না.গঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী
‘সুপার স্পেশালাইজড’ হাসপাতাল তৈরি করতে চায় সরকার
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
‘সুপার স্পেশালাইজড’ হাসপাতাল তৈরি করতে চায় সরকার
শ্রমিক অধ্যুষিত নারায়ণগঞ্জ জেলার মানুষের জন্য একটি মেডিকেল কলেজের চেয়ে বিশেষায়িত হাসপাতাল এখন বেশি প্রয়োজন। আর একারণে নারায়ণগঞ্জে একটি সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। গতকাল শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে নগরীর জামতলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ‘টিম খোরশেদ’-এর উদ্যোগে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় মানুষ। বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। “হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, ক্যানসার, লিভার ও কিডনির জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য মানুষকে ঢাকায় যেতে না হয়, সে জন্য নারায়ণগঞ্জে একটি সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল গড়ে তোলা প্রয়োজন। আমি প্রধানমন্ত্রীর সাথে জোরালোভাবে কথা বলবো, যাতে আগামী দুই-এক বছরের মধ্যে নারায়ণগঞ্জে অন্তত এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট একটি সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা যায়।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ডা. হায়দার বলেন, গত অর্থবছরে দেশের স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় শূন্য দশমিক ৬৭ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে এটি ৩ শতাংশ বা তারও বেশি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার জানান, আগামী কয়েক বছরে দেশে সাত থেকে আটটি সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে একটি হাসপাতালের কাজ শিগগিরই দৃশ্যমান হবে। পাশাপাশি চীনা সরকারের ঋণ সহায়তায় নীলফামারীতে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টিম খোরশেদের প্রধান সমন্বয়কারী মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।
টিম খোরশেদের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ জানান, শহরে বেসরকারিভাবে প্রায় ৫০টি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও বন্দর, সিদ্ধিরগঞ্জ বা ফতুল্লার মতো অঞ্চলের মানুষ এই সেবা থেকে বঞ্চিত। অনেকে টাকার অভাবে অ্যাম্বুলেন্স নিতে পারেন না বলেই এই ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করা হয়েছে এবং আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে ওই তিন অঞ্চলেও তিনটি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত করা হবে।
তিনি অনুষ্ঠানে কিছু জরুরি দাবি তুলে ধরে বলেন, রাস্তার পাশে পড়ে থাকা অজ্ঞাত রোগীদের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার সুবিধার্থে একটি আলাদা ওয়ার্ড রাখা প্রয়োজন।অজ্ঞাতদের মৃত্যুর পর দাফন সম্পন্ন করতে নানা জটিলতায় প্রায় ৪৮ ঘণ্টা সময় লেগে যায়, যা দ্রুত নিরসন করা দরকার।পাঠানটুলি কবরস্থানের মতো মাসদাইর কবরস্থানেও অজ্ঞাতদের দাফনের ব্যবস্থা করার জন্য তিনি নাসিক প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, মানবসেবা প্রত্যেক মানুষের পরম ধর্ম। আমাদের সবাইকে মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে। টিম খোরশেদের যেকোনো ভালো ও মানবিক কাজের পাশে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন সবসময় থাকবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে ধনী জেলা হওয়া সত্ত্বেও নারায়ণগঞ্জ স্বাস্থ্য ও অন্যান্য খাতে অবহেলিত। তিনি প্রধান অতিথির কাছে খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ভর্তির ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান, যাতে নারায়ণগঞ্জবাসী চিরকৃতজ্ঞ থাকে।
এছাড়া অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম ফয়েজ উদ্দিন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু, মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মাওলানা মাঈনুদ্দিন আহমাদ, যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি, বিকেএমইএর সহসভাপতি মোরশেদ সারোয়ার সোহেল, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন পন্টি, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এড. এইচএম আনোয়ার প্রধান, উইআর ভলেন্টিয়ারের পরিচালক আহমেদুর রহমান তনু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


