প্রখর রোদে তপ্ত না.গঞ্জ, গরমে নাকাল নগরবাসী
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রখর রোদে তপ্ত না.গঞ্জ, গরমে নাকাল নগরবাসী
বৈশাখের তপ্ত দুপুরে আগুনের হলকায় পুড়ছে প্রাচ্যের ডান্ডি খ্যাত নারায়ণগঞ্জ। শনিবার (২৫ এপ্রিল) জেলাজুড়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র তাপদাহ, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরম সংকটে ফেলেছে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী আজ নারায়ণগঞ্জের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড করা হলেও বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে তা অনুভূত হচ্ছে ৪০ ডিগ্রীর মতো। প্রখর রোদে পিচঢালা সড়ক থেকে শুরু করে লোকালয় পর্যন্ত সর্বত্রই আগুনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে।
সকাল গড়াতেই সূর্য যেন মাথার ওপর অগ্নিবৃষ্টি শুরু করেছে। তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষগুলো। রিকশাচালক, দিনমজুর ও হকারদের জীবিকার প্রয়োজনে বাইরে বের হতে হলেও তপ্ত রোদে বেশিক্ষণ টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। শহরের ব্যস্ততম চাষাঢ়া, মন্ডলপাড়া ও নিতাইগঞ্জ মোড়ে মানুষের চলাচল অন্য দিনের তুলনায় অনেক কম। জরুরি কাজ ছাড়া অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না, ফলে দুপুর গড়াতেই রাস্তাঘাট অনেকটা জনশূন্য হয়ে পড়ছে।
অসহনীয় এই আবহাওয়া নিয়ে চিকিৎসকরা সাধারণ মানুষকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। তীব্র গরমে হিটস্ট্রোক ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি, ওরস্যালাইন ও তরল খাবার গ্রহণের কথা বলছেন তারা। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের এই সময়ে সরাসরি রোদে বের না হওয়ার কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গরমের প্রভাবে হাসপাতালগুলোতে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিকেলের দিকেও বাতাসের তাপ কমছে না, বরং গুমোট ভ্যাপসা গরমে ঘরে-বাইরে কোথাও স্বস্তি মিলছে না। বিদ্যুতের লোডশেডিং এই চরম ভোগান্তিকে সাধারণ মানুষের জন্য আরও অসহনীয় করে তুলেছে। এক পশলা বৃষ্টির অপেক্ষায় প্রহর গুনছে পুরো জেলাবাসী, তবে আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে আপাতত বৃষ্টির কোনো সুখবর নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে যথাসম্ভব ছায়াযুক্ত স্থানে থাকার এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।


