শূন্য ম্যাজিস্ট্রেটে বন্ধ নাসিকের মোবাইল কোর্ট
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
শূন্য ম্যাজিস্ট্রেটে বন্ধ নাসিকের মোবাইল কোর্ট
এই মুহূর্তে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে (নাসিক) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নেই একজনও। কতদিন ধরে নেই? সেই প্রশ্নেরও নেই সুস্পষ্ট জবাব। তার চেয়েও বড় কথা, সরকারের কাছে বারবার চেয়েও পাওয়া যায়নি একজন ম্যাজিস্ট্রেট। সম্প্রতি অন্তত তিনবার সরকারের উচ্চ দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে নাসিক প্রশাসন। চাওয়া বেশি নয়; পুরো নাসিক এলাকায় অন্তত একজন ম্যাজিস্ট্রেট হলেও যেন দেওয়া হয়। সর্বশেষ চিঠিতেও চাওয়া হয় মাত্র দুজন। কিন্তু তাও মিলছে না।
এতে ভেঙে পড়েছে নাসিকের স্বাভাবিক কার্যক্রম। মশক নিধন, ফুটপাত উচ্ছেদ, খাদ্যে ভেজাল ও মাদকবিরোধী অভিযান, অবৈধ পার্কিং এবং ফিটনেসবিহীন যান নিয়ন্ত্রণের মতো নাগরিক সেবাগুলোয় ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত তদারকি। এমনকি ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় পরিচালিত হচ্ছে না ভ্রাম্যমাণ আদালতও।
পরিস্থিতির বিপাক দেখে ১ জুন তৃতীয়বারের মতো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে জনপ্রশাসন সচিবকে চিঠি লিখেছে নাসিক প্রশাসন। চিঠির পরতে পরতে ফুটে উঠেছে নাসিক প্রশাসনের অসহায়ত্বের ছাপ। যদিও সমস্যা জিইয়ে থাকা অবস্থায় দুই পদেই এসেছে ব্যক্তির পরিবর্তন। নতুন করে পুরনো চাওয়ার ক্ষেত্রে নাসিক প্রশাসক মো. সাখাওয়াত হোসেন খান আর ভারপ্রাপ্ত সচিবের চেয়ারে আছেন মো. নূর কুতুবুল আলম।
২০১১ সালে শুরু হয় নাসিকের যাত্রা। মূলত প্রশাসনিক দক্ষতা এবং নাগরিক সেবার মান বাড়াতে তিনটি আলাদা পৌরসভা নিয়ে গঠন হয় নাসিক। কিন্তু সেই সেবার মান এখনো ‘আশানুরূপ’ হয়নি সেটি স্বীকার করছে খোদ নাসিক প্রশাসন।
নির্মাণাধীন ভবন বা বাসাবাড়িতে জমে থাকা পানিতে জন্ম হচ্ছে এডিস মশার লার্ভা; কার্যক্রম নেই মশকনিধনে। রেলগেট ও বাস টার্মিনাল এলাকায় তীব্র যানজট; ব্যবস্থা নেই অবৈধ গাড়ি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে। চলছে ফিটনেসবিহীন বাস, অবৈধ ইজিবাইক; সুযোগ নেই ব্যবস্থা নেওয়ার। প্রধান সড়কের ফুটপাত হকারদের দখলে, ভবনের নির্মাণসামগ্রীও পথে; কেউ নেই দেখার। নামিদামি হোটেল, রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানের খাবার তৈরি হচ্ছে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে; তবু উপায় নেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার। প্রকাশ্যে মাদক ও জুয়ার আসর দেখেও যেন সরিয়ে নিতে হচ্ছে চোখ। মেয়রের গদিতে বসা প্রশাসকের ভাবনায় ফুটে উঠেছে এসব কথা।


