সড়কে নতুন ‘যমদূত’ উৎসব-বন্ধন-মৌমিতা
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে নারায়ণগঞ্জবাসীর অন্যতম গণপরিবহন হিসেবে উৎসব-বন্ধন হলেও এরমধ্যে ঢাকা-সাভার রুটের একটি বাস মৌমিতা চট করেই নারায়ণগঞ্জ শহরে প্রবেশ করে নারায়ণগঞ্জ সড়কের অন্যতম বিশৃঙ্খল একটি পরিবহন হয়ে স্বীকৃতি লাভ করে। মৌমিতার রুট পারমিট নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। রাজধানীর চানখারপুল এলাকায় মৌমিতা-ঠিকানা দুই বাসের মধ্যে চাপা পড়ে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
গতকাল বিকেল ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল নতুন ভবন ও চানখারপুলের মাঝামাঝি রাস্তায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জয়দেব (৪০) রয়েল ল্যাবরেটরিজ নামে একটি ওষুধ কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউটর ছিলেন। চানখাঁরপুল এলাকায় নারায়ণগঞ্জগামী মৌমিতা পরিবহনের একটি বাসে ওঠার চেষ্টা করছিলেন জয়দেব। এ সময় ঠিকানা পরিবহনের একটি বাস ওভারটেক করার সময় তাকে চাপা দেয়। পরে আহত অবস্থায় জয়দেবকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে মালিকপক্ষ এসকল স্টাফদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে আরও বেপড়োয়া করে তুলেছেন তাদের। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের বাসগুলোর দ্বারা একাধিক দুর্ঘটনায় একাধিক পথচারী যাত্রী নিহতও হয়েছেন বিভিন্ন সময় এর মূলে ছিলে বেপড়োয়া গতি। অপরদিকে উৎসব-বন্ধন মালিকপক্ষের বেপড়োয়া কর্মকান্ড চলে রাত হলেই নারায়ণগঞ্জ বাস টার্মিনালের আশে পাশের শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দখল করে সেইফ পার্কিং জোনে রূপান্তিত করেন। অপরদিকে মৌমিতা বাসগুলো নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে শুরু করে সাভার রুটে কখনো বেপড়োয়া কখনো ধীরগতি সড়কে মাঝখান বরাবর সড়ক বন্ধ করে যাত্রী উঠা নামা করে যানজটের সৃষ্টি করে।
এছাড়া নারায়ণগঞ্জের প্রাণকেন্দ্র চাষাড়ার যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে দাড়ায় এই মৌমিতা পরিবহন। কারণ চাষাড়ার সিগন্যালের সামনে রাস্তা বন্ধ করে যাত্রী উঠান মৌমিতা। যার কারণে নারায়ণগঞ্জে মৌমিতা বাস প্রবেশেরও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিল। এছাড়া মৌমিতার বেপড়োয়া গতির কারণে প্রতিনিয়ত নারায়ণগঞ্জে দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া মৌমিতার স্টাফরা প্রতিনিয়ত নারায়ণগঞ্জের শহরে প্রবেশ করতেই মেট্রোহল বাস স্ট্যান্ডে গিয়ে মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়েন। ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর দুপুরে জেলা পরিষদের সামনে একটি ইজিবাইকে বেপরোয়া গতিতে এসে উঠিয়ে দিলে একজনের মৃত্যু ঘটে। তখন উত্তেজিত জনতা মৌমিতা বাসকে আগুনে পুড়িয়ে দেন।


