হকার নামধারীদের লাগাম টানার দাবি
# নাসিক কর্মীদের উপর হামলাকারীদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না : প্রশাসক সাখাওয়াত
# প্রশাসনকে ব্দ্ধৃাঙ্গুলি দেখিয়ে হামলা চালায় হকাররা : আব্দুল জব্বার
# আমি বেঁচে থাকতে হকাররা বসতে পারবে না: আবুল কাউসার আশা
# মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে : সদর থানা ওসি
নারায়ণগঞ্জের হকারদের বেপরোয়া আচরণ নতুন কোন ঘটনা নয়। বিভিন্ন সময়ে নানা ভাবে শহরেরর ফুটপাত রাস্তার অবৈধ দখলদার হকাররা সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালিয়ে নিজেদের আচরণ প্রকাশ করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় ৪ মে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কর্মচারীরা হকারদের উচ্ছেদ করতে গেলে তাদের উপর বেপরোয়া হয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালান। এতে করে কয়েকজন আহত হন। এই ঘটনায় ইতিমোধ্য নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগ হয়েছে।
যা মামলার জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর আগেও অবৈধ দখলদার হকার নামক সন্ত্রাসীরা নাসিক সাবেক মেয়র আইভীর উপর গুলি চালান। তখন গডফাদার শামীম ওসমান হকারদের পক্ষে থাকায় তারা পার পেয়ে যায়। কিন্তু এবার যেন হকররা পার না পান সে জন্য রাজনৈতিক বোদ্ধ মহল থেকে শুরু করে সকল নাগরিক সমাজ দাবী জানান এখনি তাদের লাগাম টেনে ধরতে হবে। এমনটি আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে কোন অবৈধ দখলদার কারো উপর হামলা করার সাহস না করতে পারে।
এদিকে নাগরিকদের দাবী তারা নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত দিয়ে অবাধে চলাচল করতে চান। তাদের সেই দাবী পুরন করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খান ১৩ এপ্রিল হকার উচ্ছেদ হওয়ার মাধ্যমে সেই দাবী পুরন করেন। কিন্তু হকারদের উচ্ছেদ করার পর থেকে তারা কখনো ডিসি বরাবর, আবার কখনো নাসিক প্রশাসক বরাবর, এমনকি কখনো রাস্তা অবরোধ করার মধ্য দিয়ে আন্দোলন করে যাচ্ছেন। আবার এর মাঝে অবৈধ ভাবে ফুটপাত রাস্তা দখল করার জন্য পায়তারা করে যাচ্ছেন। কিন্তু এতে করে তাদের কোন ফায়দা হচ্ছে না।
অপরদিকে সাবেক এমপি সেলিম ওসমান হকারদের নিয়ে অভিযোগ তুলে বলেছিলেন, শহরে হকার ব্যবসার আড়ালে অনেকেই মাদাক, ছিনতাই কারবারি করে বেরান। এমনকি তাদের অনেকেই ইভটিজিং সহ নানা অপরাধের সাথে জরিত রয়েছে। হকার দোকান বসা নিয়ে হত্যা করতে কর্ণপাত করেন এই হকার নামক সন্ত্রাসীরা। এছাড়া হকারদের শেল্টার দিয়ে একটি মহল ফায়দা নিয়ে থাকে।
সুত্রমতে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক স্খাাওয়াত হোসেন খান কঠোর ভাবে হকার দমনের ঘোষনা দিয়েছেন। এছাড়া এমপি আবুল কালামও হকাররা যেন ফুটপাতে বসতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসনকে। এমনকি নাগরিক সমাজ,নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী সমাজেরও দাবী শহরের মুল সড়কের ফুটপাতে হকার বসতে না পারে। কিন্তু হকাররা উচ্ছেদের ৩ সপ্তাহ না যেতেই আস্ফালন দেখিয়ে আবারও বসা শুরু করেছে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, আমাদের কর্মচারীদের অবৈধ দখলদার হকাররা যে নগ্ম হামলা চালিয়েছে তা মেনে নেয়া হবে না। হামলার ঘটনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতোমধ্যে মামলা করার জন্য থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে এসে কঠোর শাস্তির দাবী জানাই। তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। যারা সুবিধাভোগী ছিল, চাঁদাবাজি করতো টাকা উঠাতো তারা প্রকৃত হকার না। তারা মাঠে নেমেছে। যারা অবৈধ ভাবে বিদ্যুৎ চুরি করে দোকানগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে। তাদের ব্যাবসাও বন্ধ হয়ে গেছে। কিছু মাদকাসক্ত ও চোরাকারবারি, যারা বিভিন্ন মামলায় জেলে ছিল, তারা এই আন্দোলনে জড়িত হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল জব্বার বলেন, আমরা বার বার বলে আসছি হকারদের বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। দুঃখের বিষয় হচ্ছে প্রশাসনের নমনীয়তার সুযোগে হকাররা নাসিক উচ্ছেদ কর্মীদের উপর হামলায় চালিয়েছে। যা কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। উচ্ছেদ কর্মীদের প্রটেকশন দিতে না পারায় প্রশাসনকে ব্দ্ধৃাঙ্গুলি দেখিয়ে হামলা চালায় হকাররা। তাদের বেপারে কঠোর না হলে সামনে আরও পস্তাতে হতে পারে। তাই তাদের এখনি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাউসার আশা বলেন, আমি বেঁচে থাকতে ফুটপাতে কোনো হকার বসতে পারবে না। ফুটপাত থাকবে সম্পূর্ণ দখলমুক্ত।” তিনি বলেন যে, সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ সুগম করা এবং শহরের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। আমি শুরু থেকে বলে আসছি ফুটপাতে হকার বসতে পারবে না মানে বসতে পারবে না। হকার নামক যে সকল সন্ত্রাসীরা নাসিক কর্মীদের উপর হামলা করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদেরকে এখনি উচ্তি প্রশাসনের লাগাম টেনে ধরা।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মান্নান বলেন, হকারদের উপর হামলার বিষয়ে অভিযোগ নেয়া হয়েছে। যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।


