিবর্তন হয়। স্থানীয় সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে যুক্ত হয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের দশটি ওয়ার্ড। আগে কেবল সোনারগাঁ উপজেলা এ আসনে যুক্ত ছিল। এদিকে, সিটি কর্পোরেশনের দশটি ওয়ার্ড নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে চলে গেলেও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সদর উপজেলার গোগনগর ও আলীরটেক ইউনিয়ন।


এ দু’টি ইউনিয়ন আগে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বাকি ১৭টি ওয়ার্ড এবং বন্দর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদীয় এলাকা বলে বিবেচিত হবে। এর আগে বন্দরকে ভাগ করে দু’টি আসন নারায়ণগঞ্জ-৩ ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাবের ঘোর বিরোধীতা করেছিলেন স্থানীয় রাজনীতিকরা। তারা নির্বাচন কমিশনে লিখিতও দিয়েছিলেন, অংশ নিয়েছিলেন ইসির ডাকা গণশুনানিতেও। আপত্তির মুখে নির্বাচন কমিশনও তাদের কারিগরি কমিটির সুপারিশ পুনর্বিবেচনা করে।


অপরদিকে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্রস্তাবিত নতুন সীমানা নির্ধারণকে নিয়ে চলছে নানা প্রকার নাটকীয়তা। কারণ ফতুল্লা থানার চারটি এলাকা সিটি করপোরেশনে পুরোপুরি অর্ন্তভুক্ত করার কথা বলা হলেও সেখানে কুতুবপুর ইউনিয়নকে পুরো অর্ন্তভুক্ত বাকি ফতুল্লা, কাশীপুর ও এনায়েতনগরের কেবল আংশিক এলাকা অন্তর্ভুক্ত করার পায়তারা করছে স্থানীয় রাজনৈতিক স্বার্থলোভী মহল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে  স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ৭ জুলাই প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তিতে কুতুবপুর ইউনিয়নের ১ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সম্পূর্ণ এলাকা নাসিকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।


তবে ফতুল্লা, কাশীপুর ও এনায়েতনগর ইউনিয়নের ক্ষেত্রে নেওয়া হয়েছে ভিন্ন নীতি। এসকল ইউনিয়নের আংশিক এলাকা অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর থেকেই বাদ পড়া এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ থেকে ডিসি অফিসে স্মারকলিপি দিচ্ছেন। অপরদিকে স্থানীয় একটি স্বার্থলোভী মহল চাচ্ছে আংশিক এলাকা অর্ন্তভুক্ত করে ইউনিয়নের বাকি এলাকাগুলো নিয়ে পৌরসভা গঠন করতে। এতে করে স্থানীয় জনতা এবং রাজনৈতিক স্বার্থলোভী মহলের মধ্যে বাড়ছে তীব্র উত্তেজনা। এছাড়া আসন্ন হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কিন্তু সীমানা জটিলতার নিরসন হচ্ছে না। এতে রাজনৈতিক স্বার্থলোভী মহলের কারণে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন আটকে দিতে পারেন।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন