# অনেকবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি নিয়োগের জন্য : আরএমও: ডা.জহির
সাত মাস ধরে বন্ধ রয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের এক্স-রে বিভাগ। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি এই হাসপাতালটির এক্স-রে বিভাগে রেডিওলজিস্ট (বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক) ও টেকনিশিয়ান সংকটের কারণে র্দীঘদিন ধরে এই সেবার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কিন্তু চিকিৎসক রোগীদের ব্যবস্থাপত্রে এক্স-রে পরীক্ষা দিলেও, সরকারি হাসপাতালে এক্স-রে পরীক্ষা করতে পাচ্ছে না রোগীরা। বাধ্য হয়ে অধিক টাকা দিয়ে রোগীদের এক্স-রে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৫ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের এক্স-রে বিভাগের রেডিওলজিস্ট মো.আলী আকবর খান মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু তার মৃত্যুর সাত মাস পেরিয়ে গেলেও, এখানো সেই বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ করতে পারেন নি কর্তৃপক্ষ। এদিকে শহরের একমাত্র সরকারি হাসপাতালের এক্স-রে বিভাগে পরীক্ষা না করতে পেরে, চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের।
যেখানে ১২০ টাকা দিয়ে সরকারি হাসপাতালে এক্স-রে পরীক্ষা করত রোগীরা, এখন হাজার দিয়ে বাহিরের কোন প্রাইভেট ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে করতে হচ্ছে রোগীদের। বাহিরের থেকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে এক্স-রে পরীক্ষা করার কারণে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ রোগীরা।
এবিষয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, দো’তলায় একজন চিকিৎসবকে দেখিয়েছি, সে এক্স-রে পরীক্ষা দিয়েছে। এখন নিচে এসে দেখি, দরজায় তালা এবং তার পাশে ব্যানার লাগানো। সাত মাস আগে এক্সরে ডাক্তার মারা গেছে। এখন বাহিরে কোন ভালো ক্লিনিক বা ডায়গনস্টিক সেন্টারে এক্সরে পরীক্ষা করালে ৬০০ থেকে ১০০০টাকা লাগবে। কিন্তু আমার কাছে এখন এতো টাকা নেই। আমরা গরীব মানুষ।
টাকার অভাবে প্রাইভেট ডাক্তার দেখাতে পারি না। তাই সরকারি হাসপাতালে আসি ফ্রি চিকিৎসার জন্য। আজ বাসায় চলে যাবো, বিকালে টাকা নিয়ে অন্য কোন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করাবো। এদিকে আরেকজন জানান, বুকে কফ জমেছে। ডাক্তার এক্সরে করাতে বলছে, নিচে এসে দেখি বন্ধ। এখন বাহিরের থেকে করে আসতে হবে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা.জহিরুল ইসলাম বলেন, নতুন চিকিৎসক নিয়োগ করার ক্ষমতা আমাদের হাসপাতালে নেই। এই চাকরী মন্ত্রণালয় থেকে হয়, আমাদের সারা বাংলাদেশে টেকনিশিয়ানের বিরাট সংকট। আমরা অনেকবার স্বাস্থ্য মন্ত্রাণালয়ে চিঠি দিয়েছি নিয়োগের জন্য। মন্ত্রী মহোদয় বলেছে সামনে নিয়োগ দেবে। বর্তমানে আমরা সিভিল সার্জনের সাথে আলোচনা করেছি, কোন উপজেলা থেকে সপ্তাহে এক বা দুই দিনের জন্য (এক্সরে) চিকিৎসক যদি আনা যায়, তাহলে আমরা প্রাথমিকভাবে সেবাটি চালু করতে পারব।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা সির্ভিল সার্জন ডা.আবুল ফজল মুহাম্মদ মুশিউর রহমান বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয়, সচিব মহোদয়কে বিষয়টি অবহিত করেছি। সারাদেশেই রেডিওলজিস্ট এর বিরাট সংকট রয়েছে। উপজেলা থেকে সাময়িকভাবে বিষয়টি সমাধান করা যাবে, তবে স্থায়ীভাবে নিয়োগ না হলে এই সমস্যার সমাধান হবেনা। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, সেখান থেকেই এটির সমাধান আসবে।’