ভোগান্তি নগরবাসীর নিত্যসঙ্গী
প্রশাসক, এমপি, মেয়র, নেতারা বদলালেও বদলায় না শহরের সেই পুরোনো সমস্যাগুলো। এ যেমন এক নিত্যসঙ্গী হিসেবে পরিণত হয়েছে। যা নিয়ে পত্র-পত্রিকায় কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি হলে ও বছরের পর বছর ধরে যানজট, হকার, অবৈধ অটোরিক্সা, ছিনতাই, মাদক আর পরিবেশ দূষণের মতো সমস্যায় জর্জরিত এ শহর। প্রতিবার নতুন জনপ্রতিনিধি কিংবা প্রশাসনিক কর্তা দায়িত্ব নিয়ে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখছেন না নগরবাসী।
যা নিয়ে ক্ষোভ বাড়লে ও নগরবাসীর কথা শোনার কেউ নেই। তা হলে নিত্যদিনের মূল সমস্যা যানজট যা থেকে নগরবাসী এখনো পায়নি মুক্তি। এদিকে ৫ আগষ্টের পর পরিবর্তনের এক নতুন দৃষ্টান্ত আলোচনা থাকলে ও যা গত ২৩ মাসে হয়নি বাস্তবায়ন। একই সাথে ৫ মাস যাবৎ নতুন সরকার হলেও সেই পুরনো সমস্যায় ভাসছে নগরবাসী। তা ছাড়া হকার, অবৈধ স্ট্যান্ড, কাউন্টার ছাড়া বাসে যাত্রী নেওয়ার অনুমিতসহ এমন আরো একাধিক মাধ্যমে সমস্যাকে পুঁজি করেই চাঁদাবাজি দিব্বি চলমান।
ফুটপাত দখল করে বসেছে হকাররা। উচ্ছেদ অভিযান আর নানান সভা সমাবেশ করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। উল্টো কয়েকটি মিছিল আর উচ্ছেদ কর্মীদের মারধর করে ফের জায়গা দখল করে নিয়েছে হকাররা। ৫ আগস্টের পর থেকে ফুটপাতে এত বেশী হকার বেড়েছে যে পথচারীদের রাস্তায় নেমে চলাফেরা করা ছাড়া বিকল্প কোন উপায় নেই। সেই সাথে শহরের সড়কে নিয়ন্ত্রণহীন অটোরিক্সার দৌরাত্ম্য তো আছেই। যেগুলো উলটো পথে চলাচল এবং যত্রতত্র যাত্রী তুলে পুরো সড়ক চলাচলের অনুপযোগী করে তুলেছে। বলা যায় এই শহরে শৃঙ্খলা বলতে কিছুই নেই।
শুধু যানজটই নয়, ছিনতাই ও মাদকের বিস্তার নিয়েও উদ্বিগ্ন নগরবাসী। সন্ধ্যার পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সাধারণ মানুষ। রাতের আধারে এবং দিনের আলোতে উভয় সময়েই হচ্ছে প্রকাশ্যে ছিনতাই। কখন কখনও ছিনতাইকারীদের হাতে মারা যাচ্ছেন পথচারীরা। এনিয়ে দফায় দফায় অভিযোগ দেয়া হলেও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে মেলে কেবল আশ্বাস। তাদের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে অপরাধ কমছে না। এদিকে দফায় দফায় হামলার শিকার হচ্ছেন পুলিশ-প্রশাসন। এদিকে শিল্পাঞ্চলখ্যাত এ শহরে পরিবেশ দূষণও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
খাল-নদী দখল ও দূষণের পাশাপাশি বায়ুদূষণে অতিষ্ঠ নগরবাসী। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও তা স্থায়ী কোনো সমাধান আনতে পারেনি। আগের মতই শহরের বায়ু দূষণ রয়েছে ঝুঁকিপুর্ন মাত্রায়। শীতলক্ষ্যার দূষণ বন্ধের বদলে বাড়ছে। পানি দূষণে বাড়ছে নানান ব্যাধি। সেই সাথে মশাবাহিত রোগ তো আছেই। পুরো শহর এখন মানুষকে অসুস্থ বানানোর চেম্বারে পরিণত হয়েছে।
ভোটাররা থেকে যান পুরোনো ভোগান্তির বেড়াজালেই। আর বছরে বছরে নতুন ডিসি-এসপি যোগদান করেও নগরবাসীকে আশার বাণী শোনান। কিন্তু সেই আশা আর বাস্তবায়ন হয় না। তা ছাড়া বর্তমানে চাঁদাবাজি শহরে বিগত দিনের মতোই আলো ছড়াচ্ছে। যেখানে সমস্যা সেখানেই উঠছে মোটা অংকের চাঁদা সব মিলিয়ে চাঁদা ঠিক রাখতেই শহরের সমস্যা আবৃত্তি।


