Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

নিতাইগঞ্জে অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ডে নয়া চাঁদাবাজ শহিদ-বাপ্পি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম

নিতাইগঞ্জে অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ডে নয়া চাঁদাবাজ শহিদ-বাপ্পি

নিতাইগঞ্জে অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ডে নয়া চাঁদাবাজ শহিদ-বাপ্পি

Swapno



নারায়ণগঞ্জ শহরের অন্যতম পাইকারি বাজার হচ্ছে নিতাইগঞ্জ। এই পাইকারি বাজারটি নারায়ণগঞ্জের শহরের দক্ষিণে অবস্থিত। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খাদ্যপণ্য বেশির ভাগই এই নিতাইগঞ্জ থেকে নেওয়া হতো। এক সময় এই পাইকারি বাজারটি জমজমাট থাকলেও এখন অনেকটা মৃত। বর্তমানে চাল, ডাল, গম, আটা, ময়দা, লবণ, চিনি, তেল ও ভূসামালসহ এই নয় রকমের পণ্য নিয়েই বেঁচে আছে এই পাইকারি বাজারটি। কিন্তু এই পাইকারি বাজারটি ধ্বংসের পেছনে রয়েছে ব্যবসায়ী সেন্ডিকেট এবং সড়ক ও নৌ-পথের চাঁদাবাজি।


বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মেইল ফ্যাক্টরি হওয়াতে, নিতাইগঞ্জে ব্যবসায়ী সেন্ডিকেট অনেকটা কমে গেলেও, চাঁদাবাজি কমেনি। দিন যত যাচ্ছে, চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট ততই বাড়ছে। বিভিন্ন সংগঠন ও দলের নাম বিক্রি করে  প্রতিদিন চলছে এই চাঁদাবাজি। কিন্তু এই চাঁদাবাজির বন্ধের কোন উদ্যোগ নেই সংস্লিষ্ট মহলের।


এদিকে সূত্রে জানা যায়, নিতাইগঞ্জে চাঁদাবাজির সবচেয়ে বড় উৎস হচ্ছে ট্রাক স্ট্যান্ড। বিগত সরকার আমলে এই ট্রাক স্ট্যান্ডে বিভিন্ন বড় ভাইদের নামে চাঁদা তোলা হতো। কিন্তু ২৪’এর গণঅভ্যুত্থানের পরে সেই বড় ভাইয়েরা পালিয়ে গেলেও এখনো বন্ধ হয়নি চাঁদাবাজি। নতুন করে আবারও বড় ভাইদের নামে তোলা হচ্ছে লক্ষ লক্ষ চাঁদা। বিএনপির নামধারী ও পদ বঞ্চিত কিছু নেতার নেতা তোলা হয় এই চাঁদা।


সরেজমিনে দেখা যায়, নিতাইগঞ্জ মোড় থেকে মন্ডলপাড়াপুল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সড়কের দু’পাশেই ট্রাকে লোড-আনলোড করা হয়। সড়কের চার ভাগের তিনভাগ থাকে ট্রাকের দখলে। অবৈধভাবে গড়ে উঠা এই ট্রাক স্ট্যান্ডে দিনের বেলা লোড আনলোডের কারণে শহরের তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এদিকে চাঁদাবাজদের ক্ষমতার দাপটে শহরের তীব্র যানজটের সৃষ্টি হলেও নিরব ভূমিকা পালন করছে প্রশাসক।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরী, কভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের নামে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা এই অবৈধ স্ট্যান্ড থেকে চাঁদা তোলা হয়। বিএনপির নামধারী ও পদবঞ্চিত নেতা হাসান আহম্মেদ এর নামে একাধীক হত্যা মামলার আসামী ও মাদক ব্যবসায়ী সাব্বির আহাম্মদ শহিদ ও শিকদার বাপ্পির নেতৃত্বে এ চাঁদা তোলা হয়। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, হাসান আহম্মেদ অসুস্থ, কিন্তু তাকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরী, কভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি করা হয়।


সেই কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক করা হয় মাদক ব্যবসায়ী সাব্বির আহাম্মদ শহিদকে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয় শিকদার বাপ্পিকে। বর্তমানে এই দুই নয়া চাঁদাবাজ শহিদ ও বাপ্পি তাদের নেতৃত্বে ট্রাক স্ট্যান্ডের প্রতিটি গাড়ি থেকে চাঁদা তোলা হয়। তাদের এই দ্ইু চাঁদাবাজের পেছনে রয়েছে সাবেক মহিলা কাউন্সিলর বিভা হাসান। বর্তমানে হাসান অসুস্থ থাকায় বিভার নেতৃত্বে ট্রাক স্ট্যান্ড পরিচালনা করে এই দুই চাঁদাবাজ।


জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের বাহির থেকে যে সকল ট্রাক ও কভার্ড ভ্যান আসে, টিটু ও শাহ আলমের নেতৃত্বে শ্রমিক ইউনিয়নের নামে বড় গাড়ি থেকে ৮০০টাকা ও ছোট গাড়ি থেকে ৫০০টাকা চাঁদা তোলা হয়। সেখানে প্রতিদিন ৫০-৭০টি গাড়িতে এই চাঁদা তোলা হয়। এছাড়াও ট্রান্সপোর্টের রিসিটের নামে প্রায় ৩০-৪০টি গাড়ি থেকে জুয়েল, মুন্না ও মোক্তার গাড়ি প্রতি ১৫০০-২০০০টাকা চাঁদা তোলে এবং রাতে স্ট্যান্ডে গাড়ি রাখলে ১০০-১৫০টাকা চাঁদা তোলে বাপ্পী। সেই চাঁদার টাকা শ্রমিক ইউনিয়নের নামে চাঁদাবাজ শহিদ ও বাপ্পির কাছে জমা করা হয়। সেই টাকা অংশ বিভা সহ বিএনপির নামধারী কয়েকজন নেতার পকেটে যায়।


এদিকে ট্রাক চালকরা বলছে, চাঁদা দেই কিন্তু আমাদের কোন উপকারে আসে না। সরকার পরিবর্তন হলেও দেশে চাঁদাবাজি বন্ধ হয় না। আমরা চাঁদা না দিলে আমাদের ট্রাক এখানে রাখতে দেয় না। কিন্তু আমাদের সেই শ্রমিক ইউনিয়নের নামে চাঁদা তোলা হয়। বড় ভাইয়েরা নেতাদের নামে চাঁদা তুলে। আওয়ামীল আমলেও চাঁদা দিছি এবং বিএনপি আমলেও চাঁদা দেই। প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০হাজার টাকা চাঁদা তোলা হয়। মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা। কিন্তু সেই টাকা যায় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পকেটে। আমরা চাঁদাবাজ মুক্ত ট্রাক স্ট্যান্ড চাই।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন