নাসির হত্যা মামলার আসামীদের আস্ফালন
মাদক ব্যবসা ও ডিস ব্যবসা নিয়ন্ত্রয়ণকে কেন্দ্র করে চাঁনমারিতে নাসির হত্যা সংগঠিত হলেও প্রশাসনের ব্যর্থতায় হত্যা মামলার মূল হোতারা দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকে প্রকাশ্যে ফিরতে আগাম জামিন ভাগাতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। এদিকে হত্যা মামলার মূলহোতারা আত্মগোপনে থাকলেও প্রশাসন কোন ক্রমেই তাদের গ্রেফতার করতে পারেননি। এছাড়া প্রশাসনের তদন্ত কার্যক্রমে ধীর গতির অভাবে আসামীরা প্রতিনিয়ত এলাকায় ফিরছেন বা এলাকায় বিচরণ করে গিয়েছেন এই ধরণের গুজব ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করছেন।
অপরদিকে নাসির হত্যা মামলার ১০জন আসামীর মধ্যে ৪জন আসামীকেই নাসিরের পরিবার আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছিলেন। এখনো পর্যন্ত নাসির হত্যা মামলায় পুলিশ তদন্তে থাকলেও তদন্তে আশা স্বরূপ কোন বার্তা দিতে পারেননি ভিক্টিম পরিবারকে। এদিকে হত্যাকারীরা এখনো মাদক স্পট চাঁনমারীতে আত্মগোপনে থেকে পরিচালনা করে মোটা অংকের টাকার উৎসের প্রভাবে নাসির হত্যা মামলা থেকে নিস্তারের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এখনো চাঁনমারীর মাদক নিয়ে প্রশাসনের তেমন মাথা ব্যাথা বা তৎপরতা নেই। যে কারণে নাসির হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়েছে। এতে করে আজ এই হত্যা মামলার বিচারের দাবিতে কঠোর আন্দোলনের পথে যাচ্ছে নিহতের পরিবার।
স্থানীয় সূত্র বলছে, গত( ১৪মে) দুপুর ১২:৪৫ মিনিটে নাসির হোসেন চা পান করে ডিস গ্রাহকেরকমপ্লোইন পেয়ে ‘ফ্রেন্ডস ক্যাবল’ অফিসে যান। পিছনে পিছনে নাসির হত্যার কিলার শরীফ এবং জুয়েল গিয়ে ক্যাবল অফিসের সামনেই ওত পেতে থাকেন। ক্যাবল অফিসে নাসিরের কর্মব্যস্ততাকে লক্ষ্য করে ক্যাবল অফিসে ডুকেই হত্যার উদ্দেশ্যে ছুড়ি এবং দেশীয় অস্ত্র বের করে গুরুতর জখম করে নাসির হত্যা নিশ্চিত করে সন্ত্রাসীরা দৌড়ে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে ১টার দিকে অফিসের ভেতর থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে যান। অফিসের ভেতরে তারা নাসিরকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
পরে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় নাসিরকে উদ্ধার করে শহরের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে ১৫মে শুক্রবার ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়- সেখানে শরিফকে প্রধান আসামী করা হয়। পর্যায়ক্রমে অন্যান্যদের আসামী করা হয় জুয়েল (২০), আরিফ (৩০), সজিব (৩৬), শান্ত (২৮), নাঈম (২৫), মজিদ (৪২), আব্দুস সাত্তার বাবু (৫২), আবির (২৪) ও রুমি (৩০) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এদিকে ভিক্টিম পরিবারের সহযোগীতায় প্রধান আসামী শরিফের চার ভাই সজিব,শান্ত,আরিফ ও নাঈমসহ ৪জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও পুলিশ।
প্রধান আসামী,শরীফসহ পরিকল্পনাকারী রুমি,বাবুসহ অন্যান্য আসামীদের করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এদিকে ৪জন আসামী গ্রেফতারের পর ২দিনের জন্য রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল। তারপরও নাসির হত্যা মামলার অগ্রগতি ফিরেনি। নাসির হত্যার প্রধান আসামীসহ অন্যান্য আসামীরা অধরা থাকায় এখনো চাঁনমারী এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। যার কারণে আজ নাসির হত্যা নিয়ে চাঁনমারী এলাকাবাসী আন্দোলনমুখী হতে যাচ্ছে।


